চিকিৎসার টাকার অভাবে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে শিশু শায়রা

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ মন্দুয়া গ্রামের পাঁচ বছর বয়সী শিশু শায়রা ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
জন্মের কয়েক মাস পর থেকেই তার চোখে ফোঁড়া দেখা দেয়। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ধরা পড়ে, সে ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত। শায়রা রাজমিস্ত্রী ও দিনমজুর আব্দুস সামাদ এবং মোমেনা বেগম দম্পতির মেয়ে। মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের গরু-ছাগল বিক্রি করতে হয়েছে। এছাড়া প্রায় দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা ঋণও করতে হয়েছে তাদের। তবুও চিকিৎসার খরচ বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। চিকিৎসকদের মতে, শায়রার দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন।
এজন্য প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা খরচ হবে। কিন্তু দিনমজুর বাবার পক্ষে এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শায়রার বাবা-মা জানান, মেয়ের চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা, রংপুর এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটেছেন তারা। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে না পেরে মেয়েকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন। অসুস্থ শিশু শায়রা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমার চোখে ব্যথা করে, পুঁজ বের হয়। আমি রাতে ঘুমাতে পারি না।” তার এই অসহায় আকুতি হৃদয় স্পর্শ করেছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রতিবেশীরা জানান, শায়রার চিকিৎসার জন্য সরকার এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। তারা মনে করেন, প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে শিশুটি সুস্থ হয়ে নতুন জীবন ফিরে পেতে পারে। বনগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ফজলুল কাইয়্যুম হুদা বলেন, পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও সরকারি সহায়তা পেলে শায়রার চিকিৎসা সম্ভব হবে। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকেও সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি।

Comments
No comments
Add a comment: