তারেক রহমানের শিক্ষা সংস্কার প্রতিশ্রুতিতে সাড়া দিয়ে খোলা চিঠি ফাতিহা আয়াতের

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ঘিরে তরুণ বক্তা ও শিক্ষাবিষয়ক অ্যাকটিভিস্ট ফাতিহা আয়াত একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন।
চিঠির শুরুতে তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “আসসালামু আলাইকুম স্যার,আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার সাম্প্রতিক বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পুনর্গঠনের যে অঙ্গীকার আপনি করেছেন, তা আমার নজরে এসেছে।”
তারেক রহমানের উদ্ধৃত বক্তব্য — “রাষ্ট্রের উন্নয়ন, সুরক্ষা ও নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজন উপযুক্ত শিক্ষাব্যবস্থা” — উল্লেখ করে ফাতিহা বলেন, “এটি শুধু রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, এটি এক বাস্তব সত্য।” জাতিসংঘ, হার্ভার্ড, কলম্বিয়া, জর্জিয়া ও হিরোশিমা বিশ্ববিদ্যালয়ে বক্তৃতা দেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি লেখেন, “বিশ্বের প্রতিটি উন্নত রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি হলো উদ্ভাবনভিত্তিক, মানবিক ও বাস্তবমুখী শিক্ষাব্যবস্থা।”
তারেক রহমানের “৩১ দফা ঘোষণার” শিক্ষা সংস্কার উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করে ফাতিহা তিনটি মৌলিক বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান — ১️ শিক্ষা কারিকুলাম সংস্কার: বাস্তবমুখী ও মানবিক হওয়া প্রয়োজন তিনি লিখেছেন, “কারিকুলাম যেন শুধু প্রযুক্তিনির্ভর না হয়ে সমালোচনামূলক চিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও নাগরিক দায়িত্ববোধ গঠনে ভূমিকা রাখে। নিউইয়র্কে পড়াশোনার সময় আমি দেখেছি, সেখানে ছাত্রদের বই মুখস্থ নয়, বরং চিন্তা ও প্রশ্ন করতে শেখানো হয়। বাংলাদেশেও সেই সংস্কৃতি দরকার।” ২️ কর্মসংস্থানমুখী কারিগরি ও ব্যবহারিক শিক্ষার সম্প্রসারণ ফাতিহা উল্লেখ করেন, “আপনি বলেছেন, ‘ব্যবহারিক ও কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ হতে হবে’ — এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তবে সেই শিক্ষা সার্টিফিকেট নির্ভর নয়, উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানমুখী প্রশিক্ষণ হওয়া উচিত।” তিনি আরও লেখেন, “জাপানের হিরোশিমা ইউনিভার্সিটিতে আমি দেখেছি, শিক্ষা ও উদ্ভাবন একসাথে চলছে। আমাদের কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোতেও এমন প্রকল্পভিত্তিক শিক্ষা চালু করা দরকার।” ৩️ শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্তর্ভুক্তি ফাতিহা বলেন, “আগামী দিনের শিক্ষানীতিতে শিক্ষার্থীদের মতামত ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত।
আমি জাতিসঙ্ঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে বলেছি — ‘Nothing about youth should be decided without youth.’ অর্থাৎ তরুণদের নিয়ে সিদ্ধান্ত তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া নয়।” চিঠির শেষাংশে তিনি তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে লেখেন, > “আপনার নেতৃত্বে যদি শিক্ষাব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো যায়, যেখানে প্রতিটি শিশু নিজেকে কেবল পরীক্ষার প্রতিযোগী নয়, বরং ভবিষ্যৎ উদ্ভাবক, চিন্তাবিদ ও নেতা হিসেবে গড়ে তুলতে পারে — তবে সেটিই হবে সত্যিকার অর্থে নিরাপদ রাষ্ট্র গঠনের প্রথম ধাপ।” তিনি আরও বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, আপনি শিক্ষাকে রাজনীতির বাইরে রেখে জাতীয় উন্নয়নের মূল হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলবেন।
শিক্ষাবিপ্লবের এই অভিযাত্রায় আমি ও বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম সবসময় আপনার পাশে থাকব — শিক্ষার পক্ষে, উদ্ভাবনের পক্ষে, মানবিকতার পক্ষে।” চিঠির শেষে তিনি স্বাক্ষর করেন — ধন্যবাদান্তে, ফাতিহা আয়াত।

Comments
No comments
Add a comment: