পরিত্যক্ত ভূমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষ রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা

নোয়াখালীর সদরের বিনোদপুরের জালাল মিয়ার গোডাউন মোড়ে সরকারী কৃষি অধিদপ্তরের পরিত্যক্ত সীড স্টোর অফিসের ভূমির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। যেকোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা রয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে পরিত্যাক্ত কৃষি অফিস ভবন ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করছে উভয় পক্ষ। দুইপক্ষই দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে পরিত্যক্ত ভুমি আফিস। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় কৃষি অফিসের সীড ষ্টোর অফিস ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় অধিকাংশ ভেঙে পড়ে আছে, পরিত্যক্ত থাকায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারও তাদের দানকৃত সম্পত্তি মালিকানার দাবি করছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ ১৫ বছর থেকে ভবনটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এখানে বিভিন্ন সময় ময়লা আবর্জনা ফেলা হয়। দীর্ঘ ১২/১৩ বছর থেকে নেই কৃষি অফিসের সীড ষ্টোর অফিসের কোন কার্যক্রম।
কৃষি অফিসের সীড স্টোর নির্মাণের জন্য দানপত্র দেওয়া ৯ডিং ভূমি মালিকানা দাবি করে মুক্তিযোদ্ধা হুমায়ুন কবিরের পরিবার। উক্ত দানকৃত সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবরে আবু হেনা মোস্তফা কা÷8;াল উদ্দিন বাদী হয়ে আবেদন করেন। জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বিভিন্ন দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায় উক্ত সম্পত্তিটি জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দলিলের শর্ত অনুসারে ওয়ারিশগন ফেরত প্রদানের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি)।
জানা যায়, ১২/০৬/১৯৬১খ্রি. রেজিষ্ট্রিকৃত ৪১৯৪নং দানপত্র দলিলে দাতা জালাল আহাম্মদ মিয়া নোয়াখালী ড্রিস্টিক এগ্রিকালচারাল নামে ৯ডিং জমি দান করেন। যাহাতে কৃষি অফিস কর্তৃক সীড ষ্টোর নির্মাণের দান করা হয়। উক্ত ভবনটি দীর্ঘ ১২/১৩ বছর থেকে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত পড়ে আছে। দলিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, দাতা দানকৃত সম্মত্তিতে কোন ভবন বা কার্যক্রম না থাকলে তার ওয়ারিশগণ মালিক ও দখলদার হইবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোশরেফুল হাসান জানান, যেহেতু কৃষি অধিদপ্তরের নামে জমিটি রয়েছে এবং দান করা হয়েছে। কয়েক বছর জরাজীর্ণ পড়ে থাকলেও আমরা মেরামত করার জন্য কাজ করছি। জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আরও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments
Nurunnabi Nobin
Thanks
Add a comment: