শারদীয় দুর্গোৎসবের আজ মহানবমীতে ভক্তদের ভিড়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের বিভিন্ন পূজা মন্ডপে সার্বজনীন দুর্গাপূজা কমিটির আয়োজনে চতুর্থ দিনের মত শান্ত্রীয় নানা আচার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহানবমী দূর্গা দেবিকে স্মরণ করা হয়।
সোমবার (২৩ অক্টোবর) পৌরশহরস্থ বিভিন্ন পূজা মন্ডপে মহানবমী দেবী দূর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভক্তদের সমাগম হয়। এদিন ধর্মীয় আচার শেষে দেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করেন ভক্তরা। একদিন পরই মহাদশমী; বিসর্জনের মধ্যদিয়ে বিদায় নেবেন মা দুর্গা। তাই আজই যেন বিদায়ের সুরে ভক্তদের মন কান্নায় ভরে যাচ্ছে।
নবরাত্রির শেষ দিনে অর্থাৎ নবম দিনে দেবী দুর্গাকে সিদ্ধিদাত্রী রূপে পূজা করার রীতি রয়েছে। নবমীর সন্ধ্যা আরতির পর বিষাদের সুর বাজে সর্বত্র। শারদীয় দুর্গোৎসবের ৪র্থ দিন আজ মহানবমী।চন্দ্রের নবমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করছে মহানবমীর কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা। এদিন নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে মহানবমীর পূজা শেষে যথারীতি দেবীর চরণে অঞ্জলি দিচ্ছেন ভক্তরা। নবমী তিথিতে দেবী দুর্গার আরাধনা হয় দেবী সিদ্ধিদাত্রী রূপে, যা ঐশ্বরিক। তিনি পার্থিব আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন এবং অজ্ঞতা দূর করেন। মূলত আজই পূজার শেষ দিন। কাল (মঙ্গলবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হবে শারদীয় এ দুর্গোৎসব।
মূলত নবমীর দিনই পূজার শেষ হয়। তবে বিজয়া দশমীর দিনেও বেশ কিছু আনুষ্ঠানিকতা থাকে। বিজয়া দশমীতে দুর্গা দেবীর দশমী বিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জন অনুষ্ঠিত হয়।এ ছাড়া সধবা নারীরা মত্ত হন সিঁদুর খেলায়। মুখ রঙিন করে হাসিমুখে মাকে বিদায় জানানোর জন্যই সিঁদুর খেলা। এ ছাড়া হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিবাহিত নারীদের জন্য সিঁদুর একটি গুরুতপূর্ণ অংশ। তাই মাকে বিসর্জনের আগ পর্যন্ত তারা একে অপরকে সিঁদুর লাগিয়ে মিষ্টিমুখ করেন, নাচগান করেন। যেন সারাটা বছর এমন আনন্দেই কাটে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিভিন্ন পূজা মন্ডপ গুলোর অন্যতম টাউন সার্বজনীন পূজা মণ্ডপ, জয় গবিন্দ মন্দির পূজা মন্ডপ, শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীবারি, শ্রী শ্রী জয়কালী দক্ষিন কালিবারি , পাইকপাড়ায় স্বর্গীয় ননীগোপাল সাহার বাড়ি মন্ডপ, মেড্ডা কালভৈরব মন্দীর, মধ্যপারা শ্রী রামকৃষ্ণ মন্দির, সড়ক বাজার রোড জগন্নাথ মন্দির, কান্দিপারা , কাজীপাড়া, শিমরাঈলকান্দি ঘুরে দেখা যায় মহানবমী তে ভক্তদের ভির ও তাদের জীবনে বিষয় চেয়ে দেবী দূর্গার কাছে প্রার্থনা করছেন ।
সনাতন বেদ শাস্ত্র মতে মহিষাসুরকে বধ করার জন্য দেবী পার্বতী দুর্গার রূপ ধারণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয় মহিষাসুর ছিল এক ভয়ংকর অত্যাচারী ও শক্তিশালী অসুর, যার সঙ্গে যুদ্ধ করা সমস্ত দেবতার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছিল।অসুর রাজ ও দৈত্যসেনাদের বিশ্বাস হয়ে যায় যে, তারা এতটাই ক্ষমতাশালী যে স্বর্গরাজ্য জয় করে মর্ত্যবাসীদের ওপর রাজ করতে সক্ষম।স্বর্গরাজ্যে হানা দিলে সব দেবতা মহাদিদেবের কাছে ছুটে যান এবং এ সমস্যা থেকে প্রতিকার চেয়ে প্রার্থনা করেন।
সে সময় মহাদেব জানিয়েছিলেন, অসুরকুলকে বিনাশ করতে পারবেন একমাত্র মহিষমর্দিনী। তাই আদিশক্তি দুর্গার রূপ ধারণ করে মহিষাসুরের সঙ্গে টানা ৮ দিন যুদ্ধ করে নবম দিনে মহিষাসুরকে বধ করেন।সেই থেকে শুরু হয় দুর্গাপূজা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ওসি আসলাস হোসেন বলেন, সনাতন ধরমালম্বীদের পূজা শুরু থেকে সদর উপজেলার ৭৯ মণ্ডপেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।যাতে কোন প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরী হতে না পারে।

Comments
No comments
Add a comment: