নোয়াখালীতে খেজুর রস থেকে গুড় উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভবনা

শীত মানেই খেজুর রস আর পিঠাপুলির আয়োজন। খেজুরের রস ও রস থেকে তৈরি গুড় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের চিরায়িত একটি ঐতিহ্য। যুগযুগ ধরে দেশের এই ঐতিহ্য বহন করে আসছে নোয়াখালী দ্বীপ উপজেলা হাতিয়া। গাছিদের মধ্যে কেউ কেউ বংশপরম্পরায়,কেউ বা আবার শীতের মৌসুমে অর্থনৈতিক লাভের আশায় খেজুরের রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরি করেন। দ্বীপ উপজেলা হওয়ায় খেজুরের রসের বাজারজাত করণের উজ্জ্বল সম্ভবনা রয়েছে। চলতি মৌসুমে দ্বীপের ১১টি ইউনিয়ন সহ জেলায় প্রায় ৬৭ হেক্টর জমিতে থাকা খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নোয়াখালীতে প্রতিদিনই বাড়ছে শীত। শীতের আমেজ খেজুর রস সংগ্রহ ও পিঠা তৈরি করে স্বজনদের বাড়ী পাঠানোর আনন্দ বিরাজ করছে গ্রাম থেকে গ্রামাঞ্চলে। দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত গাছিরা গাছে হাঁড়ি বসানোর কাজ করে, পরদিন ভোর থেকে শুরু হয় গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা। রস সংগ্রহ করার পর বাড়ি বাড়ি নিয়ে তৈরি করা হয় গুড়।
শীতে অন্যান্য কৃষি কাজ কম থাকে। নিঝুম দ্বীপে জেলার সব থেকে বেশি খেজুর গাছ রয়েছে। এসময় খেজুর গাছ থেকে ভালো আয় করা যায় এবং খেজুর রস থেকে তৈরী গুড় পুরো নোয়াখালী-ঢাকাসহ দেশের বাহিরেও পাঠানো হয়। যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না থাকায় কাচা রস বিক্রি করা যায় না। জাল দিয়ে গরম করে বিক্রি করলে ভালো দাম পাওয়া যায়। রসের থেকে গুড়ের দাম বেশি পাওয়া যায়। গুড়ের কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা । পর্যটকরা রস খায় এবং গুড় নিয়ে যায়।
তবে গুড়ের পাশাপাশি কাচা রসেরও চাহিদা রয়েছে। রস দিয়ে তৈরি করা হয় পায়েস, সেমাই, বিভিন্ন ধরনের পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের মিষ্টি মধুর খাবার। শীতকালে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে এ খেজুরের রস। গাছের নিচে দাঁড়িয়ে তাজা রসের স্বাদ ও গ্রহন করেন অনেকে।
প্রতি হাডি রস ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করছেন গাচিরা। আর গুড় প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। অনেকে বংশানুক্রমে গাচি ( খেজুরগাছ কেটে রস সংগ্রহ করে যারা) অনেকেই খেজুর গাছ কেটে রস ও গূড় বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছে। তবে এক সময় রস সংগ্রহে মাটির হাডি ব্যবহার করা হতো। এখন প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করা হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬৭ হেক্টর জমিতে ৭৩ হাজার ৪৩৩টি গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ করছে গাছিরা। যার মধ্যে সদরের ১০ হেক্টর, বেগমগঞ্জে তিন, সেনবাগে দুই, চাটখিলে এক, কোম্পানীগঞ্জে পাঁচ, হাতিয়ায় ৩০, সোনাইমুড়ীতে দুই, সুবর্ণচরে ১০ ও কবিরহাট উপজেলা চার হেক্টর জমির ৭৩ হাজার ৪৩৩টি গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতি হেক্টর রস থেকে গুড়ের উৎপাদন ১৭ টন করে চলতি মৌসুমে রস থেকে গুড়ের উৎপাদন লক্ষ্য মাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৪৪ মেট্রিক টন। হাতিয়ার উত্তরাঞ্চলে নদী ভাঙ্গনের কারনে খেজুর গাছ কমে গেছে। বন বিভাগের মাধ্যমে নতুন করে বিভিন্ন অঞ্চলে খেজুর গাছ লাগানোর চিন্তা ভাবনা করা হচ্ছে। এতে খেজুর রস ও গুড় এ শিল্প অনেক সম্পসারিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

Comments
নবীন
Thanks
Add a comment: