অটোরিকশা: নগরজীবনের প্রয়োজন নাকি নতুন সংকট?

দেশের শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। একসময় সহজ যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত এই যানবাহন এখন অনেক ক্ষেত্রেই জনদুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট, সড়ক দুর্ঘটনা এবং বিদ্যুতের উপর অতিরিক্ত চাপ—সব মিলিয়ে অটোরিকশা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রথমত, যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে দায়ী করছেন অনেকেই। সড়কে অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, ট্রাফিক নিয়ম না মানা এবং অতিরিক্ত সংখ্যক অটোরিকশার কারণে প্রতিনিয়তই দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
দ্বিতীয়ত, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে আশঙ্কাজনকভাবে। অনেক চালক পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই অটোরিকশা চালাচ্ছেন, যার ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা লেগেই থাকছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও রয়েছে গুরুতর শঙ্কা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিদ্যুৎ সংকট। সরকার যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে হাজার হাজার অটোরিকশা প্রতিদিন চার্জ নিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে। প্রশ্ন উঠছে—এই বিপুল বিদ্যুৎ ব্যবহার কি লোডশেডিংয়ের অন্যতম কারণ নয়?

এই বাস্তবতায় দেশ, সমাজ ও সাধারণ মানুষের স্বার্থে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ধীরে ধীরে বন্ধ করার দাবি উঠছে। তবে এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্যাডেলচালিত রিকশা বন্ধের কোনো প্রশ্নই ওঠে না। বরং এই পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী যানবাহনকে সংরক্ষণ ও উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় সড়ক ও মহাসড়ক থেকে অটোরিকশা চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং বিকল্প হিসেবে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব যানবাহন চালু করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ কমাতে এই খাতে দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখন আর শুধু একটি যানবাহন নয়, এটি একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এখনই সময় কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।

Comments
No comments
Add a comment: