চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি নদীর পাড় ও চরের মাটি বিক্রি হচ্ছে রাতের আঁধারে।

চৌদ্দগ্রামে কাঁকড়ি নদীর পাড় ও চরের মাটি বিক্রি হচ্ছে রাতের আঁধারে। এককালীন খরস্রোতা কাঁকড়ি নদী ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যথেকে নেমে আসা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ২নং উজিরপুর ইউনিয়নের রাজেন্দ্রপুর অংশে শক্ত পারের মাটি কেটে তৈরি করা হচ্ছে নতুন করে আরেক পাড়।রাতের আধাঁরে মাটি কাটা চক্রের সংগে যোগসাজে বিক্রি করা হচ্ছে নদীর পাড় ও চরের মাটি। এতে নদীর গতিপথ নষ্ট হয়ে এক নদীতে সৃষ্টি হচ্ছে নদীর কয়কটি ধারা। বর্ষা মৌসুমে নতুন পাড় ভেংগে স্থানীয়দের ঘরবাড়ি পানিতে তলিয়ে যাওয়া সহ বন্যা সৃষ্টির শংখা করছেন এলাকাবাসী। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছেনা মাঝখানে গচ্ছা যাচ্ছে সরকারের লাখ লাখ টাকা।
সরেজমিন ঘুরে ও বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার ২নং উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষীপুর কাঠালিয়া অংশে কাঁকড়ী নদী রক্ষা পাড়ের পুনাকৃতিকরন প্রকল্পের নামে নদীর দীর্ঘদিনের স্থায়ী পুরনো পাড় কেটে নতুন করে তৈরী করা হচ্ছে আরেকটি পাড়। এদিকে রাতের আধাঁরে ভেকু লাগিয়ে ড্রাম ট্রাক ভর্তি করে মাটিকাটা চক্রের সংগে যোগসাজশে চলছে মাটি বিক্রি করার মহোৎসব।খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) জনাবা জাকিয়া সরোয়ার লিমা রাতের বেলায় অভিযান চালিয়ে একটি মাটি কাটার ভেকু আটক করে স্থানীয় মেম্বার সোহেলের জিম্মায় রেখে যান। নদীর পাড় ও এলাকার বাসি472;্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান এসব প্রকল্পের নামে এক শ্রেনীর দুর্নীতিবাজদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে নদীর চকলক্ষীপুর কাঠালিয়া কৃষ্ণপুর রাজার বাজার সহ বিভিন্ন অংশে রাতের আঁধারে ভেকু লাগিয়ে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে নদীর পাড় ও চরের মাটি। ফলে বর্ষা মৌসুমে বিস্তৃন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নায়িমুর রহমান মজুমদার মাসুম বলেন এই এলাকায় কিছু মাটি কাটার লোক রয়েছে যারা রাতের আঁধারে মাটি কেটে নিয়ে যায়। এতে নদী ও নদীর পাড় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকেও জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের পরিদর্শনকালে ফরহাদ নামের ঠিকাদারের এক লোক জানান পাউবোর এস ও যেভাবে দেখিয়ে দিয়ে গেছে আমরা সেই ভাবেই কাজ করছি। এবিষয়ে পাউবোর উপ সহকারী প্রকৌশলী মোঃ মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন প্রকল্পের ডিজাইন আমি তৈরী করেছি। কাজটি প্রথম ঠিকাদারের পরিবর্তে দ্বিতীয় একজন ঠিকাদার করছেন। এখানে পাড়ের মাটি কাটার কোন সুযোগ নেই। তিনি বলেন কাজে ব্যাস্থ থাকার কারনে সবগুলো প্রকল্প এলাকায় যেতে পারিনা এক্ষেত্রে ওয়ার্ক এসিস্ট্যান্ট আমান উল্লাহ দ্বায়িত্ব পালন করেন। তবে স্থানীয়রা জানান প্রকল্প এলাকায় পাউবোর কোন লোকজনকে তেমন দেখা যায় না। ঠিকাদারের লোকজন ইচ্ছেমত কাজ করছেন। এসব বিষয়ে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জামানের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকায় পানি ভবনে মিটিং করছেন জানিয়ে মোবাইল ফোনে বলেন নদীর প্লাবন এলাকা থেকে মাটি কেটে পাড় বাধার কথা রয়েছে এ ক্ষেত্রে অনিয়ম হলে খোজ খবর নিয়ে ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

Comments
No comments
Add a comment: