কারো বোঝা নয়, প্রিয় হয়ে থাকতে চাই- ইসমত জাকিয়া

কারো বোঝা নয়, প্রিয় হয়ে থাকতে চাই নারীরা সমঅধিকার নিয়ে আন্দোলন করে এই আন্দোলন যে আমি করি না তা কিন্তু নয়, কিন্তু আমি সত্যিটা জানি, মাঝে মাঝে নিশ্চুপ থাকি কখনো নিজের কথা ভেবে কখনো পরিবারের কথা ভেবে কখনো সার্বিক দিক চিন্তা করে।
সত্যিকার অর্থে নারীদের সমঅধিকার জন্ম থেকেই তাদেরকে বঞ্চিত করা হয়। নারীরা সমঅধিকার হারায় প্রথমে নিজের বাবা মায়ের কাছে,বিয়ের পরে হাজবেন্ড এর কাছে,কর্মস্থলে এরপর আমি বলবো রাষ্ট্রীয়ভাবে ও নারীদেরকে সমঅধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। আমার এই জীবনে এত বছরের সংগ্রাম করে আমি এতটুকু বুঝেছি সমঅধিকার বলে আসলে কিছু নেই। নিজের অধিকার নিজেই আদায় করে নিতে হয়। আসলে এমনটি হওয়া উচিত কারো উপর নির্ভরশীল নয়, নারীকে এমন ভাবে তৈরি করা উচিত যেমন পুরুষকে জন্মগতভাবে আমরা শিখিয়ে থাকি বা তৈরি করে থাকি, তোমাকে বড় হতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে, চাকরি করতে হবে বা ব্যবসা করতে হবে,সংসারের হাল ধরতে হবে ইত্যাদি।এমনভাবে বড় হতে হবে যেন সমাজ পরিবার রাষ্ট্র এবং বিশ্ব রাষ্ট্র সবাই তোমাকে চিনতে জানতে পারে, তুমি দেশ ও দশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারো।
একজন নারীকেও যদি আমরা এমন ভাবে তৈরি করে থাকি তাহলে সে সম অধিকার নিয়ে ভাববার সময় পাবে না এবং সে কোন রকম প্রশ্নের সম্মুখীন ও হবে না, কারো উপর নির্ভরশীল হবে না,বোঝা হবে না দুশ্চিন্তা থাকবে না, সে যেভাবে উপার্জন করবে তার ইচ্ছেমত ব্যয় করবে, তার ভবিষ্যত হবে নিরাপদ আনন্দময়। আমরা ছোটবেলা থেকে যেমনটি দেখে এসেছি যেমন ভাইকে যদি দেওয়া হয় ৫ টাকা তাহলে বোনকে দেওয়া হয় দুই টাকা এবং বিয়ের পরে আমার হাজবেন্ডের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকি কখন সে আমাকে একটা গিফট দিবে বা অন্য ভাবিদের দেখে আমাদের ইচ্ছে হয় আমার হাজব্যান্ড আমাকে ওই জিনিসটি কিনে দিক বা আমার কেন এটা সেটা নেই, অনেক অভিমান হয় রাগ হয় জিৎ হয়, প্রশ্ন হচ্ছে আদৌ কি এমনটি হওয়া উচিত? উচিত নয়, এতে অসুখি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে কেননা মানুষের চাহিদা সীমিত নয় এবং এখানে বাহাদুরির কিছু নেই। (আমি এখানে উল্লেখ করতে চাই, ধরুন আপনার বাবা বা স্বামী আপনার নামে অনেক সম্পত্তি লিখে দিল কিন্তু আপনি তারা বেঁচে থাকা অবস্থায় ওই সম্পত্তি থেকে কোন সুবিধা পেলেন না, আপনি যখন এই সম্পত্তি ব্যবহার করার সুযোগ এবং সুবিধা পেলেন ততদিনে আপনার এটির আর কোন প্রয়োজন নেই তাহলে এই সম্পত্তি বা উপহার সামগ্রীর কি আজও কোন দরকার ছিল?) কেননা আমি মনে করি কারো উপার্জনের উপর আমার অধিকার থাকতে পারে না,কেউ যদি মনে করে আমাকে উপহার দিয়ে আমাকে খুশি করবে আমাকে সারপ্রাইজ্ট করবে এটা তার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার।কিন্তু যে মানুষটা আমাকে সারপ্রাইজ দিবে বিনিময়ে তাকেও তো আমার খুশি রাখতে হবে এটাও আমাদের মনে রাখতে হবে।
আমি মনে করি প্রত্যেকটি নারীর একমাত্র অধিকার রয়েছে তার নিজের অর্জিত উপার্জনের ওপর এতে সম্মান বাঁচে সে স্বাধীনভাবে তার অর্জিত অর্থ ব্যয় করতে পারে। সে যতটুকু উপার্জন করবে তার লাইফস্টাইল ঠিক সেভাবেই সে নির্ধারণ করবে এতে কারো ওপর রাগ ক্ষোভ জিৎ অভিমান কাজ করবে না। প্রতিটি নারী শিক্ষিত স্বাবলম্বী হয়ে উঠুক স্বাধীনভাবে তার জীবন যাপন নির্ধারণ করুক তাহলেই অন্যের উপর নির্ভরশীলতা থাকবে না। সম অধিকার নয়, মর্যাদা চাই সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে চাই, নিরাপদ আনন্দময় জীবন চাই, স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকতে চাই, কারো বোঝা নয়, প্রিয় হয়ে থাকতে চাই।

Comments
rony noor
Good writing
Add a comment: