লাশ আনতে গিয়ে নিজেই ফিরলেন লাশ হয়ে

প্রতিবেশী এক ব্যক্তির লাশ আনতে নদী পথে ট্রলার নিয়ে গিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আবদুস ছালামসহ এলাকার সাতজন। কুয়াশার রাতের অন্ধাকারে বিপরীত দিকে থেকে আসা অপর একটি ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে নিখোঁজ হন ব্যবসায়ী আবদুস ছালাম।
পরে অনেক খোজাখুজি করে নিখোঁজের ১১ ঘণ্টা পর বুধবার সকাল ৬টার দিকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী থেকে ছালামের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার দক্ষিণ চরবিশ্বাস এলাকায় ট্রলার দুটির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
আবদুস ছালাম পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চর বিশ্বাস ইউনিয়নের দক্ষিণ চর বিশ্বাস গ্রামে ৬ নং ওয়ার্ডের সায়েদ খানের ছেলে। তিনি একজন ডেকোরেটর ব্যবসায়ী ছিলেন। তার মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয়রা জানায়, নিখোঁজ হওয়ার পর ছালামের সন্ধানে সারা রাত তেঁতুলিয়া নদীতে খোঁজার পর সকাল ছয়টার দিকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করার পর দেখা যায় মুখমণ্ডলে আঘাত ও রক্ত মাখা। ধারনা করা হচ্ছে সংঘর্ষের সময় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে নদীতে পড়ে যায় ছালাম।
এদিকে ট্রলারের এক যাত্রী শাহীন হাওলাদার জানান, এলাকার এক ব্যবসায়ী আনসার ব্যাপারী ঢাকায় মারা যায়। তাঁর লাশ গলাচিপার পানপট্টি এলাকা থেকে আনার জন্য আবদুস ছালামসহ তাঁরা সাতজন ট্রলারে রওনা হন। পথিমধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে ট্রলারটি তেঁতুলিয়া নদী অতিক্রম করার সময় টিসিবির পণ্যবোঝাই একটি ট্রলারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। তাঁরা ছয়জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও আবদুস ছালাম নিখোঁজ হন। পরে সকালে তাঁর লাশ পাওয়া গেছে। জানা যায় সংঘর্ষের সময় আঘাত প্রাপ্ত হয়ে নদীতে পরে যায় ছালাম।
এ বিষয়ে টিসিবির পণ্যের ডিলারের প্রতিনিধি মাসুম মৃধা জানান, রাতে কুয়াশার কারণে দুটি ট্রলার দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফেরদৌস আলম বলেন, নিখোঁজ ছালামের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

Comments
No comments
Add a comment: