দোহাজারী কক্সবাজার রেললাইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রিটিশ আমলে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত এসে থেমে যাওয়া রেললাইনটি অবশেষে ৯২ বছর পর কক্সবাজার পৌছালো। রেলযোগে এখন কক্সবাজার। কক্সবাজারবাসীর বহুদিনের স্বপ্নের রেললাইনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার (১১ নভেম্বর
২০২৩) সকাল ১১ টা নাগাদ তিনি কক্সবাজার পৌছান। দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ নান্দনিক ঝিনুকের আদলে তৈরি দৃষ্টিনন্দন রেলস্টেশন চত্বরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। রেল চলাচল উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ট্রেনে কক্সবাজার আসার দেশবাসীর স্বপ্ন পুরন করা হলো
নভেম্বর ১১ শনিবার দুপুর ১২ টা ৫৮ মিনিট, মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষনা দেন কক্সবাজার- দোহাজারি রেললাইন প্রকল্পের রেল চলাচলের। তখন মুহুর্তেই উচ্ছাসের সব রংয়ে বর্নিল হয়ে উঠে অনুষ্ঠান স্থল।এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন , রেলে কক্সবাজার আসার স্বপ্ন ছিলো দেশের মানুষের, সেই স্বপ্ন পুরন করা হলো, পঞ্চগড় থেকে যেনো কক্সবাজার রেলে আসতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। তথা সারাদেশ থেকে যেনো রেলে করে মানুষ কক্সবাজার আসতে পারে এবং কক্সবাজারের মানুষ যেনো সারাদেশে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হবে। লাভ লোকসান নয় মানুষের সেবাটাই বড়, তাই আলাদা রেলপথ মন্ত্রনালয় গঠন করে সারাদেশে রেল যোগাযোগ স্থাপনের কাজ শুরু করি এবং সফলও হয়েছি।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্প ব্যায় ধরা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। স্বপ্নের এই রেললাইনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কক্সবাজারে উদ্বোধন করলেন, ৫৩ হাজার কোটি টাকার আরও ১৬টি প্রকল্প। তাতে রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নির্মিত মাতারবাড়ি ১২শ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযুক্তি প্রকল্প। বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাঁকখালী নদীর কস্তুরাঘাটে ৫৯৫ মিটার পিসি বক্স গার্ডার ব্রিজ, কক্সবাজার সদরে খাল লাইনিং এপ্রোচ রোড ও ব্রিজ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৪টি প্রকল্প, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ৪টি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প। এছাড়াও রয়েছে জনস্বাস্থ্য, গণপূর্ত এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়নাধীন ৩টি প্রকল্প।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেষে প্রধানমন্ত্রী টিকিট কেটে কক্সবাজার থেকে রামু রেল ভ্রমণ করেন। পরে তিনি হেলিকপ্টার যোগে মহেশখালী একটি জনসভা যোগ দিয়েছেন। তবে সবচেয়ে নজর কেড়েছে ঝিনুক আকৃতির দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশনটি। যা দেখতে প্রতিনিয়ত ভীড় করছে পর্যটকসহ স্থানীয়রাও। এই স্টেশনটিতে রয়েছে তারকা মানের হোটেল, লকার, মসজিদ, শিশুদের জন্য বিনোদনের জায়গায়সহ ১৭ টি বাণিজ্যিক পয়েন্ট। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা লাকারে জিনিসপত্র রেখে যেতে পারবেন সমুদ্র। পর্যটকদের জন্য গুণগত মানের রুমেরও ব্যবস্থা আছে এই স্টেশনে। এই স্টেশনটি কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ঝিলংঝা ইউনিয়নে গড়ে তোলা হয়েছে। ৬ তলা বিশিষ্ট এই ভবনটি আয়তন হচ্ছে ১ লক্ষ ৮২ হাজার বর্গফুট।

Comments
No comments
Add a comment: