দহগ্রামে নিম্নমানের ব্লক তৈরিতে অনিয়ম, এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ

লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলাধীন দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা নদীতে 'সীমান্ত নদীর তীর সংরক্ষণ ও উন্নয়ণ প্রকল্প'-এ ব্লক তৈরীর কাজে নিম্নমাণের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন এলাকাবাসী।
বুধবার (১১ জানুয়ারি) বেলা ১০ টা থেকে এলাকাবাসীর বাধায় ব্লক তৈরির কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে দহগ্রাম থানার প্রশাসন এসে বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করেন এবং তাদের অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পাশের তিস্তা নদী থেকেই বালু উত্তোলন করে রাখা হয়েছে। যেখানে মাটি মিশ্রিত বালু রয়েছে। নদী থেকে ভেকু দিয়ে তুলে রাখা বালু দিয়েই চলছিলো ব্লক তৈরী। এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, গত ২০ শে সেপ্টেম্বর থেকে ওই নদীর তীর রক্ষায় ব্লক তৈরির কাজ শুরু হয়। কিন্তু ব্লক নির্মাণে নদীর মাটি মিশ্রিত বালু, নিম্নমানের পাথর ও কম পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব ব্লক নদীর তীরে ব্যবহার করামাত্রই নষ্ট হয়ে যাবে। রুহুল আমিন নামে একজন বলেন, ‘ব্লকগুলো তৈরিতে সাত ভাগ বালু, এক ভাগ পাথর ও সামান্য পরিমাণে সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি সারা দেশে অনেক ঠিকাদারের অধীনে কাজ দেখেছি। কিন্তু এত নিম্নমাণের কাজ কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই।' বাবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘ডোল ভর্তি করি বালা (বালু), অল্প করি পাতর (পাথর), আর স্যালকে একনা সেমেট (সিমেন্ট) দিয়া বোলোক (ব্লক) বানাওচে। এইগলাতো নদীত দেলে কিছুদিন পর এমনি ভাঙ্গি, গলি যাইবে।’
এবিষয়ে জানতে চাইলে ঠিকাদারের ব্যবস্থাপক সোহেল হোসেন বলেন, আমরা ইস্টিমেট অনুযায়ী সঠিকভাবেই ব্লক তৈরি করছি। এসময় ইস্টিমেট দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে পারেননি। কত টাকার কাজ হচ্ছে জানতে চাইলেও তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি। এসময় এলাকাবাসীর বাধায় দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ বন্ধ থাকা সত্তেও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট পাউবোর কার্য সহকারী রমজান আলী বলেন, বুয়েটে এসব ব্লক পরীক্ষা করার পর কাজের বিল ছাড় দেওয়া হবে। এছাড়া বালু পরীক্ষা করে নদীর বালু দিয়ে কাজ করা হচ্ছে দাবি করে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে বিস্তারিত কথা বলতে বলেন।
লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নের তিস্তা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে পাউবোর অধীনে কাজ পেয়েছে নাটোরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জেভি সেহা - ইউবি । ওই এলাকার আদর্শপাড়া থেকে নদীর আট শত পঁচিশ মিটার পর্যন্ত ( প্রায় এক কিলোমিটার) ওই ব্লক ফেলা হবে। কাজের প্রাক্কলিত মূল্য তেরো কোটি পঁচিশ লক্ষ চল্লিশ হাজার দুইশত ছয় টাকা।

Comments
No comments
Add a comment: