দুইমাসেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থরা

হঠাৎ একদিন বিকেলে চুলার আগুন থেকে এয়ান উদ্দিনের বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ড দুর্ঘটনা ঘটে। এতে তাঁর বসতভিটা, আসবাবপত্র, নগদটাকা সহ সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এঘটনার প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলেও পুনর্বাসন হয়নি তাঁর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আত্মমানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্থ এয়ান উদ্দিন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের ছেলে। এ বিষয়ে ২৯ ডিসেম্বর কুমারখালী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। জিডি নম্বর ১৩৩২। এয়ান উদ্দিন ছাড়াও সেদিনের অগ্নিকান্ডে তাঁর ভাই কামাল উদ্দিন ও তাঁদের বাবা ছানোয়ার হোসেনের বসতভিটা, আসবাবপত্র ও গোবাদিপশু পুড়ে ছাই হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার, ফায়ার সার্ভিস ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে রামচন্দ্রপুর গ্রামের দিনমজুর ছানোয়ার হোসেন টিনসেটের ঘরে দাউদাউ করে আগুন জ্বলে ওঠে। আগুনের লেনিনহা ও পোড়া গন্ধঁ টের পেয়ে প্রতিবেশিরা ছুটে আসেন এবং পানি, কলাগাছ, বালু দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসেও ফোন দেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌছাতে পৌছাতেই আগুণ নিয়ন্ত্রণে আনে স্থানীয়রা।
আরো জানা গেছে, স্থানীয়দের প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও পুড়ে ছাই হয়ে যায় ছানোয়ার শেখ ও তাঁর দুই ছেলে কালাম এবং এয়ানের বসতঘর, আসবাবপত্র, নগদ ৫০ হাজার টাকা, গবাদিপশু, রান্না ও গোয়ালঘর পুড়ে যায়।
এবিষয়ে ক্ষতিগ্রস্থ এয়ান হোসেন বলেন, ' শ্রমিকের কাজ করি। আগুন আমার ঘর, আসবাবপত্র, নগদ ৫০ হাজার টাকা সহ সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর সহযোগীতায় ঘরের চাল তুলেছি। কিন্তু বসত করার মত হয়নি।
কুমারখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পরিদর্শক বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, 'খবর পেয়ে সেদিন ছুটে গিয়ে দেখি আগুন নিভে গেছে। এতে নগদ টাকা, গবাদিপশু, ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
কুমারখালী থানার ওসি মো. মোহসীন হোসাইন বলেন, আগুনে বসতভিটা, নগদ টাকা পুড়ে যায়। থানায় জিডি দায়ের হয়েছে। জিডি নম্বর ১৩৩২।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল বলেন, লিখিত দরখাস্ত পাওয়া গেছে। বরাদ্দ আসলে সরকারিভাবে সহযোগীতা করা হবে।

Comments
No comments
Add a comment: