শেষ ছবি

ফেসবুকে প্রতিদিন এক মায়ের পোস্ট—
“আমার মেয়ে আজও যেমন হাসিখুশি, তেমনি আছে বিদেশে!”
নীল আকাশের নিচে মেয়ের হাসিমাখা ছবি, কখনো অফিসে, কখনো কফি শপে, কখনো সমুদ্রের পাশে।
ছবির নিচে মানুষ কমেন্ট করে—
“মাশাআল্লাহ! এত সুন্দর মেয়ে!”
“আন্টি, আপনি ভাগ্যবতী মা!”
আসলেই কি ভাগ্যবতী মা সে?
মায়ের নাম সুলতানা রহমান। একমাত্র মেয়ে ছিল—মায়া। বিদেশে চাকরি করতো, খুবই মেধাবী। প্রতি সপ্তাহে ভিডিও কল, প্রতি মাসে পার্সেল পাঠানো।
মা মেয়ের হাসির মধ্যেই বেঁচে থাকতেন।
একদিন খবর এলো —
মায়ার বাসায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড।
শরীরের ৮০% পুড়ে গেছে।
হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মায়া মারা গেল।
সেই দিন থেকেই মায়ের পৃথিবী থেমে গেল।
কিন্তু আশ্চর্যভাবে তার ফেসবুক একদম বন্ধ হলো না।
বরং, প্রতিদিনই নতুন নতুন ছবি আসতে লাগল।
সাগরপাড়ে মায়ার হেসে থাকা ছবি, কফি হাতে ভিডিও, সূর্যাস্তের পেছনে ছায়া।
মানুষ ভেবে নিল মেয়ে এখনও জীবিত, হয়তো কোনো দেশে চলে গেছে।
একদিন পাড়ার এক নারী এসে বলল,
“আন্টি, আপনার মেয়ে তো এখনো অনলাইনে! আজও তার ছবি দিলেন?”
মা একটু হেসে বললেন—
“হ্যাঁ মা, আজও দিয়েছি। সে বেঁচে নেই জানি, কিন্তু যতদিন আমি আছি, ওকে মরতে দেব না।”
তারপর ড্রয়ার খুলে পুরনো একটা হার্ড ড্রাইভ বের করলেন।
ভেতরে হাজারো ছবি, যা মায়া বিদেশে থাকা অবস্থায় পাঠিয়ে রেখেছিল—
“মা, যদি কখনো আমার কিছু হয়, এই ছবিগুলো রেখো।
যখন মন খারাপ করবে, একটা করে দিও—মানুষ যেন ভাবে আমি এখনো হাসি।”
সুলতানা রহমান চোখ মুছে বললেন—
“ওর প্রতিটি ছবিই আমার কাছে নতুন সকাল।”
আজও তিনি ছবি পোস্ট করলেন সেখানে লিখাঃ "আমার মেয়ে আজও হাসছে শুধু আমি জানি সেই হাসি কত পুরনো"
বার্তা:
ভালোবাসা কখনও মরে না।
মৃত্যুর পরও এক মায়ের মেয়ে বেঁচে থাকে — ছবির ভেতর, মনে, আর স্মৃতির আলোর মাঝে।

Comments
Adrita
Very good !!
Md Ismail
❤️❤️
Add a comment: