তিনবিঘা করিডোরের গরু সিন্ডিকেটের গোপন তথ্য ফাঁস

লালমনিরহাট পাটগ্রাম উপজেলাধীন দহগ্রাম ইউনিয়নের গরু সিন্ডিকেটের অন্যতম একজন সুমন মিয়া। ০৯ নভেম্বর বুধবার সন্ধায়, দহগ্রাম তিনবিঘা করিডোর গেইটে গরু আছে কিন্তু মালিক নেই। দায়িত্বরত বিজিবির সিদ্ধান্ত এইদিন গরু পার হবে ২৮ টি। কিন্তু অন্তিম মুহুর্তে সুমন নামে একজন, জাহাঙ্গীর নামে অন্য আর একজনকে গরুর মালিকের ছেলে বানিয়ে পার করে নেয়। নিয়ম অনুযায়ী প্রকৃত মালিককে উপস্থিত থেকে গরু পার করে নিতে হবে। বিষয়টি দায়িত্বরত পানবাড়ী ৫১ বিজিবিকে তাৎক্ষণিক অবগত করা হলেও সত্যতা যাচাই ছাড়াই গরুগুলো পার করে দেওয়া হয়। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান, ইউপি সদস্য ফরিদুল, ও মিলনসহ অন্যান্যরা এসময় উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার পরেরদিন ১০ নভেম্বর সকালে পাটগ্রাম গরুর হাটে সুমনের দেখা পাওয়া গেলে তার মুখ থেকেই প্রকৃত ঘটনা উঠে আসে। সে জানায়, উপস্থিত উপায় ছিলো না তাই একটা পলিটিক্স খাটিয়েছি। আর জাহাঙ্গীর মুলত আমারই লোক। সেজন্য তাকে ডেকে এনে ছেলে বানিয়ে গরুটি পার করে নিয়েছে বলে জানান সুমন। এসময় সুমন বলেন 'বিজিবির বাবাও তার গরু আটক করতে পারবে না' বলেও মন্তব্য করেন।
এই ঘটনায় পরবর্তীতে বিজিবির ওই কর্মকর্তা এবং উর্ধতনদের সাথে যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মুলত সিন্ডিকেটের এই সদস্যদের সাথে জড়িত স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। যাদের কারণেই জিম্মি দহগ্রামের সাধারণ কৃষক। সম্প্রতি এই করিডোরে কৃষকের ন্যয্যতা প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে এক সাংবাদিক লাঞ্ছিতও হয়েছিলেন।
সপ্তাহে মোট ৬০ টি গরু একসাথে জড়ো করে বিজিবি বিএসএফর তত্বাবধানে দেশের মুল ভুখন্ড করিডোর গেইট পার করে দেয়া হয়। তবে গরুগুলো কাগজে কলমে কৃষকের দেখানো হলেও বাস্তবে এসবের অধিকাংশ চোরাই পথে আনা ভারতীয় গরু। একটি সুত্র জানায়, সিন্ডিকেট সদস্যরা তালিকায় অতিরিক্ত গরু উঠিয়ে এক ব্যক্তি একাধিকবার গরুর স্লিপ নিয়ে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করছে। ইতোমধ্যে গরু বিক্রির মেয়াদত্তীর্ণ তালিকায় কিভাবে এখনো গরু যাচ্ছে জানতে চাওয়া হলে এবিষয়ে ইউনিয়ন সচিব, চেয়ারম্যান, মেম্বার ও উর্ধতন কর্মকর্তাদের কেউই কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

Comments
No comments
Add a comment: