নিরাপত্তাকর্মী থেকে বিসিএস ক্যাডার মুজাহিদ বিল্লাহ

সংগ্রামের গল্পগুলো একটু অন্য রকম। কঠোর পরিশ্রম, ত্যাগের পরই কেউ কেউ পৌঁছে যান সফলতার সর্বোচ্চ শিখরে। নানা বাধা-বিপত্তিকে জয় করে তেমনি জীবনযুদ্ধে জয়ী হয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের নবম ব্যাচের শিক্ষার্থী মোত্তালিব। ৪৩তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগের সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে একসময় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেছেন মোত্তালিব। প্রুফ রিডার, টিউশনি ছিল তার নিত্যদিনের সঙ্গী।
মোত্তালিবের জন্ম বগুড়ায়। পুরো নাম এম এ মোত্তালিব মিহির। বগুড়ার শিবগঞ্জের বর্গাচাষি মহাবুল ইসলাম ও জামিলা বিবির সন্তান তিনি । বাবা বর্গাচাষি আর মা গৃহিণী। ছোটবেলা থেকেই অভাব-অনটনার মধ্যে বেড়ে উঠেছেন তিনি। এসএসসি পাস করার পর বগুড়ার আজিজুল হক কলেজে (মানবিক) ভর্তি হলে শুরু হয় কঠোর সংগ্রাম। অর্থের অভাবে বেশ কিছু দিন বন্ধ ছিল পড়ালেখা। জীবিকা নির্বাহ করতে এবং পড়ালেখার খরচ জোগাড় করতে তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে নিরাপত্তাকর্মীর চাকরিও করতে হয়েছিল।
২০১২ সালে জীবিকার জন্য ঢাকায় আসেন তিনি। এরপর শুরু করেন কাজ, বন্ধ হয়ে যায় পড়াশোনা। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নিয়ে ১৬ ঘণ্টা করে ডিউটি করতে হতো তাকে। মোত্তালিবের মন বসত না কাজে। সব সময় তাকে ভীষণভাবে টানত পড়াশোনা। এরপর মোত্তালিব দেখা করেন তার এক বন্ধুর সঙ্গে। এরপর বন্ধুর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি প্রস্তুতির কথা শুনে মনে ইচ্ছে জাগে ইউনিভার্সিটিতে প524;ার। চাকরির টাকা জমিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির কোচিংয়ে ভর্তি হন। এরপর চাকরির পাশাপাশি কোচিং করে মোত্তালিব চান্স পান ছয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি ছেড়ে দিলে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাবে এই ভয়ে ঢাকাতেই থেকে যান এবং ভর্তি হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এরপরই শুরু হলো নতুন এক সংগ্রাম। প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা ডিউটি করে কলাবাগান থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গিয়ে ক্লাস করতে হতো। ভাড়া বাঁচানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসেই যাতায়াত করতেন।

দুর্দিনের কথা স্মরণ করে মোত্তালিব বলেন, ‘মনে আছে এক দিন ক্যাম্পাস থেকে ফেরার সময় স্টুডেন্ট ভাড়া ছয় টাকা না থাকার কারণে সদরঘাট থেকে কলাবাগান পর্যন্ত হেঁটে এসেছি।’ তিনি বলেন, কখনো সিকিউরিটি চাকরি করে কখনো টিউশনি করে পড়াশোনা চালিয়ে নিতে হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘শত বাধা পেরিয়ে আমাকে এই পর্যন্ত আসতে হয়েছে। তবে কখনো হাল ছাড়িনি। আমি এমন একটা গ্রাম থেকে উঠে এসেছি, যেখানে ছেলেমেয়েদের নাম-দস্তখত শেখার পরে স্বপ্নই থাকত বিদেশ চলে যাবে। এ রকম একটা পরিবেশে স্বপ্ন দেখতাম। আমি এক দিন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করে সরকারি চাকরি করব। তবে কখনো ভাবিনি যে বিসিএসের মতো এত প্রতিযোগিতাপূর্ণ একটা পরীক্ষা দিয়ে দেশের প্রথম শ্রেণির একটা চাকরি করব।’ ভবিষ্যতে যারা বিসিএস পরীক্ষা দেবেন তাদের উদ্দেশে মোত্তালিব বলেন, বিসিএস ক্যাডার হওয়া যতটা না কষ্টের, তার চেয়ে বেশি কষ্টসাধ্য কাজ হচ্ছে লেগে থাকা। তাই ধৈর্য ধরে শেষ পর্যন্ত লেগে থাকলে এক দিন সফলতা আসবেই।

Comments
Fahim
Congratulations 👏
Add a comment: