দুগ্ধ খামার গড়ে স্বপ্ন বুনছেন মধুপুরের খামারিরা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে দুগ্ধ খামার গড়ে স্বপ্ন বুনছেন খামারিরা। একই গ্রামে ১৫২ জন খামারি দুগ্ধ খামার করে এগিয়ে যাচ্ছেন সফলতার দারপ্রান্তে। নিজেদের খামার ব্যবস্থাপনা ও দুধ বিপননসহ বিভিন্ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য গড়েছেন সমবায় সমিতি। মধুপুর পৌরসভার জটাবাড়ি গ্রামে নিজেদের বাড়িতে গাভী পালন করে দুগ্ধ খামার গড়ে তুলেছেন ১৫২ জন খামারি। এ সকল খামারিদের খামার হতে প্রতিদিন হাজার লিটারের মতো দুধ বিক্রি করেন তারা। প্রতিদিন বাড়তি আয়ের পথ পেয়ে হাসি ফুটছে খামারিদের চোখে মুখে।
উপজেলা প্রাণী সম্পদ সূত্রে জানা যায়, মধুপুরে বার্ষিক দুধ উৎপাদনের পরিমান ২০ হাজার ২'শ ৮মে. টন। এ বছর সমবায়ের সফলতা অর্জন করায় এ সমিতি পেলো জাতীয় সমবায় পুরস্কার।
মধুপুর পৌরসভার একটি গ্রামের নাম জটাবাড়ি। এ গ্রামে এক সময় যারা গৃহ কাজে অলস সময় পার করতেন, এখন তারা অনেকেই গাভী পালন করে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এ গ্রামে এখন ১৫২ খামারি গাভী পালন করে দুগ্ধ খামারে আত্মনিয়োগ করেছেন। গড়ে তোলেছে সমবায়ের মধুপুর পৌরসভা সমিতি। তারা সমবায় অফিস থেকে স্বল্প লাভে ঋণ নিয়ে গাভী পালন করে লাভবান হচ্ছেন। বাড়ির সাথেই পালন করছেন গাভী। গাভীকে খড় ভুষি খাওয়ানোর পাশাপাশি ঘাস আবাদ করে খাওয়াচ্ছেন। প্রতিদিন কেউ ৮০ লিটার, কেউ ৯০ লিটার, কেউবা আবার ৫০ লিটার করে দুধ বিক্রি করে থাকেন। কৃষি কাজের পাশাপাশি বাড়ির পুরুষের সঙ্গে নারীরাও খামারে কাজ করে থাকেন। দুধ বিক্রির জন্য চিন্তা করতে হয় না, স্থানীয় নরিল্যা বাজারে হাজার হাজার টন দুধ বিক্রি হয়ে থাকে। বিভিন্ন কোম্পানির গাড়ি আসে দুধ কিনতে। এতে নগদ দামে বিক্রি করে চোখে মুখে হাসি নিয়ে বাড়ি ফিরেন খামারিরা। জটাবাড়ি দুগ্ধ খামারির সংখ্যা বেশি থাকলেও কাছাকাছি খামারিরা মিলে সমিতি গঠন করে সরকারিভাবে সহযোগিতা পাচ্ছেন। গাভী পালনের জন্য স্বল্প লাভে ঋণ নিয়ে খামারির পরিধি দিন দিন বাড়াচ্ছে। এ যেন বাড়ি বাড়ি দুগ্ধ খামার। খা478;ারে পুরুষের সঙ্গে নারীরাও দুধ দোহন, পানি সরবরাহ, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, খড় কাটাসহ নানা কাজে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। ফলে দুগ্ধ খামার করে পাকা বাড়ি, ছেলে মেয়েদের পড়াশোনা, জমি ক্রয়সহ নানাভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এ এলাকার খামারিরা। দুধ বিক্রির পাশাপাশি খামারের জৈব সার নিজেদের জমিতে প্রয়োগ করছে, অনেকেই আবার খামারের গোবর বিক্রি করেও পাচ্ছে বাড়তি অর্থ । ভোরে দুধ নিয়ে বাজারে যান খামারিরা। দুধ বিক্রি টাকায় চলছে খামার ও খামারির সংসার। স্বাবলম্বী হচ্ছেন তারা। স্বপ্নের জাল বুনছেন পুরুষদের পাশাপাশি খামারি নারীরাও।

জটাবাড়ি গ্রামের দুগ্ধ খামারি খলিল মিয়া ও সোলায়মান জানান, এক সময় তাদের গ্রামে এত গরু পালন হতো না। সমবায়ের মাধ্যমে গাভী পালন বাড়ছে। শহীদ ও ইদ্রিস আলী জানান, এ গ্রামের অনেকেই কৃষি কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলো। অনেকেই আবার ভ্যান রিক্সা চালাতো, অনেকেই আবার ঘরের কাজ করে, এখন দুগ্ধ খামার করে তারা স্বাবলম্বী।
এ বছর জাতীয় সমবায় দিবসে মধুপুর পৌরসভা সমিতি মধুপুরের জন্য আরও একটি সম্মান বয়ে এনেছে। এ বছর জাতীয় সমবায় পুরস্কার পেয়েছে মধুপুর পৌরসভা সমিতি। তবে তারা দাবী জানিয়ে বলেন দুধ বিক্রি করতে অনেক দূরে ভাইঘাট ও নরিল্যা বাজারে যেতে হয়। তাদের দুধ নিজ গ্রামেই মিল্কভিটাসহ বিভিন্ন কোম্পানির নিকট বিক্রি করার দাবী তাদের।
মধুপুর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, মধুপুর পৌরসভা সমিতিতে দুগ্ধ খামারে সদস্য সংখ্যা ১৫২ জন। তাদের মাঝে স্বল্প লাভে ১ কোটি ৫২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এ ঋণ নিয়ে তারা খামার করে স্বাবলম্বী হচ্ছে।
মধুপুর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বিপ্লব কুমার পাল জানান, দেশি-বিদেশি গাভী মিলে বছরে দুধ উৎপাদনের পরিমান ২০ হাজার ২'শ ৮ মে. টন। কৃষি ও দুগ্ধ খামার করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি জমিতে জৈব সারের চাহিদা পূরণ হচ্ছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দুগ্ধ খামারির সংখ্যা বাড়বে, বাড়বে পুষ্টি যোগান।

Comments
No comments
Add a comment: