নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বেহাল দশা

নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ১৫০ শয্যা থেকে ১৯৯৮ সালে উন্নীত করা হয়েছে ২৫০ শয্যায়। কিন্তু আগের জনবল দিয়েই প্রতিদিন সেবা দিতে হচ্ছে ছয় শতাধিক রোগীকে। মারাত্মক জনবল সংকটে কাংখিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে রোগীরা।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন রোগী ভর্তি থাকে গড়ে পাঁচ শতাধিক। আর বহির্বিভাগে টিকিৎসা নিচ্ছে ১৫০০ রোগী। হাসপাতালের ২২টি ওয়ার্ডের সবকয়টি কানায় কানায় পূর্ণ। তাই শয্যা না পেয়ে মেঝে বারান্দা এমনকি ওয়ার্ডের বাইরে সিড়ির পাশে ঠাঁই নিতে হচ্ছে রোগীদের। অতিরিক্ত রোগীর চাপে ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা। ২৫০শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী সরকারি জেনারেল হাসপাতালে জরুরী ওষুধপত্রের পাশাপাশি চিকিৎসক ও সেবিকাদের ভালো সেবার প্রত্যাশায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন রোগী সাধারন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। এক শ্রেনীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতির কারণে সুস্থ হতে এসে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন রোগীরা।জেনারেল হাসপাতালের ভেতর-বাইরে ময়লা-আবর্জনা এবং ওষুধের বৈজ্যের কারনে খোদ কর্মচারীরাও চিকিৎসাসেবা নেয়ার ভরসা পান না। হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও সুই÷4;ার থেকে শুরু করে কেউ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে অনীহা পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে ভূমিকাহীন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, শয্যা সংখ্যার চাইতে অতিরিক্ত রোগী ও তাদের স্বজনদের কারণেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা যায় না।
রোগী ও স¦জনদের অভিযোগ হাসপাতারে শয্যা সংকটের পাশআপাশি ভোগান্তি বেড়েছে অপরিচ্চন্নতা আর অব্যবস্থাপনার কারনে। হাসপাতালের ওয়ার্ডগুলোতে তেলাপোকা, ছারপোকা, মশা, মাছিসহ বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের উৎপাত। জরুরি বিভাগের ঠিক পাশেই রয়েছে খোলামেলা ময়লার ডাস্টবিন। ডাস্টবিনের চারপাশের রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। হাসপাতালে আসা রোগীদের যেন এই আবর্জনার স্তূপ দিয়েই স্বাগত জানানো হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা হাসপাতালের টয়লেটগুলোর। নাকে-মুখে কাপড় না চেপে সেগুলোর সামনে দিয়েই যাওয়া দায়। আর ভেতরের অবস্থা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। টয়লেট উপচে পড়ছে ময়লা পানি। বেসিন উপচে পড়েছে ময়লায়। মেঝে খাবারের উচ্ছিষ্ট থেকে শুরু করে মল-মূত্রে সয়লাব।
হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্সও স্বীকার করলেন, জনবল সংকটে বিগ্নিত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ১৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎক, নার্স, ৩য় ও ৪র্থ শ্রেনীর জনবল কম আছে ৪৭ জন। ২৫০ শয্যার জন্য আরও লোকবল নিয়োগ দেয়ার প্রয়োজন মনে করছেন হাসপাতালের চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা।

Comments
Nurunnabi Nobin.
ধন্যবাদ
Add a comment: