সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কালচারাল ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট মোঃ রাইয়ানের দৃঢ় অঙ্গীকার”

সরকারি বিজ্ঞান কলেজ কালচারাল ক্লাবের নতুন প্রেসিডেন্ট মোঃ রাইয়ান, দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম অনুভূতির কথা জানাতে গিয়ে বলেন, “আমার কাঁধে এখন অনেক বড় একটি গুরুদায়িত্ব।
এই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করাই এখন আমার প্রধান লক্ষ্য।” মোঃ রাইয়ান জানান, দেশের স্বনামধন্য একটি কলেজের ক্লাব প্রেসিডেন্ট হওয়া ছিল তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। শিক্ষক, ক্লাবমেট ও জুনিয়রদের নিরন্তর সমর্থন ও অনুপ্রেরণার কারণে আজ তিনি এই জায়গায় পৌঁছাতে পেরেছেন বলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নতুন প্রেসিডেন্ট মোঃ রাইয়ানের মূল লক্ষ্য হলো সংস্কৃতিকে আরও বিস্তৃত করা এবং সরকারি বিজ্ঞান কলেজকে সাংস্কৃতিকভাবে সমৃদ্ধ করা। তিনি বলেন, “আগের ১০টি কমিটির একটি বড় স্বপ্ন ছিল ন্যাশনাল কালচারাল কার্নিভাল—যেটা আমরা বাস্তবায়ন করে দেখিয়েছি। ভবিষ্যতে আরও একটি ন্যাশনাল কার্নিভাল আয়োজনের পাশাপাশি স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর ইচ্ছা রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নিয়মিত প্রতিযোগিতা, প্র্যাকটিস সেশন ও ওয়ার্কশপ আয়োজন করা হবে। দায়িত্বের প্রথম তিন মাসে স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও লিডারশিপ প্র্যাকটিসে বিশেষভাবে ফোকাস থাকবে। চলতি বছরে ইতোমধ্যে ৫–৬টি প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে মোঃ রাইয়ান বলেন, “এ বছর নয়, আগামী বছর আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।” ক্লাব পরিচালনায় সকল শাখাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য ক্লাবকে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক ভাগ করা হয়েছে। প্রতি বছর অন্তত একটি ইন্ট্রা কলেজ ও একটি ন্যাশনাল কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম পায়।
মেয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে মোঃ রাইয়ান স্পষ্ট করে বলেন, “মেয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কোনো বাধা থাকবে না। বরং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব।” ক্লাব পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট নিয়মকানুন, লক ও অ্যাকসেস শুধুমাত্র প্যানেল সদস্যদের হাতে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব কার্যক্রমে ক্লাব মডারেটর ও কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান মোঃ রাইয়ান। একটি সফল প্রোগ্রাম আয়োজনের ক্ষেত্রে স্পনসরশিপকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে অনেক পরিশ্রম ও সমন্বয় প্রয়োজন। বাজেট ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা রাখতে কোষাধ্যক্ষ, কোর অর্গানাইজার ও মডারেটরদের সক্রিয় ভূমিকা থাকবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী মোঃ রাইয়ান বলেন, “এখন পর্যন্ত বড় সব চ্যালেঞ্জ পার করেছি, ভবিষ্যতেও পারব বলে আশা রাখি।” গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন এবং মিথ্যা সমালোচনা উপেক্ষা করবেন বলেও জানান তিনি।
ব্যক্তিগত জীবন ও পড়াশোনার বিষয়ে মোঃ রাইয়ান বলেন, দায়িত্বের প্রভাব থাকলেও ব্যক্তিত্বে তিনি নিজের মতোই থাকবেন এবং এই মুহূর্তে পড়াশোনায় বেশি মনোযোগ দেবেন। পরবর্তী নেতৃত্ব তৈরি করাকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করে মোঃ রাইয়ান নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন— “পড়াশোনা ও ক্লাবিংয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে, কখনোই সময় নষ্ট করা যাবে না।”

Comments
No comments
Add a comment: