সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে মাতৃভাষা দিবসের শ্রদ্ধাঞ্জলি

২১শে ফেব্রুয়ারি, একটি তারিখ যা বাঙালির হৃদয়ে চির অমলিন।
এই দিনটি শুধুমাত্র বাংলাদেশের নয়, বরং সারা বিশ্বের ভাষাপ্রেমীদের জন্য এক অবিস্মরণীয় দিন। জাতিসংঘ ১৯৯৯ সালে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে, যা আজ বিশ্বব্যাপী ভাষার বৈচিত্র্য ও মাতৃভাষার গুরুত্বকে স্মরণ করিয়ে দেয়।ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার ইতিহাস পৃথিবীতে বিরল, কিন্তু বাঙালি জাতি সে গৌরবের দাবিদার। ১৯৫২ সালের এই দিনে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই তাদের প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন মাতৃভাষা বাংলার স্বীকৃতির জন্য। সেই আত্মত্যাগের প্রতিফলন আজকের বাংলাদেশ এবং সারা বিশ্বের বাঙালিরা গর্বিতভাবে পালন করে এই দিনটিকে।
এ বছর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকার সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল প্রাঙ্গণে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে সেন্ট জোসেফ লিটারেসি স্কুল, সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এবং সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল। তিনটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি উদযাপন করে।শ্রদ্ধার প্রতীক হিসেবে স্কুলের প্রতিটি শ্রেণি থেকে একটি করে ফুলের তোড়া শহীদ মিনারে অর্পণ করা হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং প্রশাসনের সকলে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে শহীদদের স্মরণ করেন।
গুণী ব্যক্তিদের ভাষণ ও অনুপ্রেরণা:
অনুষ্ঠানে সেন্ট জোসেফ হায়ার সেকেন্ডারি স্কুল এন্ড কলেজের মাননীয় অধ্যক্ষ ব্রাদার লিও জেমস পেরিরা সিএসসি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, “আমরা অন্য ভাষার প্রতি সম্মান জানাবো ঠিকই, তবে আমাদের মাতৃভাষার প্রতি আরও গভীর শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা উচিত। বাংলা ভাষার চর্চা আমাদের গর্বের বিষয় এবং এটি শুদ্ধভাবে চর্চা করা আমাদের দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ যেন কখনও ভুলে না যাই এবং তাদের স্মরণ রেখে বাংলা ভাষাকে সুন্দর ও বিশুদ্ধভাবে চর্চা করি।এছাড়াও, সেন্ট জোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের মাননীয় অধ্যক্ষ ব্রাদার চন্দন গোমস্ সিএসসি ভাষা শহীদদের স্মরণ করে বলেন, *“বাংলা ভাষার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা এবং ভাষাটিকে আরও সমৃদ্ধ করা আমাদের দায়িত্ব।”* তাঁর বক্তব্যে বাংলা ভাষার শুদ্ধতা ও চর্চার গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়।
শ্রদ্ধা ও অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ:
এই অনুষ্ঠানে স্কুলের সকল বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যা অনুষ্ঠানটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ও অর্থবহ করে তোলে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মিলিত কণ্ঠে উচ্চারিত হয় সেই অমর গান—
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?”এ গান যেন সকলের হৃদয়ে মাতৃভাষার জন্য আত্মত্যাগের চেতনা নতুন করে জাগিয়ে তোলে।ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো শুধুমাত্র একটি দিনের বিষয় নয়, এটি প্রতিদিনের চর্চা। মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে হবে, শুদ্ধভাবে চর্চা করতে হবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে এর মাহাত্ম্য তুলে ধরতে হবে।“যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে!”
এই অঙ্গীকার নিয়ে আমরা যেন বাংলা ভাষার মর্যাদা সমুন্নত রাখতে পারি এবং ভাষা শহীদদের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারি

Comments
No comments
Add a comment: