বিভাগের দাবিতে উত্তাল নোয়াখালী

নোয়াখালীকে স্বনামেই বিভাগ ঘোষণার দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে বৃহত্তর নোয়াখালী।
ত্রিপুরার ভগ্নাংশ কুমিল্লার সঙ্গে নয়, নোয়াখালীকে তার নিজস্ব পরিচয়ে বিভাগ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে জেলার জনগণ।জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এক মানববন্ধন, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল আয়োজন করে নোয়াখালী বিভাগ বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ।"কুমিল্লার সঙ্গে বিভাগ দিলে বাঁধবে লড়াই রাজপথে"—এই স্লোগানে মুখরিত বিক্ষোভ মিছিলটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে নোয়াখালী প্রেসক্লাব ও টাউন হল মোড় ঘুরে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে মানববন্ধনে মিলিত হয়।এ আন্দোলনে নোয়াখালীর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র অধিকার পরিষদ, সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ নোয়াখালী সরকারি কলেজ, চৌমুহনী সরকারি সালেহ আহমেদ কলেজ ও মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। তাদের স্লোগানে ও উপস্থিতিতে স78;গ্র শহর প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, “ধনে, মনে, জনে, ইতিহাস ও ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ২০০ বছরের পুরনো জেলা নোয়াখালী। এ জেলা দেশের জাতীয় অর্থনীতির প্রায় ৩৫% নিয়ন্ত্রণ করে। ৭ লক্ষাধিক প্রবাসীর পাঠানো রেমিট্যান্সে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনসহ অসংখ্য জ্ঞানী-গুণীর জেলা নোয়াখালীই প্রশাসনিক বিভাগের যোগ্য দাবিদার।”
তারা আরও বলেন, “ঢাকা থেকে মাত্র ৮০ কিলোমিটার দূরের কুমিল্লার সঙ্গে নয়, বরং ১৬০ কিলোমিটার দূরের স্বয়ংসম্পূর্ণ নোয়াখালীকেই নবম প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে ঘোষণার দাবি জানাই। গণমানুষের অনুমতি ছাড়া, কিংবা গণশুনানি ছাড়া যদি কুমিল্লার সঙ্গে নোয়াখালীকে বিভাগে যুক্ত করার চেষ্টা করা হয়, তবে নোয়াখালীর জনগণ তা কোনোভাবেই মেনে নেবে না। প্রয়োজনে আমরা চট্টগ্রামের সঙ্গেই থাকতে রাজি, কিন্তু কুমিল্লার সঙ্গে নয়।”তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “বিভাগ নিয়ে কোনো চক্রান্ত হলে নোয়াখালীর তরুণ প্রজন্ম প্রয়োজনে আদালতের শরনাপন্ন হবে। নোয়াখালীকে বিভাগ ঘোষণার আগ পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব।”আন্দোলনে নোয়াখালীর বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও শ্রেণি-পেশার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Comments
No comments
Add a comment: