চতুরতা
।। চতুরতা ।।
রমের দিনে মালিবাগ থানা এলাকায় ঘটে গেলো এক ভয়াবহ ঘটনা। তিনজনের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোকের আঁধার নেমে এসেছে পুরো এলাকাবাসীর উপর। ইন্সপেক্টর শফিক, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি ও অদম্য সাহসের অধিকারী, এই মামলার দায়িত্বে। ঈদের ছুটির পর ফিরে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেন।
গাড়িতে বসে সাব-ইন্সপেক্টরের মুখে শুনতে পেলেন, তিনজন নিহত, পুরো পরিবারই শেষ! তিন তলা এপার্টমেন্টের তৃতীয় তলায় ঘটেছে এই হত্যাকাণ্ড। ইন্সপেক্টর শফিক ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে বুঝতে পারলেন, রাতের বেলায়ই সংঘটিত হয়েছে এই নৃশংস ঘটনা। একেকজনকে ভিন্ন ভিন্ন রুমে হত্যা করে, পরে তাদের একটি রুমে জড়ো করা হয়েছে।
সাব-ইন্সপেক্টর ধারণা করলেন, খুনি একা নয়, দুজনের বেশি হবার সম্ভাবনা। ফরেনসিক বিভাগের অফিসারের উপস্থিতিতে আগেই তদন্ত শুরু হয়েছে। তারা জনান, রাত সাড়ে বারোটা থেকে একটার মধ্যে হত্যা করা হয়েছে তিনজনকে। সারা ঘরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রক্তের দাগ। ছুরি দিয়েই হত্যা করা হয়েছে তাদের। একটি চমকপ্রদ তথ্য, প্রত্যেকের মুখে প্লাস্টিকের ব্যাগ পেঁচিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে, চিৎকার করতে পারেননি তারা, আশেপাশের কেউ শুনতেও পায়নি।
ডাইনিং রুমের টেবিলের সামনে এসে ইন্সপেক্টর শফিক, সাব-ইন্সপেক্টর ও ফরেনসিক অফিসার হতবাক হয়ে পড়লেন। খুনিরা রান্না করে খেয়ে গেছে! ফ্রিজ থেকে ডিম, নুডুলস, সবজি, সস এনে রান্না করেছে তারা। একটি বেডরুমের এসি চলছিল, বোঝা গেল, খুব গরম থেকে রেহাই পেতে খুনিরা সেখানে বেশ কয়েক ঘন্টা দিব্যি ঘুমিয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ ফেলে যায়নি। সারাক্ষণ গ্লাভস ও বিশেষ ধরনের প্লাস্টিকের জামা পরে ছিল। পেশাদার খুনি, নিষ্ঠুর, সাবধানী।
ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র সুন্দরভাবে গুছিয়ে ব্যাগে ভরে, সকাল দশটা এগারোটার মধ্যে পালিয়ে যায় তারা। সম্ভবত ছাদ দিয়ে ঢুকেছিল, বের হওয়ার সময় মূল দরজা ব্যবহার করেছে। দারোয়ানকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেল, দশটা সাড়ে দশটার দিকে সে বাথরুমে গিয়েছিল। খুনিরা সেই ফাঁকে পালিয়ে যায়। সকালে পালায়নি কারণ, রাস্তায় টহল পুলিশ ও মহল্লার সিকিউরিটি থাকে। এবং তাদের হাতে বড় বড় ব্যাগ দেখলে যে কেউ সন্দেহ করতে পারে।
ইন্সপেক্টর শফিক মেইন বেডরুমের টয়লেটে প্রবেশ করে অবাক হয়ে গেলেন। খুনিরা চলে যাওয়ার আগে গোসলও করে গেছে!
এই অদ্ভুত ঘটনায় তিনি হতাশার পরিবর্তে হেসে উঠলেন। আশেপাশের কর্মকর্তারা চমকে তার দিকে তাকালো। ইন্সপেক্টর শফিক ব্যাখ্যা করলেন, "গরমে গোসল করা ভালো কিন্তু ক্রাইম করে সে বাড়িতেই গোসল করে যাওয়া অনুচিত। সবকিছু ধুয়ে মুছে ফেলা যায় না। অনেক প্রয়োজনীয় এভিডেন্স যেমন চুল, স্কিন টিস্যু, এখন এই বাথরুমেই পাওয়া যাবে। "মানুষ চতুর হতে পারে," ইন্সপেক্টর শফিক বললেন, "কিন্তু যারা নিজেদেরকে খুব বেশি চতুর মনে করে তারা আসলে তত চতুর হয় না।"
#এম_মিরাজ_হোসেন #mmirazhossain

Comments
No comments
Add a comment: