নোয়াখালী জেলা পুলিশের "পদচিহ্ন " স্মারক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

মঙ্গলবার নোয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এর উদ্যোগে জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার মোর্তাহীন বিল্লাহর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোঃ দিদার-উল-আলম।
বিশেষ অতিথি ডাঃ মাছুম ইফতেখার, সিভিল সার্জন, নোয়াখালী, অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী রফিক উল্যাহ, সভাপতি, জেলা কমিউনিটি পুলিশিং সমন্বয় কমিটি, নোয়াখালী, মোহাম্মদ ইব্রাহীম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(ক্রাইম এন্ড অপস.), বীর মুক্তিযোদ্ধা জিএস আবুল কাশেম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মিয়া মোহাম্মদ শাহজাহান, জেলা সমন্বয়ক, জেলা কমিউনিটিং পুলিশিং, নোয়াখালী, এডভোকেট পাপ্পু সাহা, সভাপতি, হিন্দুধর্ম কল্যাণ ট্রাস্ট, নোয়াখালী, সাংবাদিক বখতিয়ার শিকদার, সভাপতি, নোয়াখালী প্রেসক্লাব, সাংবাদিক আবু নাছের মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক, নোয়াখালী প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক জামাল হোসেন বিষাদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।
মূখ্য আলোচক জনাব মোঃ শহীদুল ইসলাম পিপিএম(বার), উপ-পুলিশ কমিশনার, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও সাবেক পুলিশ সুপার, নোয়াখালী।সভাপতিত্ব করেন জনাব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, বিপিএম, পিপিএম, পুলিশ সুপার, নোয়াখালী এঁর পরিবর্তে উপস্থিত ছিলেন জনাব বিজয়া সেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), নোয়াখালী।
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. দিদার-উল-আলম মহোদয় বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে ২৫ শে মার্চ রাতে বাংলাদেশ পুলিশ রাজারবাগ থেকে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তুলে। একনলা বন্দুক দিয়ে পাক হানাদারদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ চালিয়ে যায়। তিনি(এসপি শহিদুল) নিজ জেলা হিসেবে নোয়াখালীতে কাজ করে গেছেন। শহিদুল ইসলাম 'জাগ্রত হোক বিবেকবোধ' বইটি পড়ে আমি মুগ্ধ হয়েছি।
মূখ্য আলোচক মোঃ শহীদুল ইসলাম পিপিএম(বার) বলেন, একটি মহতী কাজের অংশ হিসেবে আমরা একত্রিত হয়েছি। গত ২ বছরের সাফল্য ও গৌরবের স্মারকগ্রন্থ পদচিহ্ন মোড়কটি আজকে উন্মোচন করা হয়েছে। সৃজনশীল বিষয় নিয়ে আমার অন্তরে আলাদাভাবে কাজ করে। জাগ্রত হোক বিবেকবোধ বইটি আমি রচনা করেছি, ১০০ টি গল্প নিয়ে।
আমরা আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করি। এর বাইরে অনেক মানবিক কাজ করা হয়ে থাকে, যেগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ পায় না। সমাজকে সচেতন করা। পুলিশের দায়িত্ব পালন করে, অনেক সামাজিক দায়িত্ব পালন করে থাকি। আমার পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছি।
এর বাইরে সামাজিক দায়িত্ব। ক্ষমতা একদিন শেষ হয়ে যাবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। মানুষ যুগ যুগ ধরে বাঁচতে চাই। কবি বলছেন, মানুষ দেহ ধারন করে বাঁচতে পারে। কিন্তুু আজীবন বাঁচতে হলে, কর্মের মাধ্যমে বেঁচে থাকতে হবে। পদচিহ্ন বইটি একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। বইটিতে ঐতিহাসিক নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে।
গত ২ বছরের অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য বইটিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যাওয়ার সময় শুধু একটি স্মৃতিচিহ্ন রেখে গেলাম। অদিতি হত্যাকান্ড একটি স্পর্শকাতর ছিল। দ্রুত সময়ে আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। বালিংটন মোড়ে মা মেয়ে হত্যাকান্ডে দ্রুত সময়ে আসামী গ্রেফতার করে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। কবিরহাট থানাধীন চাপরাশিরহাট বাজারে স্বর্ণ দোকানে ডাকাতি ও নাইট গার্ড হত্যাকান্ডে জড়িত আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। আমি নোয়াখালী জেলার মানুষের ভালবাসা পেয়েছি।
আমি আমার সর্বোচ্চটুকু দিয়ে নোয়াখালী জেলার মানুষকে সেবা দিয়েছি। ১৯৭১ সালে নোয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার আবদুল হাকীম স্যার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।শহীদ পুলিশ সুপার আবদুল হাকীম স্যারকে সপরিবারে পাক হানাদাদরা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে তুলে নিয়ে যায়, তারপর থেকে স্যারসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের খোঁজ পাওয়া যায়নি। শহীদ পুলিশ সুপার আবদুল হাকীম স্যারের নামে শিক্ষাবৃত্তি চালু করেছি। আজকের এ দিনটি আজীবন আমার মনিকোঠায় স্বরণ থাকবে।

Comments
No comments
Add a comment: