শ্রীপুরে হলফনামায় হেরফের করেছেন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী
৬ষ্ঠ বারের মতো বাংলাদেশে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন শুরু হয়েছে। মোট চারটি ধাপের অনুষ্ঠিত হবে এ নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপে ১৬০ উপজেলায় ২১ মে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এ নির্বাচনে শ্রীপুর উপজেলা থেকে নিজের পরিচয় ও হলফনামায় তথ্য হেরফের করে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হয়েছেন মোছাঃ হালিমা খাতুন। তার বিরুদ্ধে দুইটি জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। হলফনামায় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণেও করেছেন ব্যাপক গড়মিল। তাকে এসব কাজে সহায়তা করেছেন তার স্বামী সবুজ মিয়া। সবুজ মিয়া নিজেও ইতিপূর্বে একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করেছেন।
এসব প্রতারণার বিষয়ে জানতে পেরে গাজীপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় একজন ভোটার। তিনি শ্রীপুর (১ নম্বর ওয়ার্ড) এর মৃত হাজী আবু বকর সিদ্দিকের সন্তান মো. মাসুদ।
ওই অভিযোগসূত্রে জানা যায়, হালিমা খাতুন প্রত্যেকবার বিয়ের পর জাতীয় পরিবর্তন করেছেন। তার সর্বশেষ স্বামীর নাম মো. সবুজ মিয়া, তিনি শ্রীপুর পৌরসভায় ঠিকাদার হিসেবে কর্মরত থাকায় এসব জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তনে সহায়তা করেছেন বলে জানা যায়।
> জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তন:
একটি জাতীয় পরিচয়পত্রে তার নাম ব্যবহার করেছেন মোছাঃ হালিমা খাতুন। যার নম্বর ৬৮৫৯৫০৩৬৭১, জন্ম তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ১৯৮৬, ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বরমী, শ্রীপুর, গাজীপুর। ওই এনআইডি কার্ডে স্বামীর নাম রয়েছে মো. সবুজ মিয়া।
অপর আরেকটি জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী তার নাম সুমি সরকার, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৮২৪৮৮৫৯৪৬৭, জন্ম তারিখ ১০ অক্টোবর ১৯৮৭, যার পিন নম্বর ১৯৮৭৩৩২৮৬৯৪০৫৭৫৪৪, ঠিকানা ব্যবহার করেছেন শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটি গ্রাম। যেখানে স্বামীর নাম রয়েছে মো. খোকন সরকার।
এছাড়াও গত ৫ নভেম্বর ২০২০ তারিখের একটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজে নজর দিই। ওই বিদ্যুৎ বিলের রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ৫১৪১০০৯৬৩২, এরিয়া কোড ৫০৪০১, মিটার নম্বর ৫২১২৫, এলাকা বরমী। ওই বিদ্যুৎ বিলটিতে গ্রাহকের নাম লেখা রয়েছে সুমী সরকার মৌসুমী।
> হলফনামায় সম্পত্তি:
নির্বাচনী হলফনামা সূত্রে জানা যায়, তার স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ সাড়ে ১০ শতাংশ অকৃষি জমি। যার ক্রয় মূল্য তিনি দেখিয়েছেন ১৭ লাখ ১২ হাজার। অস্থাবর সম্পত্তি দেখিয়েছেন, ভেকু ও ড্রেজার মেশিন ১ টি করে, যার ক্রয় মূল্য ৩৭ লাখ টাকা, স্বর্ণ ২০ ভরি ক্রয় মূল্য ১৫ লাখ টাকা, উপহার হিসেবে পেয়েছেন টিভি ও ফ্রিজ যার মূল্য ১ লাখ টাকা, আসবাবপত্রের মধ্যে রয়েছে, ৩ টি খাট, একটি ওয়ারড্রপ, ড্রেসিং টেবিল ১ টি, সোফা সেট দুইটি। এগুলোও তিনি উপহার সামগ্রী হিসেবে দেখিয়েছেন যার মূল্য ১ লাখ টাকা। বিভিন্ন সময় নিজ স্বামীকে ঋণ দিয়েছেন ২৭ লাখ টাকা। এছাড়াও তিনি নগদ অর্থ দেখিয়েছেন ৩ লাখ ৬২ হাজার ৩২৬ টাকা। বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ টাকা। মোট ঋণ দেখিয়েছেন ২৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৭ টাকা।
> হলফনামায় হেরফের:
কলস প্রতীকের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী মোছাঃ হালিমা খাতুন একাধিক জাতীয় পরিচয়পত্র ও একাধিক ব্যবহারের পাশাপাশি হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তার নামে একটি বিলাসবহুল গাড়ি রয়েছে, যার নম্বর ঢাকা মেট্রো চ-১২১৭২৯, যার আনুমানিক মূল্য ৬০-৭০ লাখ টাকা। তার নামে বরমী গ্রামে 'মৌসুমী ভিলা' নামে একটি আলিশান বাড়ি রয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১ কোটি টাকা। এর পাশেই রয়েছে একটি প্লট। শ্রীপুর পৌরসভার ভাংনাহাটিতে (৪ নম্বর ওয়ার্ড) মৌসুমী ভিলা নামে আরো একটি বাড়ি বাড়ি রয়েছে। একাধিক প্লট এবং বাড়ির তথ্য হলফনামায় উল্লেখ করে করে এভাবেই হেরফের করেছেন তিনি।
এসব বিষয়ে অভিযুক্ত মোছাঃ হালিমা খাতুন, সুমী সরকার ওরফে সুমী সরকার মৌসুমীকে একাধিকবার ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। অন্য এক ব্যক্তি রিসিভ করে জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। পরবর্তীতে কলব্যাক করবেন। বেশ কিছু সময় পর পূণরায় ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এসব বিষয়ে তার সর্বশেষ স্বামী সবুজ মিয়া জানান, জাতীয় পরিচয়পত্রের বিষয়টি অনেক পুরোনো। হলফনামায় হেরফের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামীকাল দেখা করুন, সাক্ষাতে কথা হবে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, গাজীপুর (সার্বিক) মোঃ মামুনুল করিম বলেন, 'ওই লিখিত অভিযোগটি পেয়েছি । হলফনামা যখন যাচাই-বাছাই করা হয়, তখন উন্মুক্তভাবেই যাচাই-বাছাই হয়। ওই সময়ে কেউ কোনো অভিযোগ জানাননি। এই মুহুর্তে আইনিভাবে আমার কিছুই করার নেই। তবে তথ্য গোপন করার বিষয়ে পরবর্তীতে মামলা করার সুযোগ রয়েছে'।

Comments
No comments
Add a comment: