রাজশাহী দুর্গাপুরে চাইনিজ কুড়ালের কুপে এক যুবক আহত

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার কিশমত গনকৈড় ইউনিয়নের কয়ামাজমপুর গ্রামের কাজিমুদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীর, (৪৫) কে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়া হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে সোহান (২২) ও রবিন (২২) নামের দুই যুবক।
প্রত্যক্ষদর্শী হাবিব ও নাজমুল জানান, ৩০ নভেম্বর সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর ও কাঠ ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান (৫০) মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়, যদিও তাদের দুইজনকে মিমাংসা করে পাঠিয়ে দেন তারা, কিন্তু কিছুক্ষন পরে জাহাঙ্গীর কয়ামাজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠের পাশের দোকান বসে ছিলো।
পরবর্তীতে এমন হামলার ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আনিছুরের দ্বারা হতে পারে বলে ধারনা করছেন। নীরেশ নামের এক স্থানীয় দোকানদার বলেন। জাহাঙ্গীর আমার দোকানে সিগারেট নিয়ে বসে ছিলো জ্বালাবে ঠিক তখন রবিন নামের একজন তাকে ডেকে কয়ামাজমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে যায়,। এবং তার কিছুক্ষণ পরে চিৎকার শুনি এবং রক্তাক্ত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে দেখতে পাই, এসময় ২জনকে যুবককে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখি।
প্রত্যক্ষদর্শী হাবিব বলেন, আমার দোকানের সামনেই এই ঘটনা ঘটেছে, চিৎকার শুনতে পেয়ে দেখি সোহান ও রবিন চাইনিজ কুড়াল দিয়ে জাহাঙ্গীরকে আঘাত করছে, সে সময় দোকান থেকে অনেকেই এগিয়ে আসলে তারা দু’জন পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আনিছুর কে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও নাম্বার বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেন, এলাকায় কিশোর গ্যাং দৌরাত অনেক বেড়ে গিয়েছে, এর জন্য ঠিকমতো চলাচল করাই কঠিন, মাদকের ভয়াল থাবায় নষ্ট করেছে যুব সমাজকে । এই এলাকায় প্রায় ১০-১৫ জন কিশোর গ্যাংর সদস্য আছে যাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না, আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ঘটনার পর দুর্গাপুর থানার উপ-পরিদর্শক এসআই বিজয় হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে দুর্গাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) নাজমুল হক বলেন,। আমরা সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি,, পরিস্থিতি আপাতত শান্ত, তবে এখন কেউ কোন লিখিত অভিযোগ করি নাই অভিযোগ পেলে, পরবর্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
জাহাঙ্গীরের স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, আমরা এর সঠিক বিচার চাই। বর্তমানে আহত জাহাঙ্গীর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বজনরা।

Comments
No comments
Add a comment: