কুমিল্লায় ৮১২টি পূজা মণ্ডপে এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি।

কুমিল্লায় ৮১২টি পূজা মণ্ডপে এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি।গ্রামে গ্রামে চলছে কাদামাটি দিয়ে দুর্গাদেবী তৈরির কাজ। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তালিকা অনুযায়ী কুমিল্লার ৮১২টি পূজা মণ্ডপে এখন চলছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন।
প্রতিটি মণ্ডপে এখন কাঠামো বাঁধার কাজ প্রায় শেষ। কোথাও প্রতিমায় তুলিতে চলছে রংয়ের আঁচড়, কোথাও আবার প্যান্ডেল তৈরিতে চলছে জোর প্রস্তুতি। শিল্পী, স্বেচ্ছাসেবক আর পূজা কমিটির সদস্যদের ব্যস্ততা বেড়েছে। কুমিল্লার প্রতিটি পূজা মণ্ডপে এখন দিনরাত এক করে প্রস্তুতির মাঝে বিরাজ করছে সেই প্রতীক্ষায় দেবীর মহা আগমনের। ঢাকের বাদ্যি, ধুনুচির ধোঁয়া, সিঁদুর খেলা আর অঞ্জলির প্রার্থনায় কুমিল্লা প্রস্তুত এক অখণ্ড আনন্দে ভেসে যেতে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা মনে করছেন- শারদীয় দুর্গাপূজা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি এ অঞ্চলের সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কুমিল্লার ৮১২টি পূজা মণ্ডপ এখন শুধু প্রতিমা নির্মাণ করছে না, তৈরি করছে মানুষের হৃদয়ে মিলনের সেতু। শরতের শুভ্রতায় মিশে থাক এই উৎসবের উজ্জ্বলতা, কাশফুলের মতোই শুভ হোক আগত দিনগুলো।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের তালিকা অনুযায়ী কুমিল্লা মহানগরীসহ ১৭টি উপজেলায় ৮১২ পূজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। ওই তালিকা অনুযায়ী গত বছরের চেয়ে ৬৪টি মন্ডপ বেশি। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ এর ওই তালিকা অনুযায়ী প্রায় প্রতিটি উপজেলায় বেড়েছে পূজা মন্ডপের সংখ্যা।
৮১২ পূজা মন্ডাপের মধ্যে জেলার মুরাদনগর উপজেলায় সর্বোচ্চ ১৫৩, দেবীদ্বার উপজেলায় ১০৪, কুমিল্লা মহানগরীতে ৭১, দাউদকান্দি উপজেলায় ৪২, তিতাস উপজেলায় ১৩, হোমনা উপজেলায় ৪৭, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১৭, বুড়িচং উপজেলায় ৪২, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলায় ২৭, চান্দিনা উপজেলায় ৭১, বরুড়া উপজেলায় ৯২, লাকসাম উপজেলায় ৩৬, লালমাই উপজেলায় ১৭, সদর দক্ষিণ উপজেলায় ২৪, চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় ২২, মনোহরগঞ্জ উপজেলায় ১২, মেঘনা উপজেলায় ১১ ও নাঙ্গলকোট উপজেলায় সমভাবে ১১টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল পাল ট্রাস্টি জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর পূজা মন্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। শারদীয় উৎসবের আনন্দে নির্ভিঘ্ন করতে আমরা প্রতিটি উপজেলায় কমিটি নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে জেলা প্রশাসনের সাথেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। প্রতিটি মণ্ডপে থাকছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সিসিটিভি, স্বেচ্ছাসেবক ও পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন।

Comments
No comments
Add a comment: