নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন

নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ন বলতে বুঝায় ব্যক্তিগত ,, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে ব্যক্তির অধিকার এবং রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সার্বজনীনতা সংরক্ষণ করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান করে নারীর স্বাধীন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা নিশ্চিত করা ৷
দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও ক্ষমতার নিশ্চিত করা প্রয়োজন৷বাংলাদেশের উন্নয়ন যাত্রায় নারীরা অসামান্য অবদান রাখছেন ৷ দ্য গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট অনুযায়ী,নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে ১৪৪ টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭ তম অর্থাৎ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় নারীর ক্ষমতায়নের দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে আছে ৷সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নারীর অগ্রযাত্রাকে স্থায়ী রূপ দিতে 1972 সালের সংবিধানে সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ ও সুযোগের সমতা নিশ্চিত করেন ৷
নারী আসনে আরো পাঁচটি বাড়িয়ে50 টি করা হয়েছে ৷স্থানীয় পর্যায়ে নারীদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে ৷ প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে সরকারের শেষ পর্যায়ের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে 12 হাজারের বেশি নারী জনপ্রতিনিধি হিসাবে হয়েছেন ৷নারীর ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভূমিকা অত্যন্ত জোড়ালো ৷তার আন্তরিকতায় বাংলাদেশের নারী সমাজ আজ সারা বিশ্বে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত |প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই প্রথমবারের মতো নারী |স্পিকার ,স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী , রাষ্ট্রদূত , বিচারপতি মহিলা সেরা কর্মকর্তা নারীবয়স চ্যান্সেলর নিয়োগ দিয়ে নারীকে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছেন যা বিগত এক দশকে সৃষ্টি হয়েছে ৷নারীদের এই অভূতপূর্ব ক্ষমতায়নে অংশগ্রহণের সুযোগ ও অনুপ্রেরণার যিনি প্রথম অংশীদার তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সব আন্দোলন সংগ্রাম ও দেশ গঠনে আমাদের নারীদের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে ৷
নারীর প্রতি সব ধরনের সহিংসতা রোধে ২০১২ সালে প্রণয়ন করা হয় পারিবারিক সহিংসতা দমন ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ |নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে প্রণয়ন করা হয় মানব পাচার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২,পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১১ |বাল্যবিবাহ নিরোধ করে মেয়ে শিশুদের সমাজে অগ্রগামী করার জন্য বাল্যবিয়ে নিরোধ আইন ২০১৭ প্রণয়ন করা হয়েছে ৷এছাড়া মেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় শিশু আইন ২০১৩ প্রণীত হয়েছে ৷হিন্দু নারীদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষার্থে হিন্দু বিবাহ নিবন্ধন আইন ২০১২ প্রণয়ন করা হয়েছে ৷নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে ৷আজ জাতিসংঘের মিশনেও নারীদের পাঠিয়ে নারী সমাজের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হচ্ছে ৷
বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে যে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় যে খুব বেশি এটা বলার অপেক্ষা রাখে না৷বর্তমানে যে হারে বাংলাদেশের নারীর ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি পাচ্ছে তাতে আর এক দশক পড়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের নারী সমাজের ভূমিকার অংশীদারীতে প্রভাব থাকবে হয়তো পুরুষের তুলনায় অধিক ৷প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার যে নারীর ক্ষমতায় বান্ধব সরকার এতে কোন সন্দেহ নাই৷আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরেই হয়তো একদিন বেগম রোকেয়া ও বেগম সুফিয়া খাতুনে নারী জাগরণের স্বপ্নের বহিঃপ্রকাশ হবে ৷ক্রমান্বয়ে সে পথে বাংলাদেশ ধাবিত হবে ৷এখনো যে সকল নারীদের পায়ে শৃঙ্খল আছে তাদের সবার শৃঙ্খলমুক্ত হোক, জয় হোক নারীর ৷

Comments
সময় উপযোগী কনটেন্ট
অনেক সুন্দর একটা লেখা
মো ইসমাইল হোসাইন
বিশ্বে যা কিছু চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নয়।
Add a comment: