প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকা দরকার গবেষণাগার।

বলা হয়ে থাকে, শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। যে জাতি যত শিক্ষিত সে জাতি তত উন্নত এবং এগিয়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি কাজে দেয় গবেষণা করা। গবেষণা আমাদের সমাজের উন্নতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি এবং মানুষের জীবনমানের উন্নতির জন্য অপরিহার্য।
এক একটি প্রতিষ্ঠান তার নিজস্ব উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। তবে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণা করার মাধ্যমেই একজন শিক্ষার্থী অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারে। যেমন- কোনো শিক্ষার্থী যদি বিদেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য যেতে চায় তাহলে তাড়াতাড়ি স্কলারশিপ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন গবেষণা করা। এছাড়াও দেশকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গবেষণা করার কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হচ্ছে- বাংলাদেশের সব প্রতিষ্ঠানে নেই গবেষণা করার সুযোগ। যেমন- ঢাবি অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজ সহ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা কলেজগুলো। গবেষণা নতুন নতুন উদ্ভাবন ও সৃষ্টির দরজা খুলে দেয়। প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, কৃষি, শিল্প এবং পরিবেশ প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই গবেষণা আমাদের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যদি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, তবে তা কেবল প্রতিষ্ঠানের উন্নতির জন্যই নয় বরং পুরো সমাজ ও দেশের উন্নতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণার মাধ্যমে আমরা নতুন সমাধান, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং মানবসম্পদের দক্ষতা বাড়াতে পারি। একজন শিক্ষার্থী অনার্সে ভর্তি হন ভালো মানের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্য। আর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা গ্রহণ করার সুযোগ থাকে অনার্স থেকেই।
এবছর দেখা গেছে সবচেয়ে বেশি গবেষণা পত্র প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫৪১ টি। এরপর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি ১০৭৩ টি, বুয়েট ৮৯৯ টি, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৬৬০ টি, ব্রাক ইউনিভার্সিটি ৬৫৬ টি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ৬২৩ টি, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ৫৮৮ টি, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ৫৫১ টি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ৫৪৪ টি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ৫৪৩ টি। এখানে দেখা যায়- বাংলাদেশের কোনো কলেজ থেকে এবছর গবেষণা পত্র প্রকাশ করতে পারে নাই। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো- এর দায়ভার কে বা কারা নিবে? এখানে কি শিক্ষার্থীর দোষ? নাকি গবেষণা করার জন্য কোনো সুযোগ ই পায় নি? এদিকে দেখা যায় যে- গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত তহবিল, সুযোগ এবং পরিবেশ থাকা প্রয়োজন। গবেষণায় উৎসাহিত করতে হলে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। একমাত্র তাহলে সব প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। গবেষণা একটি সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া। যা সময়,সম্পদ এবং সঠিক দিক নির্দেশনার দাবি করে। এজন্য একটি সুসংগঠিত গবেষণার নীতি ও কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক। এছাড়াও যদি সরকারের পক্ষ থেকে সব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা করার সুযোগ না দিতে পারে তাহলে অন্তত দেশের ভালো মানের প্রথম সারির বড় বড় কলেজগুলোতে গবেষণা করার জন্য সুযোগ দেওয়া। তাহলে আশা করা যায়- দেশ আরও এগিয়ে যাবে এক অনন্য উচ্চতায়। এজন্য আমাদের সমাজ ও দেশের জন্য একযোগ হয়ে কাজ করতে হবে। যাতে গবেষণার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে উপযুক্ত সুযোগ নিশ্চিত করা যায়। গবেষণার মাধ্যমে আমরা শুধু নতুন আবিষ্কারই নয়, বরং একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি গঠন করতে পারব। যা ভবিষ্যতে আমাদের প্রজন্মের জন্য একটি উজ্জ্বল পৃথিবী তৈরি করবে।

Comments
No comments
Add a comment: