আজহারীর মাহফিল রেকর্ড করতে গিয়ে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার যমুনা টিভির সাংবাদিক

দীর্ঘ ৫ বছর পর শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) কক্সবাজারের পেকুয়া মাহফিলে যোগ দেন জনপ্রিয় ইসলামিক বক্তা মিজানুর রহমান আজহারী। সেদিন হেলিকপ্টার যোগে নির্দিষ্ট গন্তব্যে অবতরণ করেন আজহারী । পরে রাত ১০ টার কিছু সময় পূর্বে র্যাব,পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় গাড়ি যোগে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক মানুষের ভীড় পাড়ি দিয়ে মঞ্চে উঠতে গিয়ে কিছুটা বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। মূহুর্তে পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সেখানে নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের লাঠিচার্জের শিকার হন যমুনা টিভির কক্সবাজার প্রতিনিধি এহসান আল কুতুবী। মাথায় চরম আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন। পরে কয়েকজন মিলে তাকে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছেন দেন।
গতকাল মধ্য রাতে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে এসংক্রান্ত একটি আবেগঘন মূহুর্ত শেয়ার করেন। তিনি লিখেন, দূর্ঘটনা বা অসুস্থতা শিক্ষা ও পরিক্ষা। এটা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া বাঁচানোর কারো ক্ষমতা নেই। হয়তো কাউকে না কাউকে উসিলা করে দেন।

শুক্রবার বিকেলে পেকুয়ায় তাফসীরুল কোরআন মাহফিলের প্রধান বক্তা আজহারী হুজুরের নিউজ কাভার করতে যাই। অফিস থেকে একটা প্ল্যানও ঠিক করে দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী হুজুর মাহফিলে আসার আগেই আমার কিছু কাজ শেষ হয়। পরে হুজুর আসার খবর পেলাম রাত সাড়ে আটটায়। খবর পেয়ে স্টেজের কাছাকাছি দুই লাইন করে সবাই অপেক্ষা করলাম। আমার উদ্দেশ্য তিনি গাড়ি থেকে নামার আর স্টেজে উঠার দৃশ্যটা ধারণ করা। সে অনুযায়ী আমার সহকারী থেকে ক্যামেরা নিয়ে আমি সামনে 2469;াকায় নিজেই ভিডিও রেকর্ড করা শুরু করলাম। আধাঘন্টা পর ৯ টার দিকে হুজুর স্টেজের কাছাকাছি গাড়ি নিয়ে নিয়ে এগুচ্ছে। ঠিক এমন সময় হঠাৎ মানুষের ভিড় শুরু হয়। কোনোভাবেই ভিড় সামলানো যাচ্ছিলো না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী লাঠিচার্জ শুরু করে। আমি নির্দিষ্ট একটা পোশাক পড়া ছিলাম শুধুমাত্র এসব ঝামেলা থেকে নিজেকে সেইভ করার জন্য। কিন্তু, পুলিশ এমনভাবে লাঠিচার্জ শুরু করলো আমাকেও মাথায় আঘাত করলো। পুলিশের লাঠির আঘাতে যখন আমার মাথা ফেটে রক্ত বের হতে লাগলো তখন আমার সামনে হুজুরের গাড়ি। উনাকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে রেখেছে। আমিও এমন পরিস্থিতিতে ওই পুলিশ ভাইকে আর খুঁজে পাইনি। এমন পরিস্থিতিতে আমার কাছের মানুষগুলো আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলে মাহফিলের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে তাই তারা কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েকজনকে নিয়ে মাহফিল ত্যাগ করি। এ অবস্থায়ও কেউ পানি দিয়ে কেউ রক্ত মুছতে টিস্যু দিয়ে সহযোগিতা করছে (প্যান্ডেলের বাইরে)। কয়েকজন মিলে আগে পরে প্রটোকল দিয়ে হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।
ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয় খবর নিয়েছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করেন। আরো অনেকেই খবর নিয়েছেন, সমবেদনা জানিয়েছেন। আমার মাথায় দু'টি সেলাই হয়েছে। আঘাতটা তীব্র ছিলো কিন্তু, আল্লাহর হুকুমে বড় ধরনের কিছু হয়নি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে বেড রেস্টে আছি।
দীর্ঘ স্ট্যাটাস শেষে সবার কাছে দোয়া চান তিনি। ঘটনা জানাজানির পর অফিশিয়াল পোশাক থাকা সত্ত্বেও পুলিশের এমন আচরণের শিকার হওয়ায় সাংবাদিক মহলে জুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠে।

Comments
No comments
Add a comment: