দুবাই থেকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে পাচারকারী।
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার উত্তর ভাউতলী গ্রামের মোঃ শাহ আলম মুন্সীর বড় ছেলে মোঃ মারুফ মুন্সীসহ ৭জনের বিরুদ্ধে দুবাই থেকে ইতালিতে মানবপাচারের অভিযোগ উঠেছে। মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার নয়াকান্দি বাজিতপুরের মৃত্যু মোঃ হালান হাওলাদারের ছেলে মোঃ সোহেল হাওলাদার কে দুবাই থেকে ইতালিতে পাঠিয়ে দিবে বলিয়া ভূক্তভুগি পরিবারের কাছ থেকে ১২ লক্ষ টাকায় চুক্তি করেন দুবাই প্রবাসী মারুফ মুন্সীসহ তার পরিবারের লোকজন।বিগত (১২ এপ্রিল)২০২২ ইং তারিখ রোজ মঙ্গলবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের পূয়ালী গ্রামে ভুক্তভোগীর বোনের বাড়িতে বসিয়া উভয় পক্ষের মধ্যে দুবাই থেকে ইতালিতে পাঠানোর কথা চুরান্ত করেন এবং ১২ লক্ষ টাকায় চুক্তি পত্র করা হয়েছে বলে জানা যায়। চুক্তি অনুযায়ী তাদের মধ্যে সিদ্ধান্ত হয় ভুক্তভোগী সোহেল হাওলাদারকে তারা দুবাই থেকে ইতালিতে পাঠানোর বাবদ তাদের ১২ লক্ষ টাকা দিতে হবে। এখন নগদে ৮ লক্ষ টাকা দিতে হবে এবং বাকি ৪ লক্ষ টাকা আপনার স্বামী ইতালিতে পৌঁছানোর পরে দিতে হবে বলে জানান তারা। স্বরল বিস্যাস করিয়া ভুক্তভোগী পরিবার তাদের আর্থিক সচ্ছলতা ফিরানোর জন্য তাহার স্বামীকে দুবাই থেকে ইতালিতে গিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলেন সোহেল হাওলাদার এই ইচ্ছে নিয়ে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েন তিনি।
দুবাই হয়ে ইতালিতে পাঠানোর আশ্বাস দেয় পাচারকারীরা। পরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ দুবাইয়ে ভিসা দিয়ে চক্রটি তাকে বাংলাদেশ থেকে বের করে নিয়ে যায়। দুবাইতে নিয়ে জিম্মি করে নির্যাতন চালানো হয় এবং মুক্তিপণ আদায় করা হয় মোটা অংকের টাকা। নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগীর স্ত্রী মোসা শাবানা বেগম (৩২) বাদী হয়ে বিজ্ঞ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন বিশেষ ট্রাইবুনাল আদালত মাদারীপুরে। একটি মানব পাচার আইনের ৬/৭/৮/৯/১০(ক) ধারায়,৭জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।(১) মোঃ মারুফ মুন্সী (৩৫)(২)শাহ আলম মুন্সী (৫৫)(৩) বিউটি বেগম (৫০)(৪) মোঃ সিন্টু মিয়া (৩৫)(৫) মোসা নাজনীন আক্তার (২৮)(৬) সাকিব মুন্সী (২৫)(৭)রাকিব মুন্সী (২৭) দ্বয়দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে মামলাটি বিজ্ঞ আদালত তদন্তে প্রতিবেদনের জন্য সি আই ডি মাদারীপুরে আদেশ দেন।
এসময় ভুক্তভোগী সোহেল হাওলাদারের স্ত্রী শাবানা বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমার স্বামীকে বিদেশে পাঠানোর জন্য আমরা চেষ্টা করছিলাম, সেই খবর পেয়ে মারুফ মুন্সী আমাকে ও আমার দুলাভাই মান্নানকে জানায় আপনি আপনার স্বামী কে ইতালিতে পাঠাতে চাইলে, আমি আপনার স্বামী কে দুবাই দিয়ে ইতালিতে পাঠাতে পারিবো। আমাকে সর্বমোট ১২ লক্ষ টাকা দিবেন।এখন নগদ ৮ লক্ষ টাকা দিতে হবে।বাকি ৪ লক্ষ টাকা আপনার স্বামী ইতালিতে পৌঁছানোর পরে আমার বাবা মা ভাই ও আমার স্ত্রীর কাছে দিয়ে দিবেন। আমি তাদের কথায় স্বরল বিস্যাস করিয়া ধার দেনা,গরু বাছুর ও বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন করিয়া তাদের চুক্তি মোতাবেক ৮ লক্ষ টাকা দেওয়ার পরে। তারা আমার স্বামীকে দুবাইতে নিয়ে জিম্মি করে এবং শারীরিক নির্যাতন করার সময় আমাদের মোবাইলে ফোন দিয়ে আমার স্বামীর চিৎকার শুনায়।
এবং আমাকে মারুফ মুন্সী বলে তোর স্বামীকে বাঁচাতে চাইলে আমার মা,বাবা, ভাইদের কাছে আরো ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে। আমি উপায়ান্ত না দেখিয়া আমার বাবা, ভাই,বোন দুলাভাইদের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ধার দেনা করিয়া। শাহ আলম মুন্সী, বিউটি বেগম,সিন্টু মিয়া, নাজনীন আক্তার, সাকিব মুন্সী দ্বদেরকে খবর দিয়ে গোপালপুর ইউনিয়নের পূয়ালী গ্রামে আমার বোনের বাড়িতে বসিয়া স্বাক্ষীদের মোকাবেলায় পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে দেই, আজ একমাস হয় আমার স্বামীর কোনো খোজ খবর পাইনা।আমি এই মানবপাচার কারী চ্ক্ররের বিচার চাই এবং আমার স্বামীকে ফেরৎ চাই
ভুক্তভোগী সোহেল হাওলাদারের বড় ভায়রা মান্নান সরদার জানান, মারুফ মুন্সী আমাদের পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের লোক তাই আমরা তাকে স্বরল বিস্যাস করিয়া আমার ভায়রা ভাই কে দুবাই থেকে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলিয়া প্রথমে ৮ লক্ষ টাকা দেই, পরে দুবাই নিয়ে জিম্মি করে আটকে রেখে আমাদের ফোন করে জানায় তখন সোহেল কে দুবাই থেকে ইতালিতে পাঠাতে আরো ৫ লক্ষ টাকা দিতে হবে।আমরা তাদের কথা মতো ধার দেনা করিয়া আরো ৫ লক্ষ টাকা দেই, তার পরে আবারও ২ লক্ষ টাকার দাবী জানান দুবাই প্রবাসী মানব পাচারকারীগন পরে তাদের কথা মতে আরো ২ লক্ষ টাকা দেই-সর্বমোট ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে তারা। এর পর থেকে আমাদের সাথে আমার ভায়রা ভাই সোহেল হাওলাদারের সাথে আমাদের কোনো যোগাযোগ নাই আমরা এই মানবপাচার কারীদের বিচার চাই এবিষয়ে দুবাই প্রবাসী অভিযুক্ত মারুফ মুন্সীর মোবাইলের ইমু নাম্বারে ফোন দিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি তাদের কাছ থেকে ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মাধ্যমে সোহেল হাওলাদার কে দুবাই দেশে এনেছি।তার সাথে আমার ইতালিতে পাঠানোর কোনো কথা ছিলো না এবং আমি তাদের কাছ থেকে ইতালিতে পাঠানোর জন্য কোনো টাকা নেই নাই, তাহারা মিথ্যা কথা বলে ও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা করয়েছে।
অভিযুক্ত সাকিব মুন্সী জানান,আমরা শুনেছি, ভুক্তভোগী সোহেল হাওলাদার কে আমার বড় ভাই মারুফ মুন্সী ৩ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ভিসা দিয়ে দুবাইতে পাঠিয়েছে। কিন্তু আমাদের সাথে ইতালিতে পাঠানোর কথা ছিলো না। এবিষয়ে মাদারীপুর সি আই ডি ইন্সপেক্টর সঞ্জয় সাহার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলাটি বিজ্ঞ আদালত হইতে আমাদের কাছে এখনও আসে নাই, আসলে ঘটনা আমরা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিব বলে জানান তিনি।

Comments
No comments
Add a comment: