পাইকগাছা মসজিদ ও কবরস্থানের জমি দখল উপরন্তু মামলা দিয়ে হয়রানীর অভিযোগ

পাইকগাছায় মসজিদ ও কবরস্থানের জমি বছরের পর বছর অবৈধ দখলে রেখে একের পর এক মসজিদ কমিটি ও জমিদাতাদের নামে মামলা করে হয়রানী এবং পত্রিকায় মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের ঘোষাল গ্রামে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ঘোষাল গ্রামের বায়তুন নূর জামে মসজিদ ও কবরস্থানের জন্য একই গ্রামের সাবেক প্রধান শিক্ষক রওশন আলী গাজী ও এ্যাড শফিকুল ইসলাম কচি'র পরিবারের ১৬ জনে বিভিন্ন দাগ ও খতিয়ানে ২৬ শতাংশ জমি গত ১২ আগষ্ট ১৫ ইং তারিখে ২৪৩৩ নং দলিল মুলে দান করেন। মসজিদ কমিটি নিজেদের জমি দখল বুঝে নেয়ার জন্য জমি পরিমাপ করলে দেখা যায় উক্ত জমির মধ্যো হতে এস এ ৮৬ খতিয়ানে ২৮২ দাগ, বি আর এস ৩০৮ খতিয়ানে ৮০,৮১ দাগ হতে পার্শ্ববর্তী আব্দুল আজীজ সুকৌসলে প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ জমি দখল করে রেখেছে। জমি ছেড়ে দিতে বল্লে আব্দুল আজিজ গাদাইপুর ইউনিয়ন পরিষদে ৪০/২২ ইং মামলা করেন। মামলায় উভয় পক্ষের শুনানীতে জমির সঠিক কাগজপত্র দেখাতে না পারায় বাদী আব্দুল আজিজকে গত ২২/০৫/২০২২ ইং তারিখে মসজিদের অনুকুলে জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য চেয়ারম্যান শেখ জিয়াদুল ইসলাম জিয়া রায়তে উল্লেখ করেন।
গত ১৪মে ২২ ইং তারিখে আব্দুল আজিজ নির্বাহী আদালতে ১৪৪ ধারার মামলা করে যার নাং ১৮৩/২২ যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
গত ২১ জুলাই ২২ইং তারিখে মসজিদ কমিটি কবরস্থান ও অনন্যা দাগ খতিযানের জমি ঘেরা বেড়া দিলে আব্দুল আজিজ আবারো পাইকগাছা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন এবং ওসির মধ্যস্ততায় একবার বসাবসিও হয়। সেসময় তিনি মসজিদের অনুকুলে জমি ছেড়ে দোয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করেন এবং জমি পরিমাপ করলেও অজ্ঞাত কারণে জমি ছেড়ে না দিয়ে গত ২৯/১১/২২ ই তারিখে পাইকগাছা দেওয়ানী আদালতে ৩৮২ নং মামলা করেন। আব্দুল আজিজ প্রতিটি মামলায় মসজিদ কমিটি ও জমিদাতাদের আসামি করায় এলাকার সাধারণ মানুষসহ মসজিদের মুসল্লীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হযেছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ জানান, আব্দুল আজিজ মসজিদ ও কবরস্থানের সাড়ে ৫ শতক জমি দখল করে রেখেছে আবার আমাদের নামে সময়ে অসময়ে বিভিন্ন দপ্তরে মামলা দিয়ে হয়রানী করছে। তিনি মিথ্যা তথ্য সরবরাহ করে গত ১ ডিসেম্বর খুলনা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকে "পাইকগাছায় বাড়ির সামনে ঘেরা বেড়া দিয়ে অবরুদ্ধ" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে আমাদের সমাজে হেয় করছে।
আব্দুল আজিজের কাছে জানতে চাইলে তিনি থানায় আছেন পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন। পাইকগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জিয়াউর রহমান বলেন, আমি উক্ত বিষয় নিয়ে বসাবসি করে মসজিদের জমি ছেড়ে দেযার জন্য বলেছিলাম এবং মানবিক কারণে বাদীকে রাস্তার জন্য মসজিদ কমিটিকে বলে ছিলাম।


Comments
No comments
Add a comment: