নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার ইন্ধনে যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় বিএনপি নেতার ইন্ধনে এক যুবককে ডাকাত আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
নিহত যুবকের নাম মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫)। অভিযোগ অনুযায়ী, নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদ (৪৯) এর উপস্থিতিতে ও ইন্ধনে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার পর স্থানীয় বাজারে মিষ্টি বিতরণের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনে সড়কে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার ভুয়া পুলিশের বাড়ির মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের শ্যালক মোহাম্মদ জামাল অভিযোগ করে বলেন, পাঁচ শতাংশ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গত ১০ জানুয়ারি সকালে মনিনগর গ্রামে তার ওপর হামলা চালানো হয়। ওই সময় তার বাবা ওবায়দুল হকসহ তাকেও মারধর করা হয়। হামলায় তার হাত ভেঙে যায় এবং তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে তার ভগ্নিপতি মিজানুর রহমান ওই হামলার বিচার দাবি করতে কালিরহাট বাজারে বিএনপির নির্বাচনী কার্যালয়ে যান। সেখানে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মাসুদের ইন্ধনে ও উপস্থিতিতে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে মিজানকে আটক করা হয়। এরপর নুর মোহাম্মদ বাচ্চু (৬০), তার ছেলে যুবদল নেতা হাফিজ উদ্দিন (৩২), শিহাব উদ্দিন (২২), নুর উদ্দিন (৩৫)সহ ১৫–১৬ জন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মিজানের মাথা ও মুখে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, “আমরা অফিসে বসে নির্বাচনী বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। এ সময় মিজান সেখানে এসে কথাকাটাকাটিতে জড়ায়। পরে সে চলে যায়। এরপর শুনেছি, কে বা কারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তায় ফেলে গেছে। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।” অভিযোগের বিষয়ে জানতে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক মাসুদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত নুর মোহাম্মদ বাচ্চুর ফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত মিজানের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চুরি, অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। তবে এ ঘটনায় সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Comments
Nobin
Thanks
Add a comment: