প্রধানমন্ত্রী ঝুঁকি নিয়ে স্কুলগুলোকে জাতীয়করণ করেন

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ রেজওয়ান হায়াত বলেন, আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে বছরে যে বেতন দেয়া হয় তা দিয়ে কিন্তু বছরে একটি করে পদ্মা সেতু বানাতে পারি। তাহলে সরকার আমাদের উপর হিউজ পরিমাণ ইনভেস্ট করেন। আমাদের মতো দেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই আপনাদের নিজস্ব প্রজ্ঞা দিয়ে, সততা দিয়ে, আন্তরিকতা দিয়ে ক্লাসে বাচ্চাদের শিক্ষা দেন।
উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শনিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোয়ন্ননে উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশ স্বাধীনের পর বঙ্গবন্ধু স্কুলগুলোকে জাতীয়করণ করেন। তারপর তার সুযোগ্য কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলগুলো জাতীয়করণ সহ অনেকদের চাকরির ব্যবস্থা করে দিলেন। তিনি আমাদের ভালবাসেন বলে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলগুলোকে জাতীয়করণ করেছেন। তিনি চান এদেশের শিক্ষার মানটা আরও উন্নতি হউক। দেশটা এগিয়ে যাক। তার বাবার সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন ছিল সেটি বাস্তবে পরিণত হউক। আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে, আন্তরিকতার সাথে পালন করি। এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে নেব। যাতে করে আমাদের সন্তানরা শিক্ষিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ শামসুল আরেফীনের সভাপতিত্বে ও কল্যাণী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুফিয়া বেগমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা শিক্ষা অফিসার এএম শাহজাহান সিদ্দিক, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু নাসের শাহ মাহবুবার রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুসা নাসের চৌধুরী, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তানজিনা আফরোজ, জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হান্নান, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার ওয়াজেদ আলী সরকার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমান, কৈকুড়ী ইউনিয়ন চেয়ারমান নুর আলম, উপজেলা আ.লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক শাহেদ ফারুক সহ উপজেলার ১৭৮টি প্রাথমিক স্কুলের সহকারী শিক্ষক ও প্রধানগণ।
উল্লেখ্য, শাহ রেজওয়ান হায়াতের গ্রামের বাড়ি পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ী ইউনিয়নের চালুনিয়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের সাবেক উপসচিব মৃত শাহ আব্দুর রউফের ছেলে ও সাবেক এমপি, ভাষাসৈনিক ও বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহ আব্দুর রাজ্জাকের ভাতিজা। তিনি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর যোগদান করেন। যোগদানের পর রংপুরে এটাই তার প্রথম সফর। মহাপরিচালকের যোগদানের পূর্বে তিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন, কমিশনার হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত ছিলেন। তিনি বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৩ তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে যোগদান করেন। তিনি নেত্রকোণা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে চাকরি জীবন শুরু করেন। তিনি টাঙ্গাইল, খুলনা, বগুড়া জেলা প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন।
এছাড়াও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং ভূমি মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সভা, সেমিনার ও প্রশিক্ষণের জন্য ভারত, শ্রীলংকা, চীন, ভিয়েতনাম, কানাডা, মালয়েশিয়া, আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন শাহ রেজওয়ান হায়াত।

Comments
No comments
Add a comment: