পটিয়ায় কালারপোল সেতু উদ্বোধনে দারিদ্র বিমোচন নামিয়ে এনেছি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসে তখন দেশের যোগাযোগ ব্যাবস্হা একেবারেই নাজুক ছিল। আমরা সেই সময় সারাদেশে ১৯ হাজার ছোট-বড় সেতু নির্মান করেছি। দেশের সবকটি বিমান বন্দর পুনঃনির্মাণ করেছি। নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মাসেতু নির্মাণ করেছি। এভাবে সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যাবস্হা উন্নিত করে এশিয়ান হাইওয়ের সাথে যুক্ত হয়ে অর্থনৈতিক চাকা সচল করতে কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, সারা বিশ্বব্যাপী যে অর্থনৈতিক মন্দাভাব দেখা দিয়েছে আমার দেশের যেন খুব বেশি ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সতর্ক হওয়ার অনুরোধ করেন। দেশের মানুষকে উৎপাদনমুখী, সাশ্রয়ী ও মৃতব্যায়ী হওয়ার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সকাল দশটায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতাধীন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে দেশের ২৫টি জেলায় নবনির্মিত শত সেতুর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। প্রধান অতিথি হিসেবে সরকারি বাসভবন (গণভবন) থেকে এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী সেতুগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেন। অনুষ্ঠানে এসব সেতুর একটি ভিডিও-ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় শেখ হাসিনা বলেন, এ সেতু গুলো চালু হওয়ার ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে, মানুষের জীবনযাত্রা সহজতর হবে, উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। সবার আর্থিক উন্নতি সাধন হবে। ১৬ টি রপ্তানিমুখী মিলকারখানার তাদের উৎপাদিত পন্য সহজে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারবে। সেতু গুলো নির্মাণের ফলে প্রত্যেকটা অঞ্চলে আর্থসামাজিক উন্নতি ঘটবে। তবে করোনা ভাইরাস এবং ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সারাবিশ্বে যে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিচ্ছে সেখানে আপনাদের সবাইকে একটু সতর্ক হতে হবে। সাশ্রয়ী হতে হবে এবং মৃতব্যয়ী হতে হবে। নিজেদের সঞ্চয় বাড়াতে হবে। তেল-গ্যাস পানি বিদ্যুৎতের ব্যবহার সীমিত করতে হবে। আর আপনাদের প্রত্যেকটা এলাকায় যেখানে খালি জমি আছে সেখানে যত বেশি পারবেন খাদ্য উৎপাদন করবেন। ফল, তরি-তরকারি যেটাই পারেন উৎপাদন করবেন। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, ভেড়া যা কিছু পান সেগুলো পালন করতে হবে অর্থাৎ নিজেদের উপার্জন নিজেদের করার চেষ্টা করতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, পৃথিবী একটা গ্লোবাল ভিলেজ, তাই সারাবিশ্বে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সে অভিঘাতটা বাংলাদেশেও আসে। সব জায়গায় দাম বেড়ে যাওয়াতে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের খুবই সাশ্রয়ী হতে হবে। কোনো অপচয় করা যাবে না। আন্তর্জাতিকভাবে আজকে যে খাদ্য ঘাটতি দেখা দিচ্ছে, সমস্যা দেখা দিচ্ছে সেই সমস্যা থেকে বাংলাদেশের মানুষ যেন মুক্ত থাকে সেটাই আমাদের প্রচেষ্টা। প্রত্যেকটি পরিবার তাদের নিজেদের জন্য সেই চেষ্টা করতে হবে। শেখ হাসিনা আরো বলেন, আমরা আছি আপনাদের পাশে, সারা বাংলাদেশের উন্নয়নটাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০৪১ ঘোষণা দিয়েছি, এ ৪১ এ আমরা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশের কোনো মানুষ ভূমিহীন বা গৃহীন থাকবে না, সেই নীতিতে আমরা অটল রয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় থাকা এ ১৪ বছরে বিভিন্ন মহাসড়কে ১ লাখ ১৩ হাজার ৩০৩ মিটার সেতু পুনঃনির্মাণ ও ২১ হাজার ২৬৭ মিটার কালভার্ট করেছি। মহাসড়কগুলো আরও উন্নত করে দিচ্ছি যাতে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়। আজকের শত সেতু খুবই আশ্চর্য বিষয়, একই সঙ্গে শত সেতু নির্মাণ করা এবং সেগুলোর উদ্বোধন করা সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছিলাম। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সমগ্র বাংলাদেশে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি। এটা একটা আনন্দের বিষয়। কারণ একসঙ্গে শত সেতু উদ্বোধন ঐতিহাসিক ঘটনা। এর আগে এমন ঘটনা ঘটেনি বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং এ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবিএম আমিনুল্লা নূরী।প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
এদিকে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় কালারপুল ওয়াহিদা আখতারুজ্জামান সেতু উদ্ধোধনের সময় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন চট্রগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান, এসময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এমপি, মোসলেম উদ্দিন আহমদ এমপি, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সাবেক সাংসদ চেমন আরা তৈয়ব, পটিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আতিকুল মামুন, পটিয়া পৌরসভা মেয়র আইয়ুব বাবুল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাকিবুল ইসলাম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারিক রহমান, পটিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) রেজাউল করিম মজুমদার, পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম,চেয়ারম্যান সমিতির সভাপতি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম,সাধারণ সম্পাদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সেলিম প্রমুখ

Comments
No comments
Add a comment: