হাতিয়ায় নারী ধর্ষণের অভিযোগ: প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ মেলেনি, বলছে পুলিশ

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার চানন্দী ইউনিয়নে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
অভিযোগকারী নারী চানন্দী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, গত রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি তার ঘরে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে দুজন দরজায় পাহারা দেন এবং ‘রহমান’ নামে একজন তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার স্বামীকে বেঁধে রাখা হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্যরা ধর্ষণের চেষ্টা করে এবং পরদিন সকালে ১০-১৫ জন আবার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
শনিবার দুপুরে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে ভিডিও বক্তব্যে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন।
হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শনিবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে ওই নারী প্রথমে হামলা ও মারধরের অভিযোগ নিয়ে হাসপাতালে আসেন। পরে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তিনি ধর্ষণের অভিযোগ করেন। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য গাইনি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী মতামত জানানো হবে।
হাতিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. নুরুল আনোয়ার বলেন, একটি পক্ষ ঘটনাটি অতিরঞ্জিতভাবে প্রচার করছে। তার মতে, বিষয়টি প্রোপাগান্ডা হতে পারে এবং সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ও সামনে এসেছে। তিনি জানান, ঘটনাটি যাচাই-বাছাই করা হয়েছে এবং প্রাথমিক তদন্তে শারীরিক নির্যাতন বা ধর্ষণের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবুও অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে, তবে এখন পর্যন্ত ধর্ষণের পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগকারী নারী একটি রাজনৈতিক দলের সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, প্রতিপক্ষ দলের সমর্থকেরা তার ঘরে হামলা চালায়। তবে ঘটনার সময় আশপাশে লোকজন উপস্থিত থাকলেও কেউ ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেননি। একই দিন সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একটি রাজনৈতিক দলের কেন্দ্রীয় নেতা নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দুটি ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। মেডিকেল রিপোর্ট ও তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Comments
nobin
thanks
Add a comment: