উদ্বোধনের অপেক্ষায় কক্সবাজারের ঝিনুক আকৃতির আইকনিক রেলস্টেশন’

পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে আছে অসংখ্য চোখ ধাঁধানো নান্দনিক ডিজাইন আর নির্মাণশৈলীর স্থাপনা। বাংলাদেশও এ থেকে পিছিয়ে নেই। পর্যটন নগরী কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের কাছাকাছি তৈরি হয়েছে ঝিনুকের আদলে দেশের একমাত্র বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশন। এটিকে বলা হচ্ছে এশিয়ার বৃহৎ রেলস্টেশন। নান্দনিক ডিজাইন আর নির্মাণশৈলীর কারণে সবার নড়র কেড়ে নিচ্ছে বিশ্বমানের এই আইকনিক রেলস্টেশনটি।
চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। পরিচ্ছন্নতা এবং উদ্বোধনের আয়োজনে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। আগামী ১২ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। নতুন যুগের সূচনার অপেক্ষায় এখন পর্যটননগরী কক্সবাজার। চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে কক্সবাজারে ট্রেন যাবে, এখন এটা শুধু ক্ষণ গণনার অপেক্ষা। আক্ষরিক অর্থে ঝিনুক না হলেও সমুদ্র দর্শনে এসে প্রথম দেখেই যেন সামুদ্রিক একটা আবহ পাওয়া যায় গোটা স্টেশনে। কেবল আসা-যাওয়ার জন্যই হচ্ছে না এই স্টেশন, দেয়া হয়েছে বহুমাত্রিক রূপ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সুবিশাল চলন্ত সিঁড়ি দিয়ে উঠে দোতলা থেকে নামতে হবে ট্রেনের প্ল্যাটফর্মে। আর আসার যাত্রীরা বের হবেন নিচ থেকে। স্টেশনের ভেতরেই রয়েছে বিশ্বমানের সব সুযোগ-সুবিধা। যাত্রীরা চাইলেই নির্দিষ্ট লকারে ব্যাগ রেখে ঘুরে আসতে পারবেন পুরো শহর। এরই মধ্যে চলন্ত সিঁড়ির কাজ শেষ হয়েছে। শ্রমিকরা ব্যস্ত টাইলস পরিষ্কার, রং করাসহ শেষ মুহূর্তের কাজগুলো করতে। এছাড়া চলছে ফিনিশিং ও গাড়ি পার্কিংয়ে রং লাগানোর কাজ।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা বলেন, দিনের বেলা বাড়তি আলো ব্যবহার করতে হবে না এই স্টেশনে। ওপরের ছাদ খোলা থাকায় রয়েছে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। এর আধুনিক নির্মাণশৈলীর কারণেই বক্সবাজার রেলস্টেশনকে বলা হচ্ছে গ্রিন স্টেশন। স্টেশনের চারদিকে গ্লাস লাগানো হয়েছে। ফলে কোনো কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া ছাউনিটা পুরো কাঠামোটাকে ঢেকে রেখেছে। এতে সব সময় ভবনটি সহনীয় তাপমাত্রায় থাকবে। কুলিং লোড কম হবে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের লোডও কম হবে। ফলে প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে।
গেল কয়েকবছর ধরে বিশ্বমানের আইকনিক রেলস্টেশনের অ্যানিমেশন দেখেছে দেশবাসী। কিন্তু এখন সেই আইকনিক রেলস্টেশন পুরোপুরি দৃশ্যমান। গৌরবের এই অনন্য স্থাপত্যশৈলী মাথা তুলে জানান দিচ্ছে আধুনিক ও সক্ষম এক নতুন বাংলাদেশের। কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে নির্মাণ করা হয়েছে দেশের একমাত্র বিশ্বমানের দৃষ্টিনন্দন আইকনিক রেলস্টেশন। এটি শুধু স্টেশন নয়, পরিপূর্ণ একটি কমপ্লেক্স। রয়েছে তারকামানের হোটেল, লকার, শপিংমল, রেস্তোরাঁসহ বিশ্বমানের সব সুযোগ-সুবিধা। উদ্বোধনের অপেক্ষায় এখন চারপাশে চলছে রঙ তুলির শেষ আঁচড়।
আইকনিক রেলস্টেশনের সিনিয়র ইঞ্জিনিয়ার তাইজুল ইসলাম বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকরা বিশ্বমানের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবে এই আইকনিক রেলস্টেশনে। বিশেষ করে, আইকনিক স্টেশনে মালামাল রেখে সারাদিন সমুদ্রসৈকতসহ নানা পর্যটন স্পটগুলো পুনরায় রাতের ট্রেনে করে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবেন। কোনো ধরনের হোটেলের প্রয়োজন পড়বে না। সবকিছু বিবেচনা করেই নির্মিত হয়েছে এই বিশ্বমানের দৃষ্টিনন্দন এই আইকনিক রেলস্টেশনটি।
আর মাত্র কিছুদিন পরেই প্রধানমন্ত্রী আইকনিক রেলস্টেশনটি উদ্বোধন করবেন। তাই সবাই শেষ মুহূর্তে কাজ নিয়ে খুবই ব্যস্ত। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজগুলো অনেকটাই শেষ, যার কারণে চারদিকে চকচক করছে। এখন সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে। অনন্য স্থাপত্যশৈলীর কারণে দৃষ্টিনন্দন আইকনিক স্টেশন দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছে শত শত মানুষ, তুলছেন ছবিও। আবার অনেকেই ভিডিও করে তা আপলোড করছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তবে এসব মানুষকে সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে নিরাপত্তা প্রহরীরা। নিরাপত্তা প্রহরীদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঢুকে পড়ছে আইকনিক রেলস্টেশন ভবনের ভেতরে। অনেক সময় নিরাপত্তা প্রহরীর সঙ্গে তর্কতর্কিতেও জড়িয়ে পড়ছেন অনেকে।
তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন ও বিশ্বমানের আইকনিক স্টেশন পাল্টে দেবে অর্থনীতির অবস্থা। পর্যটন ব্যবসায়ীরা বলছেন, নভেম্বরে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইন। এরপরই হয়তো পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ট্রেন ছুটে আসবে। এতে সাশ্রয়ীমূল্যে পর্যটকরা ছুটে আসবে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে। এতে করে কক্সবাজারে দেশি-বিদেশি পর্যটকের আগমন বাড়বে। বিশেষ করে, আইকনিক স্টেশনটির কথা না বললেই নয়। আইকনিক রেলস্টেশনটি চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। আশা করি, অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে এই রেলপথ।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেল চালু হলে পর্যটকদের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি স্বল্প সময়ে ও কম খরচে কৃষিপণ্য, মাছ, লবণ পরিবহন করা যাবে। এতে কক্সবাজারের পর্যটনসহ অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। কক্সবাজারবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, এ রেলপথ এখন স্বপ্ন নয়-বাস্তব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় আগামী ১২ নভেম্বর রেল আসার অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন কক্সবাজারবাসী। সমুদ্র সৈকত থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে ঝিলংজা এলাকায় ২৯ একর জমিতে ২১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন স্টেশন।

Comments
No comments
Add a comment: