ফেনীতে পঞ্চবটীর শিশুতোষ নাটক রাজকন্যা কঙ্কাবতী মঞ্চস্থ

ফেনীতে পঞ্চবটী সাংস্কৃতিক সংগঠনের চতুর্থ প্রযোজনা রূপকথার গল্প অবলম্বনে শিশুতোষ নাটক " রাজকন্যা কঙ্কাবতী " মঞ্চস্থ হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চে এই নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। নাটকের গল্পে দেখা যায়, এক ছিল রাখাল। তিনকূলে তার কেউ ছিল না, একটি মাত্র গাভী ছাড়া। গাভীটি সারাদিন ঘুরে ফিরে ঘাস খেতো আর রাখাল গাছের ছায়ায় বসে একমনে বাঁশি বাজাতো।
অন্যদিকে এ রাজ্যের রাজার একমাত্র কন্যা কঙ্কাবতী। কঙ্কাবতী ছিলো রাজার খুব প্রিয়। আর কঙ্কাবতীর প্রিয় ছিলো তার বাগানের কনকচাঁপা ফুল। একদিন সকালে রাজকন্যা ফুল তুলতে গিয়ে দেখে তার পুরো বাগান লন্ডভন্ড। এই কান্ড ঘটিয়েছে রাখালের গাভীটি। রাজকন্যা তো রেগে আগুন। রাখাল ভয়ে কাবু। কনকচাঁপা ফুলের জন্য রাজকন্যার কান্না দেখে রাজা রাখালকে আদেশ করলেন- যদি তুমি পরীস্থান থেকে কনকচাঁপা ফুল ও গাছ আনতে পারো তবেই ফেরত পাবে তোমার গাভীটি।

রাখাল তখন অসাধ্যকে সাধন করার জন্য ডাইনী বুড়ি, কালো দৈত্য সবাইকে উপেক্ষা করে পরীস্থানে পৌঁছলো এবং কনকচাঁপা ফুল নিয়ে রাজার সামনে উপস্থিত হলো। রাখালের বীরত্বে খুশি হয়ে রাজা অর্ধেক রাজত্ব সহ রাজকন্যা কঙ্কাবতীর সাথে রাখালের বিয়ে দিয়ে দিলেন।
গৌতম সাহার রচনায় ও পৃথ্বীরাজ চক্রবর্তীর নির্দেশনায় নাটকটিতে কুশীলব ছিলেন -
রাখাল চরিত্রে মোহাম্মদ মহিব্বুল আলম ভূঁইয়া,রাজা চরিত্রে শাদমান আলম শান,রাজকন্যা চরিত্রে মুসফিরাহ উদ্দীন আন্তুম,ডাইনী চরিত্রে আশফিয়া মানহা,কালো দৈত্য চরিত্রে মৌমিতা ভৌমিক (নিতু),বাসন্তী মাহির দাইয়ান ভূঁইয়া,প্রহরি চরিত্রে মুমায়রা সোহা,কোতোয়াল চরিত্রে অথৈ দাস।
পরী চরিত্রে অভিনয় করেছে- অদ্রিজা রানী শীল,সুবাইতা সাফরিন,সুমায়রা সোহা,নুসরাত জাহান অবনী,লিয়ানা আফরিন মাইশা,রেদওয়ান ইসলাম (রাইসা),কাজী জুয়াইরিয়া আলম শারা,লুবাবা আনোয়ার স্নেহা, জান্নাতুল ফেরদাউস জান্নাত।

নাটকটিতে মঞ্চ অধিকর্তা ছিলেন মন্দিরা বিশ্বাস,প্রযোজনা অধিকর্তা ছিলেন বিধান চন্দ্র শীল, অভিজিৎ দাস, রিপন পাল। নাটকটি মঞ্চায়নে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর লুৎফুর রহমান খোকন হাজারী। জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা এসএমটি কামরান হাসানসহ জেলার সকল সাংস্কৃতিক ও নাট্য সংগঠক,কর্মী এবং বিপুল সংখ্যক দর্শক নাটকটি উপভোগ করেন।

Comments
No comments
Add a comment: