নোয়াখালীতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন
“সকল নারী ও কন্যা শিশুর জন্য অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় জরুরি পদক্ষেপ চাই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নোয়াখালীতে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬।
দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন নারী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন ও সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে সংহতি সমাবেশ, আলোচনা সভা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। রোববার (৮ মার্চ) সকালে নোয়াখালী টাউন হল মোড় সড়কের পাশে আয়োজিত সংহতি সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, নারী অধিকারকর্মী, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন। সমাবেশে বক্তারা নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সমাজে সমতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, আধুনিক যুগে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনও সমাজের বিভিন্ন স্তরে নারী বৈষম্য, সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। নারী ও কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা এবং অধিকার নিশ্চিত করতে হলে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, বরং বিদ্যমান আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। তারা আরও বলেন, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র—এই তিনটি স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করা সম্ভব নয়। নারী ও কন্যা শিশুর নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরি। আলোচনা সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা না গেলে টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে।
তাই নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার রক্ষায় সরকার, বেসরকারি সংস্থা এবং নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সমাবেশে বক্তারা নারী নির্যাতন ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ, নারীর অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি এবং সমাজে লিঙ্গসমতা প্রতিষ্ঠায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তারা নারী ও কন্যা শিশুর জন্য একটি নিরাপদ, বৈষম্যহীন ও সম্মানজনক সমাজ গড়ে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংহতি সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল একটি প্রতীকী দিবস নয়; এটি নারীর অধিকার, মর্যাদা ও সমতার দাবিকে জোরালো করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব নয়। শেষে উপস্থিত সবাই নারী ও কন্যা শিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নারী অধিকার রক্ষায় ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানানো হয়।

Comments
nobin
Thanks
Add a comment: