বিবাহ বিচ্ছেদের কারন ও পরিত্রাণের উপায়

দাম্পত্য জীবন হচ্ছে বন্ধুত্বের সর্বোচ্চ স্থান যেখানে আপনি আপনার ইচ্ছা মত সবকিছু করতে পারবেন। আপনি যদি চান আপনার দাম্পত্য জীবন সুখী করতে পারবেন, আবার আপনি যদি চান আপনার দাম্পত্য জীবন ধ্বংস করব তাও পারবেন।
দাম্পত্য জীবনে মানুষ সুখী হলে তার কোনো সীমা নেই আর যদি কেউ দাম্পত্য জীবনে কষ্ট হয় তাহলে তো তার জীবনের কোনো দুঃখের সীমা ছাড়া উপায় নেই। একজন স্বামী ও স্ত্রী তাদের দাম্পত্য জীবনের সুখী হওয়া বেশি জরুরি। কারণ তাদের মধ্যে যদি দ্বিধা-দন্ড থাকে তাহলে তাদের সংসারের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না । সংসার শুধু একজন পুরুষ দিয়েই হয়না আবার একজন নারী দিয়েও হয় না তাদের দুজন সম্মিলিত ভাবে একটি সংসার সুন্দর করে গড়ে ওঠা সম্ভব। দাম্পত্য জীবন হল একটি সামাজিক বন্ধন যা দুজনের মধ্যেই বা স্থাপিত হয়। তাদের দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলা। বর্তমান সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদ স্বাভাবিক ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনা এতটাই বেড়ে চলেছে যে তা নিয়ে আমাদের ভাবা প্রয়োজন। সভ্যতার চাদর গায়ে সমাজে আমরা নিজেদের সুশীল ভাবে নিজেকে সমাজে উপস্থাপন করি। সমাজ বিনির্মাণে কতটুকু ভূমিকা রাখি আমরা, পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে কতটুকু ভূমিকা রয়েছে আমাদের। এতোটা সভ্য হয়েও আমরা কি নিজের প্রিয় সন্তানকে কাছে রাখতে পারছি, যে মানুষ সারাজীবনের সঙ্গী হয়ে আমাদের জীবনে আসছে তাদের কি ধরে রাখতে পারছি, আর তা যদি না পারি তবে আমরা কি সত্যিই সভ্য হতে পারছি? এই প্রশ্নটি কিন্তু থেকেই যায়। ফুটফুটে সন্তান, সুন্দর সংসার, দীর্ঘ দাম্পত্য জীবন, একসময়ের মধুর সম্পর্কের স্মৃতি কোনো কিছুই বিবাহ বিচ্ছেদকে আটকাতে পারছে না। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বাড়ছে। জরিপে দেখা গেছে, শহর এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় ভাঙছে একটি সংসার। এক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ ডিভোর্স দিচ্ছেন নারীরা, ৩০ শতাংশ দিচ্ছেন পুরুষরা। ঢাকায় ৪০ মিনিটে ১টি তালাক। সারা দেশে বিবাহ বিচ্ছেদ বাড়ছে। গত বছর রাজধানীতে তালাক হয়েছে প্রতিদিন ৩৭টি করে।
বিবাহ বিচ্ছেদের কারণগুলো হলো-
শারীরিক অক্ষমতা ও সময়, এক্সট্রা ম্যারিটাল এফেয়ার, আর্থিক সমস্যা, যোগাযোগের সমস্যা, উচ্চ প্রত্যাশা, আত্মসম্মান, পারিবারিক দায়িত্ব, যৌতুক ও দাম্পত্য কোলাহল, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, স্বনির্ভরশীলতা, অবিশ্বাস, কেয়ারিং, সন্তান দানে অক্ষমতা, বাল্যবিবাহ বহুবিবাহ, মাদকাসক্তি, সেক্রিফাইস, আর্থিক সচ্ছলতা, সোশ্যাল মিডিয়া, শিক্ষা এবং নৈতিক শিক্ষা।

বিবাহ বিচ্ছেদের থেকে পরিত্রাণের উপায়-
বিয়ে থেকেই বিচ্ছেদের উৎপত্তি। সব ধর্ম বা বর্ণের লোকের কাছে বিবাহবিচ্ছেদ নিকৃষ্ট কাজ। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তান। তাদের নীরব কান্না শোনার বা দেখার সময় কারো নেই। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদে অনেক সময় সন্তান হয়ে যায় মানসিকভাবে ভারসাম্য হীন ও বদরাগী। মানসিক বিষন্নতা ও অবসাদ তাদের আচ্ছন্ন করে রাখে। বনিবনা হবে না জেনে কেন সন্তান ধারণ করা? সন্তান তার বৃদ্ধির জন্য বাবা মা দুজনকেই চায়। দুজনের নির্মল স্নেহ ভালবাসা পেতে তাদের হৃদয় উন্মুখ থাকে। ব্রোকেন ফ্যামিলির সন্তানদের দুঃখ-বেদনা ভুক্তভোগী ছাড়া আর কেউ জানে না। যেহেতু তারা সুন্দর, স্বাভাবিক জীবনে বড় হতে পারে না, পরবর্তী জীবনেও তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সন্তান বাবা-মা দুজনকে জড়িয়ে নিয়েই বাঁচতে চায়। বাবা-মা দুজন যখন সন্তান দাবী করে সন্তানের করুণ দৃষ্টি, মানবিকগুণ সম্পন্ন সব মানুষকে বেদনা বিধুর করবেই। সমস্যা যেমন আছে, উত্তরণেরও অনেক উপায় আছে। দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হলে প্রথমেই দুজন মিলে তার কারণ চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা নিজেদেরই করতে হবে। ব্যক্তি সচেতনতা, সহনশীলতা, সমঝোতা করে বিশ্বাসের ভীত শক্ত করতে হবে। শান্তি, সুখ ও ভালবাসার নীড় সাজানোর জন্য উভয়কে ছাড় দিতে হয়। পরস্পরের প্রতি সহনশীলতা, বিশ্বস্ততা, শ্রদ্ধা বোধ থাকা জরুরি। বর্তমানে সিটি কর্পোরেশন, ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে বিবাহবিচ্ছেদ চরম আকার ধারণ করেছে। প্রতিদিনই শত শত বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জমা হচ্ছে। এ সংবাদ পরিবার, সমাজ তথা দেশের মানুষের জন্য সুখকর হতে পারে না। অনেকেই আইনবিধি নিয়ম-কানুনের ধারে কাছে না গিয়ে নোটিশ গোপন করে ৯০ দিন পর বিবাহবিচ্ছেদের ঘোষণা নিচ্ছেন। অনেকে ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টে, নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে বেআইনি, নিয়মবহির্ভূতভাবে তালাক প্রদান করছে। বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশে বিয়ে ও তালাক দুটোরই ডিজিটালাইজেশন জরুরি। এতে কারও বিয়ে হলে অনলাইন যেমন জানতে পারবে, বিচ্ছেদ হলেও অনলাইনে বিষয়টি অবহিত করা জরুরি। বাংলাদেশের প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও ইউনিয়ন পরিষদে বিয়ে রেজিস্ট্রেশন ও তালাক রেজিষ্ট্রেশন অনলাইন হওয়া সময়ের দাবী। তাতে করে প্রতারিত হওয়ার মাত্রা কমে যাবে যা নারী পুরুষ দুপক্ষের জন্যই মঙ্গলজনক ও কল্যাণকর।
বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে যারা ভুক্তভোগী হয়-
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত পবিত্র। ভালোবাসার এই পবিত্র সম্পর্কেই এক সময় সম্পর্কের প‚র্ণতা নিয়ে আসে সন্তান। সম্পর্ক আরও শক্ত বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে যায় সন্তানের মায়ায়। কিন্তু আজ সভ্যতার অন্তরালে আমাদের সকলেরই যেনো আত্মকেন্দ্রিক মনোভাব বেড়ে যাচ্ছে। সভ্যতার বিক্ষিপ্ত বিস্তৃতিতে আমরা রীতিমত পাল্টে যাচ্ছি দিন দিন। একটা সময় ছিল যখন সন্তানের মায়া পিতামাতা অনেক কিছু সহ্য করতেন। সন্তানের মাঝে খুঁজে নিতেন নিজেদের অস্তিত্ব। তাই নিজেদের মধ্যে অনেক মনমালিন্য মিটিয়েনিতেন, ক্ষমা করে দিতেন একে অপরের ত্রæটি, যাতে সন্তানের উপর কোনো ক্ষতিকর প্রভাব না আসে।স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে শিশুদের কচি হৃদয়ে যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে তা সন্তানকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হয়।
ধন্যবাদ।
এড. ইসমত জাকিয়া।


Comments
Lipi Sarker
কথাগুলো বাস্তব কিন্তু সমাজের লোক জন্য তা বোঝার চেষ্টা করে না।
shuvo saha
কথাগুলো বাস্তব ✨✨
তানিয়া বেগম
কথাগুলি বাস্তব ✨
বনিক স্টোর
কথাগুলো বাস্তব রুপ দিয়েছেন মেডাম
Rj Raj Mondol
Osadaron
kabbo official
কথাগুলো সত্যি মেডাম কিন্তু আমাদের সমাজ তা বুঝার চেষ্টা করে না।
Tonmoy kabbo
কথাগুলো সত্যি মেডাম কিন্তু আমাদের সমাজ তা বুঝার চেষ্টা করে না।
Tonmoy Bonik
অসাধারণ হ'য়ে ছে লেখা টি।
জয় সাহা
অসাধারণ লেখনি মেডাম ✨✨
Mitali Rai
চমৎকার লেখনি মেডাম,আপনে বাস্তব কথাগুলো তুলে ধরছেন✨
Mitali
চমৎকার লেখনি মেডাম,আপনে বাস্তব কথাগুলো তুলে ধরছেন।
Eit bonik
কথাগুলো বাস্তব মেডাম কিন্তু সবাই যদি একটু বোঝার চেষ্টা করতো তাহলে হয় তো বিবাহ বিচ্ছেদ হতো না।
কল্পনা রানী বিশ্বাস
কথাগুলো বাস্তব মেডাম কিন্তু সবাই যদি একটু বোঝার চেষ্টা করতো তাহলে হয় তো বিবাহ বিচ্ছেদ হতো না।
toma Bonik
কথাগুলো বাস্তব মেডাম।
মো ইসমাইল হোসাইন
ধন্যবাদ
Add a comment: