কোকড়ানো চুলে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন মডেল রাসকিন

ছোটবেলায় সোজা ও মসৃণ চুল থাকলেও সময়ের সঙ্গে নিজের ভিন্নতাকেই শক্তিতে পরিণত করেছেন তরুণ মডেল রাসকিন হাসান।
কোকড়ানো চুলের জন্য শুরুতে অস্বস্তিতে থাকলেও এখন সেটিই তার সবচেয়ে বড় পরিচয়। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক মডেলিং জগতে নিজের আলাদা অবস্থান তৈরি করছেন তিনি। রাসকিন জানান, ছোটবেলায় তার ধারণা ছিল সুন্দর চুল মানেই সোজা ও স্টাইল করা চুল। কিন্তু বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারেন তার চুল স্বাভাবিকভাবেই কোকড়ানো। শুরুতে বিষয়টি মেনে নিতে না পারলেও ২০২৪ সালের শেষের দিক থেকে নিজের স্বাভাবিক লুককে গ্রহণ করেন।
এরপর ধীরে ধীরে চুল বড় করতে শুরু করেন এবং এখন সেই কোকড়ানো চুলই হয়ে উঠেছে তার স্বকীয় পরিচয়। মডেলিংয়ে আসার পেছনের গল্পও বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার প্রতি ছিল তার প্রবল আগ্রহ। টেলিভিশনে বিভিন্ন দৃশ্য দেখে অভিনয় অনুকরণ করার চেষ্টা করতেন। যদিও কখনো ভাবেননি যে নিজেই অভিনয় বা মডেলিংকে পেশা হিসেবে নেবেন। এক পরিচিত চিত্রগ্রাহকের পরামর্শে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর সাহস পান তিনি। তার যাত্রা শুরু হয় একটি টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে।
প্রথম কাজ নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত থাকলেও পরে বুঝতে পারেন ক্যামেরার পেছনের বাস্তবতা কতটা কঠিন। একই দৃশ্য বারবার ধারণ করা, প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা, ঘামে সাজ নষ্ট হয়ে যাওয়া—সব মিলিয়ে নতুন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি। তবে সবকিছুর মাঝেও কাজটির প্রতি ভালোবাসা আরও বেড়ে যায়। রাসকিন মতে, তার সবচেয়ে আলাদা দিক হচ্ছে তার চুল। মানুষ তাকে দেখলেই প্রথমে কোকড়ানো চুলটাই লক্ষ্য করে। তবে চুলের জন্য আলাদা কোনো কঠিন যত্নের নিয়ম নেই তার।
প্রয়োজন হলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করেন, নিয়মিত তেল দেন এবং চুল শুষ্ক না রাখতে বাদামের তেল ব্যবহার করেন। ক্যামেরার সামনে ভয় কাটানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ক্যামেরা চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চরিত্রের ভেতরে ঢুকে যেতে হয়। নিজের পরিচয় ভুলে গিয়ে চরিত্রের অনুভূতির সঙ্গে মিশে যেতে পারলেই আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়। নিয়মিত অনুশীলন ও দৃশ্য পুনরায় অভিনয় করাও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মডেলিং ক্যারিয়ারের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন রাসকিন। তার ভাষায়, এখন যে কেউ চাইলে স্বাধীনভাবে মডেলিং শুরু করতে পারে এবং বিভিন্ন সংস্থা বা কাস্টিং পরিচালকদের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ করতে পারে, যা আগে অনেক কঠিন ছিল। ভবিষ্যতে পোশাক ব্র্যান্ডের সঙ্গে কাজ করার পাশাপাশি নাটক ও ধারাবাহিকে অভিনয় করার ইচ্ছা রয়েছে তার। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মডেল ফ্রান্সিসকো লাচোস্কি ও ভাসিলি স্তেপানোভের কাজ তাকে অনুপ্রাণিত করে। নতুনদের উদ্দেশ্যে রাসকান বলেন, “প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই আলাদা সৌন্দর্য আছে। কেউ কারো মতো নয়। নিজের স্বাভাবিক লুককে গ্রহণ করে সেটাকেই আরও সুন্দরভাবে তুলে ধরাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”
ক্যামেরার বাইরে নিজেকে চঞ্চল হলেও অন্তর্মুখী মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। কাছের মানুষদের সঙ্গেই বেশি সময় কাটাতে ভালোবাসেন। আর তার কোকড়ানো চুলের জন্য বন্ধুদের দেওয়া বিভিন্ন মজার নামের মধ্যে রয়েছে “কোকড়া চুলওয়ালা ছেলে” ও “পাখির বাসা”। মডেলিং ও অভিনয়জগতে তার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন নিজেকে সিনেমা হলে বড় পর্দায় দেখা এবং বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে কাজ করা।

Comments
No comments
Add a comment: