গুমের মামলা না নেওয়ার অভিযোগে মানববন্ধন পালিত।

গুমের শিকার আতিকুল ইসলামকে ফিরিয়ে দেওয়া এবং পুলিশ মামলা না নেওয়ায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নাগরিক সমাজের ব্যানারে স্বজন ও এলাকাবাসী।
রোববার(১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সামনে এই কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এতে শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহন করেন। পারিবারিক সূত্র জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কাজিপাড়ার মুমিনুল ইসলামের ছেলে আতিকুল ইসলামকে ২০১২ সালের ১৩ অক্টোবর তুলে নিয়ে গুম করার অভিযোগ ওঠে। গুম হওয়া আতিকুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি পৌর শহরস্থ কাজীপাড়ার সাহাপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। সদ্য বিদায়ী আওয়ামী লীগ সরকারের স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য গৃহায়ণ মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরীর লোকজন ‘গুম’ করে রেখেছেন। মানববন্ধনে বক্তারা সদ্য সাবেক মন্ত্রী মোকতাদির চৌধুরী পৃষ্ঠপোষকতায় বিএনপির কর্মী আতিককে ‘গুম’ হয়েছেন বলে অভিযোগ করে তাঁদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। স্বজনরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে বলেন, আমরা গত তিন-চার দিন ধরে থানায় যাচ2509;ছি কিন্তু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। তারা কালবিলম্ব করছেন। তারা আরো জানান, যখন আতিক গুম হয়েছিল তখন আমরা থানায় ও কোর্টে মামলা করতে গিয়েছিলাম। মোকতাদির চৌধুরী কাছেও গিয়েছিলাম। কিন্তু ওনারা মামলা করতে নিষেধ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান।
আতিকের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী তানিয়া ইসলাম বলেন, আতিক ভাইকে গাড়িতে ওঠানোর পর আমরা গেলে তখন তারা বলেছিলেন উনাকে একটু মোকতাদির চৌধুরীর বাড়িতে যেতে হবে। এরপর নিয়ে যাওয়ার পর আর তার সন্ধান পাইনি। আমরা সাবেক এমপির সঙ্গে দেখা করেছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন চুপ থাকতে এবং জিডি পর্যন্ত করতে নিষেধ করেন। তখন জিডি পর্যন্ত করতে পারিনি। এখন মামলা নিয়ে টালবাহানা করছেন সদর মডেল থানার ওসি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন এ বিষয়ে বলেন, আমরা তাদের আরও কিছু কাগজের কথা বলেছি। কাগজগুলো দিলে মামলাটি নেবো। অভিযোগ না নেওয়ার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মোকতাদির চৌধুরীর নাম থাকায় মামলাটি নেয়নি তা সম্পূর্ণ ভুল। তার নামে যতগুলো মামলা যথাযথভাবে দিয়েছে আমরা সব মামলা আমলে নিয়েছি, রুজু করেছি। কাগজগুলো দিলে আমরা এই মামলাও নেবো।

Comments
No comments
Add a comment: