১৭ বছর পর নির্বাচন- কোন দল কতটুকু এগিয়ে?

আবদুল্লাহ আল সিয়ামের কলাম
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রচার প্রচারণা অফিশিয়ালি শেষ আরো একদিন আগেই। আর কয়েক ঘন্টার মধ্যে ইলেকশন, তাও ১৭ বছর পর এতো স্বতঃস্ফূর্ত আর উৎসবমুখর পরিবেশে! শেষ সময় এসে একটু নির্বাচনী সমাচার দিয়ে যাই, সাথে হালকা আলোচনা-সমালোচনা। বাকস্বাধীনতার সুব্যবহারটা করে যাই এই সরকারের শেষদিনে!

◑ প্রথমেই এনসিপি দিয়ে শুরু করি, যেহেতু আলোচিত দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নবাগত দল এটি।

এনসিপিতে নিজের নির্বাচনী এলাকায় সবথেকে শক্ত অবস্থান সবার আগে কে করেছে জানেন? না সেটা নাহিদ, হাসনাত কিংবা আখতার ভাইরা। সেটা হলো আব্দুল হান্নান মাসুদ। এনসিপির নেতাদের নিয়ে অন্যতম যে অভিযোগ, তারা বেশিরভাগ সময়টাই ঢাকাভিত্তিক রাজনীতি করেছে নিজ এলাকায় না গিয়ে। অথচ হাতিয়ায় গিয়ে মার খেয়েও সেখানের উন্নয়নে হান্নান মাসুদ কাজ করেছে। তাকে যতই বন্দর মাসুদ ট্যাগ দেয়া হোক, আমার পরিচিত এই আসনের বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে হাতিয়ায় তার অবদানের ফিরিস্তি শুনেছি। আর এখানকার বিএনপিও সংঘবদ্ধ নয়, বিদ্রোহী প্রার্থী আছে যার কারণে তাদের ভোটব্যাংক অনেক কমে গিয়েছে। তাই নোয়াখালী-৬ হান্নান মাসুদের।

কুমিল্লা-৪ নিয়ে কি বলবো। মন্জুরুল মুন্সি অহংকার বড়াইয়ের তোপ দেখিয়ে সীমালঙ্ঘনের ফল হিসেবে পেয়েছে নমিনেশন বাতিল, এরপর দল থেকে বহিষ্কৃত হয়ে। জসীমের ট্রাকের পক্ষে প্রচারণা শুরু করতে অনেকটা দেরি হয়ে গেছে জোট এর। অন্যদিকে হাসনাত আবদুল্লাহর মতো সাহসী ব্যক্তিত্ব সংসদে খুব বেশি দরকার। সবমিলিয়ে কুমিল্লা-৪ হাসনাত আবদুল্লাহ এর।

নাহিদ ইসলাম এর ঢাকা-১১ তে এম.এ.কাইয়ুমের সাথে ভোটের লড়াই জমবে। পাটোয়ারী ঢাকা-৮ এ যা করলো, অল্প কিছুদিনের মধ্যেই ইলেকশনের সব ফুটেজ নিজের দিকে টেনে নিলো, জেনজির জন্য বিনোদনের উপকরণ এনে দিলো, সেটার জন্য সে সবার থেকে আলাদা। মির্জা আব্বাসের মতো লোকের সাথে ভোটে ফাইট দিবে ব্যাপারটা ভাবতেও পারিনি কয়েকদিন আগেও! এই নির্বাচনে হারলেও উচ্চকক্ষে তাকে নিতে পারে দল।

এনসিপি থেকে আমার যে মানুষটাকে সবথেকে বেশি সংসদে দেখার ইচ্ছে, সে হলো আখতার ভাই। রংপুর-৪ থেকে তার মতো মানুষের জিতে আসাটা খুব দরকার। কিন্তু শুরু থেকে তার প্রচারণা খুব কম চোখে পড়েছে অন্যদের তুলনায়, এটা দূঃখজনক।

এছাড়া সারজিস, সারোয়ার তুষার সহ এনসিপির বাকিদের নিয়ে কোনো প্রেডিকশন দিতে চাইনা। এনসিপির সবথেকে সমালোচনামূলক দিক হলো তার বেশ কয়েকজন নেতাই দূ্র্নীতি আর সুবিধাবাদী রাজনীতিতে নিজেদের জড়িয়ে 'জুলাইয়ের অনুপ্রেরণা'য় দাগ লাগিয়েছে। একটা কথা দিয়েই এনসিপির আলাপ শেষ করবো, তাদের প্রারম্ভিক রাজনীতির চালে তারা অনেককিছুতেই ভুল করে বসেছিলো যার মাশুলস্বরূপ জোটের অংশ হতে হয়েছে। যেই পদক্ষেপ তাদের স্বাতন্ত্র্য পরিচয়ে বড় আঘাত হেনেছে!

◑ সংসদীয় রাজনীতিতে "তৃতীয় দল" টার্মটা অনেকক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এই টার্মটার জন্য এনসিপির মধ্যে চব্বিশ পরবর্তী নির্বাচনে শক্ত একটা বিরোধী দল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা ছিলো, কিন্তু তারা সেটা হতে পারেনি এবং শেষে জোটসঙ্গী হয়েছে। অন্যদিকে এবারে শেষ সময় এসে জোট থেকে বের হয়ে খেলা দেখিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এনসিপি থেকে আসন বেশি পাবে কিনা সেই বিষয়ে অনেক সন্দেহ থাকলেও তারা যে এতো আসনে হাতপাখার প্রার্থী দিয়েছে তার সুফল পাবে উচ্চকক্ষের পিআর সিস্টেমে আর সামনের ইলেকশনে।

তাদের বিরুদ্ধে সবথেকে অভিযোগটার কথাও বলি, তারা চরমোনাইর মুরিদ আর তাদের ভোটব্যাংককে সমান ভাবে, যার কারণে প্রচার-প্রচারণায় অনেকটা হালছাড়া ভাব থাকে। যেই ভাবনাটা আসলে এই দলের জন্য আত্মঘাতী, তাদের প্রপার প্রচার-প্রচারণা করলে বেশ কয়েকটি আসনে জিতে আসতে পারতো। আর একটা কথা হলো, তারা জামায়াতের সাথে জোট হওয়ার সম্ভাবনা থাকার পর সরে আসায় তাদের ও জামায়াতের পটেনশিয়াল ভোটব্যাংক ভাগ হয়ে গিয়েছে। যার সুফল অনেকাংশে বিএনপিই পাবে।

বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে ফয়জুল করিম সাহেব দাঁড়িয়েছেন। অন্তত একটা আসন তার জিতে আসা দরকার। বরগুনা-১ সহ দক্ষিণাঞ্চলের বেশ কয়েকটি আসনে তাদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। সেখান থেকে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মাঝে কয়েকটা আসনে জিতে আসতে পারলে অবাক হবো না। ঢাকায় তাদের সবথেকে ভালো অবস্থান ঢাকা-৫ আসনে হাজী ইব্রাহীম। অন্য দলীয় প্রার্থীদের প্রতি মানুষের কনফিউশন আর হাতপাখার প্রার্থীর পূর্বের কাউন্সিলর থাকাকালীন অভিজ্ঞতা তাকে এখানে একটা শক্ত গ্রাউন্ড দিয়েছে।

অন্য ইসলামি দলগুলোর বিরুদ্ধে সুশীল সমাজের বা সচেতন মুসলিম সমাজের যেসব অভিযোগ রয়েছে, অর্থাৎ ধর্মের নামে দ্বিমুখীতা কিংবা নিজেদের ভিশন নিয়ে ক্লিয়ার বক্তব্য না দেয়া, কনফিডেন্টলি নিজের আইডোলজি জনগণের সামনে তুলে ধরতে না পারা এসব ব্যর্থতা যেখানে অন্যান্য ইসলামী দলের মধ্যে স্পষ্ট, সেগুলো তিনি বা তাঁর দল অনেক ভালোই উতরে গিয়েছেন। জুলাইয়ে তাঁর এবং তাঁর দলের অবদান বা তার রিসেন্ট কিছু কাজকর্ম আশা জাগানিয়া ছিলো। যার মধ্যে অন্যতম, নারীশিক্ষা নিয়ে তার পূর্ববর্তী বিভিন্ন পদক্ষেপ, তারপর কিছুদিন আগে জেন-জি দের নিয়ে একটা মিটিং করলেন বরিশালে, শরিয়াহ আইন নিয়ে সরাসরি বক্তব্য এই স্ট্রেইট ফরওয়ার্ড কাজগুলো অন্যান্য ইসলামিক দল থেকে তাদের সাধারণভাবেই আলাদা করে। অন্ততপক্ষে সংসদে দাঁড়িয়ে সরকার দলীয় লোকদের প্রভাব খাটানো কিংবা ইসলামী দলগুলোর দ্বিমুখীতার বিরুদ্ধে স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড গঠনমূলক সমালোচনা করার জন্য তাঁকে প্রয়োজন!

জোট থেকে বেরিয়ে আসার পর তাদের উপর তৎকালীন সঙ্গী দলগুলোর সমর্থকদের নানারকম নোংরা কমেন্টগুলো সত্যিই খারাপ লাগে। এই দ্বিচারিতা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে কখনোই এদেশে একজোট হয়ে ইসলামী শাসন কায়েম করা সম্ভব না।

◑ গণঅধিকার পরিষদ, দেশের রাজনীতিতে একটা আফসোসের নাম। নূরুল হক নূর এর অপরিণামদর্শী নেতৃত্ব এই দলের এই অবস্থার কারণ। কোটা আন্দোলনের শুরুটা যার হাত ধরে, তার দলের এখন খাপছাড়া অবস্থা। বেচারা দুইটা আসনে কনফার্ম হতে জোটে গেলো কিন্তু সেখানেও নিজের আসনেই হাসান মামুনের মতো বিদ্রোহী প্রার্থীর তার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান আর অন্যটিতে নিজ প্রতীক দিয়ে জিতে আসার কনফিডেন্স না পেয়ে জোটের মূল দলের প্রতীকে শিফট হতে হলো। তারপরও আশা রাখি পটুয়াখালী-৩ এ নূর আর ঝিনাইদহ-৪ এ রাশেদ খান জিতে আসতে পারবেন। কুমিল্লা-৪ এ বিএনপি প্রার্থী না থাকা ট্রাকের জসিম কিছুটা ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে বটে তবে সেটা হাসনাতের বিরুদ্ধে জিতে আসার মতো না, কিন্তু সেটা উচ্চকক্ষের পিআর সিস্টেমে কাজে আসবে। আরেকটা বিষয় হলো নূর যেটা করেছে, সেটা হলো সারাদেশে বহু আসনে তার দলের নমিনেশন দিয়ে রেখেছে, তারা কতটুকু ভোট পাবে তা জানি না, বেশিরভাগেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

বিএনপি জোটের আরেক দল জমিয়াতে-ইসলাম চারটি আসনের কমপক্ষে দুইটির উপরে জিতে আসার সম্ভাবনা আছে। তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

◑ এরপর আসি জামায়াতে ইসলামি আর খেলাফত মজলিসের আলোচনায়। তাদের বিরুদ্ধে বেশ কিছু অভিযোগ থাকলেও সেগুলো নিয়ে আজ আর বিষদ আলোচনায় যাবো না। শুধু জোট রাজনীতিতে তাদের বিরুদ্ধে যেই অভিযোগ সেটা নিয়ে বলি। তাদের সমর্থকরা জোটের অন্যান্য দলগুলোকে সেভাবে সাপোর্ট দেয় না। এই অভিযোগে বটগাছ মার্কার খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে আসলো। ওইদিন দেখলাম এনসিপির সারোয়ার তুষারকে জামায়তের এক সমর্থক বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে গেলো। পটুয়াখালী-১ এ এবি পার্টির প্রার্থীকে সাপোর্ট না দিয়ে খেলাফত মজলিসের সমর্থকরা নাকি হাতপাখাকে সমর্থন দেয় শুনলাম! এসব অভিযোগ তাদের জোটের নাম "ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ" এর বড় অন্তরায়। ইসলামি আন্দোলন বেরিয়ে আসায় তাদের জোটের ভোটব্যাংক এমনিতেই ভাগ হয়ে গিয়েছে।

আমার মতে, জামায়াতের রাজনৈতিক প্রচারণায় তুরষ্কের এরদোয়ানের ছাপ রেখে চলেছে। কিন্তু তুরস্কের খেলাফত-পরবর্তী সময়ের মতো এত খারাপ অবস্থা এদেশে এখনো হয়নি সেটাও মাথায় রাখতে হবে। তুরস্কে সেসময়ে আরবিতে আযান দেয়া যেতো না, হিজাব নিষিদ্ধ ছিলো। সেই পরিস্থিতি থেকে ফিরিয়ে আনতে এরদোয়ান তথাকথিত সুশীলদের খুশি রেখে ক্ষমতায় এসে তারপর ইসলামি নিয়মকানুন গুলো ফিরিয়ে আনতে সচেষ্ট হয়। কিন্তু জামায়াত যেহেতু নামের সাথেই ইসলামের সংযোগ রেখে আগাচ্ছে, সেক্ষেত্রে তাদের আইডোলজিতে ইসলামি প্রেক্ষাপটের বিষয়গুলোতে শক্ত অবস্থান নেয়া দরকার ছিলো। কিছু ক্ষেত্রে দ্বিমুখী আচরণ স্পষ্ট হয়ে যায়। এটা সত্যিই দূঃখজনক। এছাড়া তাদের সমর্থকদের অন্যান্য দলগুলোর উপর ভার্বাল আক্রমণাত্মক কথাবার্তা ভোটব্যাংক হারানোর আরেকটা কারণ। কিন্তু ইসলামের নাম নিয়ে ভোটের প্রচারণা গ্রাম এলাকাগুলোতে দারুণভাবে কাজে এসেছে বলাই যায়। "বিএনপি, আওয়ামী লীগরে তো অনেক দেখলেন, এবার একবার দাঁড়িপাল্লায় দিয়ে দেখেন কি হয়" আজ পর্যন্ত কতজনের কাছে যে এরকম কথা শুনেছি তার হিসাব নাই! কয়েকজন তো বলতে বলতে হাইপারও হয়ে যেতে দেখেছি।

তারপরও জামায়াতের একটা শক্ত ভোটব্যাংক ক্রিয়েট হয়েছে তাদের বেশ কিছু স্ট্র্যাটেজিক প্রচারণার কারণে। এই যেমন ঢাকায় আমার আসনে যিনি প্রার্থী তাকে আমি চিনতামই না, কিন্তু তাদের প্রচারণার ধরণ আর ধারাবাহিক স্ট্র্যাটেজির কারণে প্রার্থীর নাম মুখস্থ হয়ে গিয়েছে এমন অবস্থা! এর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহারণ হবে পটুয়াখালী-২ আসনের শফিকুল ইসলাম মাসুদের কথা বললে। তার এখানে সেই লেভেলের প্রচারণা হয়েছে বললেও ভুল হবে না, এছাড়া ভিপি সাদিক কায়েম কিংবা আমির সবাই এসে ওনার প্রচার চালিয়ে গেছেন, এই আসনে সে জিতে আসতে পারে। এছাড়া তাদের কিছু আসনে আগে থেকেই শক্ত অবস্থান রয়েছে পারিবারিক ঐতিহ্য কিংবা বিপুল সমর্থকদের কারণে। তাদের নারী ভোটারদের একটা আধিক্য আছে দেশব্যাপী বেশ কয়েকটা আসনেই, এটাও ব্যবধান তৈরি করতে পারে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, পিরোজপুর এই তিন জেলার বেশ কয়েকটি আসনে জামায়াতের বিশাল ভোটব্যাংক আছে। এখান থেকে অনেকগুলো আসন জিতে আসবে তারা। যার মধ্যে সবচেয়ে শক্ত অবস্থান পিরোজপুর-১ এ দেলোয়ার সাঈদীর ছেলে শামীম সাঈদীর। এছাড়া সাতক্ষীরার চারটি আসনের মধ্যে কমপক্ষে দুইটা বা তার বেশিও জিতে আসতে পারে। এরমধ্যে সাতক্ষীরা-২ এ মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক আর সাতক্ষীরা-৪ এ মাওলানা আবদুল বারী এর নাম বেশি শুনেছি। খুলনা-৫ এ দলের সেক্রেটারি মিয়া গোলাম পরওয়ার এর জয় আশা করা যায়। খুলনা-৬ এ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ ভোটের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে পারে। দলের আমির ডাঃ শফিক সাহেব ঢাকা-১৫ তে একেবারে সহজে জিতে আসতে পারবেন না। মিল্টনের সাথে ভালোই ফাইট হবে বোঝা যাচ্ছে।

Advertisement
দেশের প্রধান দুই জেলা, ঢাকা ও চট্টগ্রামের আসনগুলো ১১ দলীয় জোটের জন্য ভোটলড়াইয়ে খুব কঠিন জায়গা। এগুলোতে বিএনপি থেকে অনেক পিছিয়ে তারা। এখানে মেজরিটিই বিএনপির জোট পাবে।
গতকাল থেকেই জামাতের উপর মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে দেখতে পাচ্ছি। আওয়ামীপন্থীদের সাথে সখ্যতা, টাকা-অস্ত্র সহ বিভিন্ন জিনিস ধরা পড়ছে তাদের শেষ সময় এসে। আরেকটা জিনিস তাদের সমর্থকদের মধ্যে একটা খারাপ প্রবণতা রয়েছে নিজেদের ভুল স্বীকার না করার। এগুলো সবমিলিয়ে তাদের ভোটব্যাংকের উপরেই প্রভাব ফেলবে। শেষদিনে এসে তাদের থিম সংয়ের মতোই ব্যাপারটা হয়ে গেছে, "খেলা যে চলছে কোন লেভেলে!"

◑ ঢাকা-১৩ তে রিকশা মার্কার খেলাফতে মজলিস দলপ্রধান মামুনুল হক সাহেবের মতো লোককে সংসদে দরকার। কিছুদিন আগে আফগানিস্তানের সাথে ট্যাক্স-ফ্রি কটন আমদানীর ডিলে তার অবদান ছিলো বলে শুনেছি আর তাছাড়া ইসলামী জ্ঞানের পাশাপাশি অর্থনীতিতে ডিগ্রি, এরকম মানুষ এদেশে অনেক রেয়ার। তার মতো অভিজ্ঞ মানুষকে সংসদ ডিজার্ভ করে। কিন্তু আরেকদিকে, এই আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজ এর মতো লোককেও সংসদে খুব দরকার। মোহাম্মদপুর এর মতো এলাকায় তার যোগ্যতা, পরিকল্পনার সুপ্রয়োগ অনেক প্রয়োজন। তার একটা সমৃদ্ধ এডুকেশনাল গ্রাউন্ড রয়েছে, এছাড়া একটা এলিট পরিবারের সদস্য হয়েও যেভাবে মানুষের সাথে মিশে গেছেন, আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন সেটা অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য। এরকম দুই যোগ্য প্রার্থীর মাঝে কাকে এই আসনের মানুষ নির্বাচিত করবে সেটাই দেখার বিষয়।

এরকম আরেক যোগ্য প্রার্থীর ভিড় ঢাকা-৯ এ। এই আসনকে সুস্থ রাজনীতির রোল মডেল বললেও ভুল হবে না। একদিকে হাবিবুর রশিদ হাবিবের মতো এতো ভালো লোক ধানের শীষের প্রার্থী, অন্যদিকে তাসনীম জারার মতো এতো যোগ্যতাসম্পন্ন স্বতন্ত্র প্রার্থী। হাবিব ভাইয়ের জারার প্রতি ছোটবোনের মতো সম্মান রেখে বলা কথাগুলো রাজনীতির এক সুন্দরতম দৃষ্টান্ত। এই আসনের জনগণ আসলেই অনেক লাকী, একটা উইন-উইন সিচুয়েশন তাদের। তবে আমার কাছে আফসোসের বিষয় হচ্ছে এমন মানুষ দুইজনকেই দরকার ছিলো সংসদে। দেখা যাক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর এই আসনের জনগণ কাকে তাদের প্রতিনিধি বানায়। তবে আমার মতে হাবিব ভাই এগিয়ে।

একদিকে এসব আসনের জনগণ যেমন যোগ্য প্রার্থীর ভিড়ে কনফিউজড কাকে ভোট দিবে, অন্যদিকে কয়েকটা আসনে তরুণ ভোটাররা ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হচ্ছে পছন্দমতো প্রার্থী না থাকায় বা প্রার্থীদের কর্মকাণ্ডে অনাস্থা বা দ্বিধাদ্বন্দ্বে! এরা বলতে গেলে আনলাকিই এক দিক দিয়ে। যেমন ঢাকা-৫; এ আসনের আমাকে বেশ কয়েকজন নতুন ভোটারই বলেছে তারা ভোট দিবে না, বা দিলেও শুধু গণভোটে হ্যাঁ দিয়ে চলে আসবে। সেক্ষেত্রে এ আসনে তরুণ ভোটারদের ভোট সবচেয়ে কম পড়লেও অবাক হবো না!

◑ বিএনপির কথা বলতে গেলে তাদের নির্বাচনী প্রচারণার মাস্টারস্ট্রোক ছিলো ফ্যামিলি কার্ড। এ বিষয়টা গ্রামাঞ্চলে পরিবার ও নারীদের ক্ষেত্রে দারুণ কাজ করেছে ভোটের আস্থা পেতে। এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে মিম বানানো কিংবা হাস্যরস করেছে বটে কিন্তু গঠনমূলক কোনো কাউন্টারই প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো দল দিতে পারেনি।

আসন নিয়ে কথা বলতে গেলে বগুড়া-৬ আর ঢাকা-১৭ এ দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান এর পর সবচেয়ে সহজভাবে কেউ জিতে আসলে সেটা হবেন পটুয়াখালী-১ এর আলতাফ হোসেন চৌধুরী। তার প্রতি এই এলাকার মানুষের সম্মান, ভালোবাসার ধরণটাই অন্যরকম! আর তার স্ট্রেইট-ফরওয়ার্ড কথাবার্তা, দূর্নীতিবিরোধী কর্মকান্ডের প্রশংসা আগেই আমি আমার টাইমলাইনে এক পোস্টে করেছি। আরেকটা জিনিস এড করি, তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে খুব সোচ্চার একজন মানুষ। তিনি সংসদে বা মন্ত্রণালয়ে আসলে আধিপত্যবাদ বিরোধী কর্মকাণ্ডে সাপোর্ট করবেন এই আশা করি। এক্ষেত্রে আরেকটা নাম নিবো, হাবিবুর রশিদ হাবিব ভাই, ওনার রিসেন্ট একটা পডকাস্টে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান দেখেছি যা সচরাচর অন্যদের চোখে পড়ে না।

একইসাথে এই বিষয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর যেমন জুলাই জেনারেশনের কাছে জনপ্রিয়, ঠিক তেমনি উনিও তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। জিনিসটা খুব ভালোলাগার। এইতো সেদিন বললেন, "নির্বাচন আসবে, নির্বাচন যাবে- আমরা কেউ যেন জুলাইয়ের বিপ্লবীদের সাথে বেঈমানি না করি, তারা ১৬ বছরের জালেমের সাথে জীবন দিয়ে লড়াই করে আমাদেরকে মুক্ত করেছে"। নেত্রকোণা-৪ থেকে তিনি জিতে আসবেন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এই মানুষগুলোর সচেষ্ট কার্যক্রম খুব প্রয়োজন।

অন্যদিকে লক্ষ্মীপুর-৪, হাতিয়ার একেবারে পার্শ্ববর্তী আসনের এমপি ক্যান্ডিডেট আশরাফ উদ্দিন। জুলাইকে হৃদয় থেকে ধারণ করেন, তার বক্তব্য শুনলে বুঝবেন এর পরিমাণ কতটা। তিনি সত্য প্রকাশে দ্বিধা করেন না। তার মতো লোক জিতে আসলে দেশের জন্যই মঙ্গলকর হবে। ভোলা-১ থেকে পারিবারিক ঐতিহ্য বহনকারী আর ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কন্ঠস্বর আন্দালিব পার্থ জিতে আসবেন। ভোলা-৩ এ মেজর হাফিজের কথাবার্তা আমার খুব পছন্দের, দেশের স্বার্থ উনি খুব ভালো বুঝেন। তিনি জিতে আসবেন আশা করি।

ঠাকুরগাঁও-১ এ দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল, কক্সবাজার-১ এ সালাউদ্দিন আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-৩ এ শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির জনপ্রিয়তা অন্য লেভেলের! তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যে জিতে আসবেন তাদের আসনে। ঢাকা-৬ এ ইশরাক আর চট্টগ্রাম-৭ এ হুম্মাম কাদের চৌধুরীর পিতৃপরিচয়ই যথেষ্ট জিতে আসতে। চট্টগ্রাম-৬ থেকে গিয়াস কাদের জিতবেন আশা করা যায়। ঢাকা-১৬ থেকে বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা গোলকিপার আমিনুল ইসলাম এর জিতে আসা এই দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য জরুরি এবং তিনি জিতবেন আশা করি। চাঁদপুর-১ থেকে এহসানুল হক মিলন জিতবেন, দেশের ভঙুর শিক্ষাব্যবস্থায় তার মতো অভিজ্ঞ লোক প্রয়োজন আছে। ঢাকা ২,৩,৪ এ যথাক্রমে আমান, গয়েশ্বর, রবিন ওনারা এগিয়ে থাকবে বোঝা যাচ্ছে। এছাড়া ফেনী আর বগুড়া তো বিএনপির ঘাঁটি, এখানের বেশিরভাগ আসনই জিতে আসবে। কিশোরগঞ্জ-৪ আর মেহেরপুর-১ এও বিএনপি এগিয়ে আছে।

বিএনপি জোটের বেশ কয়েকটা আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে ভোটব্যাংক ভাগ হয়ে গিয়েছে। যার ফায়দা অন্য দলগুলোর কিঞ্চিৎ হলেও আল্টিমেটলি বেশিরভাগেই বিএনপি প্রার্থী বা বিদ্রোহীর মাঝেই কেউ জিতবে। ঢাকা-১, পটুয়াখালী-৩, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ঢাকা-১২ যার মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে অন্যতম। প্রথম দুটোয় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এগিয়ে থাকলেও পরের দুটোয় আপাতদৃষ্টিতে বিদ্রোহী এগিয়ে!

বিএনপির প্রতি মানুষের সবচেয়ে বড় অভিযোগ নির্বাচনের আগেই তাদের কর্মীদের দখলবাজি বা অহংকার, দাম্ভিক আচরণের। দলের এসব কন্ট্রোল হারানো কর্মীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের পর সরকার গঠন করলে শক্ত অবস্থান নিতে হবে কেন্দ্রীয় কমিটির। নাহলে এই পানি বেশিদূর গড়ালে বিএনপির উপরেই জনগণের বিরূপ প্রভাব পড়লে যেকোনো কিছুই হতে পারে! এক্ষেত্রে এসব কর্মীদের জন্য বড় শিক্ষার জায়গাটা মন্জুরুল মুন্সী। সীমালঙ্ঘনের পর নমিনেশন বাতিল, দল থেকে বহিষ্কার হয়েছে সে। দলের জন্য একটা দাগ লাগিয়ে গিয়েছে সে বলতে হবে!

কিন্তু কর্মীদের এই রূপ বিএনপির সত্যিকারের আদর্শগত রূপ নয়। যেটা তারেক রহমানের বিভিন্ন বক্তব্যেই বোঝা যায়, এই যেমন সেদিন বললেন, "আপনারা আগামী পাঁচ বছরই জনগণের পা ধরে থাকবেন!" বিএনপি হলো শহীদ জিয়া, খালেদা জিয়ার আদর্শগত দল। ক্ষমতার মোহে অন্ধ না হয়ে তাঁদের আদর্শের জায়গা ধরে রেখে রাজনীতি করতে পারে, তবেই বিএনপি সত্যিকারের "বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী" দল হিসেবে মানুষের মনে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে পারবে। দলের চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের কর্মীদের শৃঙ্খলার ব্যাপারে সচেষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে আগামীর দিনগুলোতে।

সুস্থ রাজনীতির জন্য বিএনপির কর্মীদের জন্য বর্তমানেও অনুপ্রেরণার জায়গা বেশ কয়েকজন আছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হাবিবুর রশিদ, মেজর হাফিজ, আলতাফ চৌধুরী, আশরাফ উদ্দিন, রুহুল কবির রিজভী প্রমূখ। বিএনপির কর্মীদের তাদেরকে অনুসরণ করতে হবে যাতে পথভ্রষ্ট না হয়ে যায়। এমনিতেই ফ্যাসিস্টরা ওঁত পেতে থাকবে যেকোনো সূক্ষ্ম ভুলকে পুঁজি করে নিজেদের স্টেটমেন্ট দাঁড় করানোর, সেই সুযোগ শুধু বিএনপি না, কোনো দলেরই মোটেও দেয়া যাবে না!

◑ তবে এই নির্বাচনের একইসাথে একটা প্রাপ্তি আর আফসোসের জায়গা আছে। প্রাপ্তিটা হলো অনেক ভালো লোক স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে অন্যতম ঢাকা-৪ এ মিজানুর রহমান, লোকটা দূষিত পানি নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে কি পরিমাণ নির্যাতিত হয়েছে তা ভাষার প্রকাশের বাইরে। কিছুদিন আগে ময়লার ভাগাড়ে বসে নির্বাচনের ইশতেহার দিয়েছে। এসব মানুষের অংশগ্রহণ দেশের রাজনীতিতে গণতান্ত্রিক চর্চায় ভালো একটা দিক। তবে আফসোসের দিক হচ্ছে তারা জেতার মতো ভোট পাবেন না, এসব ভালো লোক দেশের জন্য একেকটা সম্পদ।

জাতীয় পার্টি নিয়ে কিছু বলবো? না থাক ইচ্ছে হয় না, আছেই ওই এক জিএম কাদের এর আসন, তাও জিতে কিনা....!

◑ জনগণ প্রার্থী দেখেই ভোট দিক কিংবা মার্কা দেখেই দিক, নিরপেক্ষ দিক থেকে দেখলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিএনপি যোজন যোজন এগিয়ে। প্রধান বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত। যারাই সরকার গঠন করুক, তাদের থেকে মূল আশা থাকবে যেই আশা বুকে নিয়ে এতগুলো মানুষ নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিলো সেই প্রত্যাশা বাস্তবায়নে তারা যাতে সোচ্চার হয়, ইন্টেরিমের মতো ঝিমিয়ে না পড়ে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যাতে বিন্দুমাত্র সংকোচ না করে! বিরোধী দলগুলোরও সেক্ষেত্রে শক্ত অবস্থান নিতে হবে। সংসদে যাতে গঠনমূলক সমালোচনার একটা গ্রাউন্ড থাকে, ব্যক্তিগত আক্রমণ কিংবা নোংরা রাজনীতির প্রতিফলন যাতে না দেখি। রাজনীতির জন্য যতই ভিন্নমত, রেষারেষি থাকুক না কেন, দেশের স্বার্থে যেন সব দলই ঐক্যবদ্ধ থাকে সেটা এনশিউর করতে হবে।

সব দলেরই মোটামুটি আলোচনা-সমালোচনা করলাম। যেসব আসন নিয়ে মোটামুটি জানাশোনা আছে, মানুষের সাথে কথা হয়েছে সেগুলো নিয়েই শুধু প্রেডিকশন লিখেছি। ইন্টেরিমের শেষদিনে এসে বাকস্বাধীনতার সুব্যবহার করে নিলাম। বাকি আসনগুলো নিয়ে আমার তেমন একটা আইডিয়া নেই বলে আগ বাড়িয়ে অনধিকার চর্চা করছি না। সবাই ভোট দিতে যান, দীর্ঘ সতের বছর পর নিজের অধিকার ঠিকভাবে কাজে লাগান। দেশের জন্য তা মঙ্গল বয়ে আনুক এই দোয়াই করি।

কথা শেষ করবো এই নির্বাচনে আমার সবচেয়ে আক্ষেপের রেশ রেখে। আমার ভাই শহীদ হাদীর অ্যাবসেন্স এই উৎসবমুখর পরিবেশে সবথেকে বেশি পোড়াবে। যার এই নির্বাচন নিয়ে ছিলো গগনচুম্বী এক্সাইটমেন্ট, নির্বাচন কিভাবে ভালোমতো করা যায়, সুস্থ রাজনীতি ফিরিয়ে আনা যায় তা নিয়ে তার কতই না ভাবনা ছিলো! সেই নির্বাচনটাই দেখে যেত পারলো না আমার ভাইটা। সেই নির্বাচনে জয়ী নতুন সরকার যাতে অন্তত ভাইটার বিচার নিশ্চিত করে।

Comments

No comments

Add a comment:

কাজী গ্রুপ ও WWWA-এর আয়োজনে সংগীত সন্ধ্যা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

কাজী গ্রুপ ও WWWA-এর আয়োজনে সংগীত সন্ধ্যা ও সাহিত্য আড্ডা অনুষ্ঠিত

এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বড় একটি অংশকে কখনো সোচ্চার হতে দেখি না: আসিফ নজরুল

এসব অপরাধীর বিরুদ্ধে আলেম সমাজের বড় একটি অংশকে কখনো সোচ্চার হতে দেখি না: আসিফ নজরুল

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ২১৯৩৩ যাত্রী

ঢাকা থেকে রিয়াদ-দাম্মামের ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ২১৯৩৩ যাত্রী

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, যে তথ্য দিল পুলিশ

আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি, যে তথ্য দিল পুলিশ

নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই, এটাই শেষ কথা: আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ

নিজ সন্তানের নিরাপত্তায় কোনো ছাড় নেই, এটাই শেষ কথা: আব্দুল হাই সাইফুল্লাহ

ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ? ফুটবল ছাড়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন নেইমার

ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ? ফুটবল ছাড়ার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানালেন নেইমার

২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ভুয়া

২৯ অক্টোবর এইচএসসির ফল প্রকাশের বিজ্ঞপ্তি ভুয়া

সিনেমায় অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন টম ক্রুজ

সিনেমায় অবদানের জন্য আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন টম ক্রুজ

দাম্মাম-রিয়াদে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত

দাম্মাম-রিয়াদে বিমানের সব ফ্লাইট স্থগিত

দ. কোরিয়াকে ‘বিরক্ত’ করতে সীমান্তে মাইক বাজাবে উ. কোরিয়া

দ. কোরিয়াকে ‘বিরক্ত’ করতে সীমান্তে মাইক বাজাবে উ. কোরিয়া

যে ব্যবসায় বাজিমাত সামান্থার, আয় ১২০ কোটি রুপি

যে ব্যবসায় বাজিমাত সামান্থার, আয় ১২০ কোটি রুপি

রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি করলেও লাগবে নিবন্ধন

রাস্তার পাশে পিঠা বিক্রি করলেও লাগবে নিবন্ধন

ডিভি লটারি: বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?

ডিভি লটারি: বাংলাদেশিরা কি আবেদন করতে পারবেন?

ফেসবুকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, মেটার ইতিহাসে সর্বোচ্চ জরিমানা

ফেসবুকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন, মেটার ইতিহাসে সর্বোচ্চ জরিমানা

আফগানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ

আফগানদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে শূন্য হাতে ফিরছে বাংলাদেশ

আজ রাতে ঘুমালে আকাশের যা মিস করবেন

আজ রাতে ঘুমালে আকাশের যা মিস করবেন

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে ছিল না সাজার তথ্য

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া ২ বাংলাদেশির বিষয়ে ‘গোপনীয়’ নথিতে ছিল না সাজার তথ্য

হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রিয়াদ

হঠাৎ বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল রিয়াদ

সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

সৈয়দপুর পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন

প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ইশরাক হোসেন