গ্যাস সংকটে নাকাল নোয়াখালীবাসী

নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় শীতকালে চরম গ্যাস সংকটে পড়েছেন জেলাবাসী। আবাসিকে এ সমস্যা এখন প্রকট রূপ ধারণ করেছে। ফলে, বাসা-বাড়িতে রান্নাসহ গৃস্থালীর কাজে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে সিলিন্ডার বা লাকড়ির চুলা। এতে খরচ বেড়েছে দ্বিগুনেরও বেশি। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বানিজ্যিক সংযোগ এবং অবৈধ সংযোগ তাদের দূর্দশার কারন।
গ্যাস সংকটে নাকাল নোয়াখালীবাসী, গ্যাস নিয়ে এই সমস্যায় ভুগছেন নোয়াখালী শহর ও আশেপাশের এলাকার বাসিন্দারা। একই সমস্যা চলছে জেলার কোম্পানীগঞ্জ, চাটখিল ও বেগমগঞ্জের কিছু এলাকায়ও। গেল দুই বছর থেকে ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে নোয়াখালীর গ্যাস সংকট। প্রথমদিকে এ সংকট সহনীয় থাকলেও এখন তীব্র আকার ধারন করেছে। শীত ও বর্ষা কালে পড়তে হয় বেশি সমস্যায়।
একাধিক গ্রাহক অভিযোগ করে বলেন, নোয়াখালীতে বাখরাবাদ গ্যাসের যে বৈধ সংযোগ রয়েছে, তার চেয়ে বেশি অবৈধ সংযোগ থাকায় দিন দিন গ্যাস সংকট বাড়ছে । গ্যাস অফিসের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্থানীয় দালালচক্রের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিলেও সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা জেনেও না জানার ভাঁন করছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানি লি.। অন্যদিকে, আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন গ্যাস অফিসের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দালালচক্র।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, শীতে গ্যাস না পাওয়া এখন অনেকটাই তাদের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিকল্প উপায়ে রান্না করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুণতে হচ্ছে। একই সাথে বহন করতে হচ্ছে গ্যাসের বিলও। স্থানীয়দের দাবি, অবৈধ সংযোগ এবং অপরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক সংযোগের কারণে আবাসিকে গ্যাসের সংকট বাড়ছে। রান্নার কাজে বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে সিলিন্ডার ও লাকড়ির চুলা। এতে খরচ যেমন বেড়েছে অন্যদিকে কাটা পড়ছে গাছ ও সবুজ বন।
আবাসিক এলাকায় অপরিকল্পিতভাবে বানিজ্যিক সংযোগ এবং অবৈধ সংযোগের কারনে এমন গ্যাস সংকট মনে করেন এলাকাবাসী। সংকটের কথা স্বীকার করে নোয়াখালীর বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী শফিউল আলম বলেন, শীতে তাপমাত্রা কমে যাওয়ার কারণে গ্যাসের প্রেসারও কমে যায়। অন্যদিকে গ্রাহকরাও শীতকালে ঘর গরম করার উদ্দেশ্যে গ্যাস বেশি খরচ করেন। এর ফলে একদিকে আমাদের যেমন সরবরাহ ও প্রেসার কমে যাচ্ছে, একই সাথে চাহিদাও বাড়ছে। আর এ কারণেই শীতকালে গ্যাসের সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে শীতকাল চলে গেলে এ সংকট কেটে যাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
জেলায় আবাসিক গ্রাহক ২৬ হাজার ৫৮৮ এবং বাণিজ্যিকে গ্যাস সংযোগ আছে ২১৩টি। চাহিদা দৈনিক ১৪ মিলিয়ন ঘনফুট। বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছে অনেক কম। তবে অবৈধ সংযোগ তদারকির মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান হতে পারে বলে মনে করেন জেলার জনসাধারণ।

Comments
MD NURUNNABI
Thanks
Add a comment: