এসেনশিয়াল ড্রাগস সংস্কারক এমডিকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র!

রাষ্ট্রীয় ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) বর্তমানে মারাত্মক অভ্যন্তরীণ সংকট ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের মুখে। প্রতিষ্ঠানটি আজ যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছে, তার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ স্বৈরাচারী সরকারের রাজনৈতিক নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতি- লুটপাটের ইতিহাস।
বিশেষ করে স্বৈরাচার শেখা হাসিনা সরকারের শাসনামলে, প্রতিষ্ঠানটি নিয়ন্ত্রণ করতেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সেলিম। সেই সময় শেখ সেলিম তার প্রভাবেই প্রতিষ্ঠানটিকে দলীয় নিয়োগের আতুঘরে পরিণত করেছেন।এবং ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের পরিচয়ধারী নেতাকর্মীদের, অনেক ক্ষেত্রে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে, যোগ্যতা উপেক্ষা না করে চাকরি প্রদান করা হইতো। এবং সেই সময় মেধার যাচাই বা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়ার ছিটেফোঁটাও ছিল না। ফলে, এই রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানটি পেশাদারিত্ব হারিয়ে ফেলে এবং স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক দখলদারিতে পরিণত হয়।
এই নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মীদের অধিকাংশই গোপালগঞ্জ ও আশপাশের জেলা থেকে আগত ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। আজও তারা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অবস্থান করছে। সাবেক সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তাদের একটি বড় অংশ চাকরিকে বাণিজ্যে রূপান্তর করে—দৈনিক কাজ না করেও বেতন উত্তোলন, ঠিকাদারি সিন্ডিকেটে অংশগ্রহণ, লজিস্টিকস দুর্নীতি, ফার্মাসিউটিক্যাল মান নিয়ন্ত্রণে গাফিলতিসহ নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছিল। বর্তমানে তাদের সকল সিন্ডিকেট ভেঙ্গে পড়ায় ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে বর্তমান সরকার ও এমডিকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মরিয়া।
স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সকল ব্যবস্থাপনাকে ডেলে সাজাতে মরিয়া।তারই অংশ হিসেবে এসিয়ান শিয়াল ড্রাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পান আব্দুস সামাদ মৃধা। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই অতীতের অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেন। এবং প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক মুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছেন।এবং তিনি চান দলীয় নিয়োগ নয়, মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে একটি কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো তৈরি করতে।
তবে সাম্প্রতিক কালে কিছু বিষয় লক্ষ্য করে দেখলাম সামাদ মৃধার এই সংস্কার কর্মসূচি এখন চরম প্রতিরোধের মুখে। পুরনো নিয়োগপ্রাপ্ত ছাত্রলীগপন্থী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাকে বিতর্কিত করতে উঠে পড়ে লেগেছে। এই চক্রটি শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; তারা রাজনৈতিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মিডিয়া ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর মুলক তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
বিশেষ করে স্বৈরাচার শেখ হাসিনা আমলের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এমপি-মন্ত্রীদের মালিকানাধীন কিছু মিডিয়া হাউজ, যাদের দ্বারা আগে থেকেই প্রতিষ্ঠানটির অনিয়ম ঢেকে রাখা হতো, তারাই এখন আবার সক্রিয়ভাবে এসিনশিয়াল ড্রাগের এমডি সামাদ মৃধার কাযর্ক্রমকে নিয়ে গুজব ছড়াচ্ছে।আজ এই প্রতিষ্ঠান, শুধু একজন এমডি নয়, বরং জাতির স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ রক্ষার সংগ্রামের প্রতীক। এই ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে এসেনশিয়াল ড্রাগসকে একটি নিরপেক্ষ, দক্ষ ও দেশসেবায় নিবেদিত করা এখন সময়ের দাবি।

Comments
No comments
Add a comment: