ভূঞাপুর সরকারি হাসপাতালে বিনা রশিদে টাকা নেয়ার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামসহ আশেপাশের ঘাটাইল, কালিহতী, গোপালপুর উপজেলার অনেক রোগী আসে এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সেবা নিতে। আর এই সব গরীব অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে অন্যান্য সেবার পাশাপাশি এখানে আছে সিজারিয়ান অপারেশনের ব্যবস্থা, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স রে, ইসিজি,ডেন্টাল ইউনিটসহ প্যাথলজিক্যাল বিভিন্ন পরীক্ষা নিরিক্ষার ব্যবস্থা।
এতে সেবা গ্রহীতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি রশিদের মাধ্যমে নেওয়ার কথা থাকলেও আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে ২০০-৪০০ টাকা, এক্স রে ২০০-৪০০ টাকা, ই সি জি ৮০-৩০০ টাকা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। আবার অধিকাংশ সেবা গ্রহীতাদের রশিদ না দিয়েই টাকা আদায় করে থাকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন এইসব পরীক্ষা নিরিক্ষা করার জন্য রোগীদর কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উদ্বুদ্ধ করে থাকে। আর এই টাকা সঠিকভাবে সরকারি কোষাগার জমা হয় কি না? জমা হলেও কত পরিমান জমা হয় তা দেখার কেউ নেই!
এছাড়াও এই হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত ১টি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও নানা কারণ দেখিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সেটি বন্ধ রয়েছে। এতে করে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর যাতায়াত করতে হতে হয় নানান হয়রানির শিকার, দিতে হয় অধিক অর্থ।
চিকিৎসা নিতে আসা সেবা গ্রহীতা আতোয়ার রহমান মিন্টু জানান, আমি ই সি জি করে ৮০ টাকা দিয়ে রশিদ চাইলে কর্তব্যরত নার্স বলেন ইনচার্জের অনুমতি নিয়ে আসেন, তার অনুমতি ছাড়া রিসিভ দেওয়া নিষেধ। ঐ দিন ১৪ টা ই সি জি করা হলেও কাউকে রশিদ দেয় নি।

এছাড়া নানা অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে, তিনি আউটডোরে রোগী দেখার যে টিকিট দেন তা ফটোকপি করে, এখানে টিকেট প্রতি নেন পাঁচ টাকা করে সরকারি ভাবে ছাপানো টিকিট দেয় না। হাসপাতালের ভিতরে ফুলের টব বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির কাছ থেকে টাকা নিয়ে লাগিয়েছেন বলে জানা যায়। এলাকাবাসী মনে করে কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সঠিক তদন্ত হলে আরো অনেক অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যাবে।
সরকারি হাসপাতালে এমন নিয়ম আছে কি না জানতে চাইলে দায়িত্ব প্রাপ্ত টিএসও আব্দুস সোবহান বলেন হাসপাতাল উন্নয়নের জন্য আমি আমার মত করে কাজ করে যাচ্ছি। এক্স রে ফিল্ম শেষ হয়েছে আমি আমার ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে কিনে এই সেবা চালু রেখেছি। আমাকে কাজ করতে দিন ডিস্টার্ব করবেন না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন কর্মকর্তা ডাঃ মিনহাজ বলেন, সরকার নির্ধারিত ফি-এর চাইতে বেশি নেওয়া, রশিদে টাকার পরিমাণ না লিখা দুটোই অপরাধ। যদি এরকম কোন বিষয় প্রমাণিত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Comments
No comments
Add a comment: