'প্রতারণার ফাঁদে বন্দী' প্রতিপাদ্যে নারায়ণগঞ্জে বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস পালন

‘প্রতারণার ফাঁদে বন্দী’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জে র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানব পাচার বিরোধী দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) ব্র্যাক মাইগ্রেশনের অধীনে ‘ম্যাস ক্যাম্পেইন টু কমব্যাট হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড পিপল স্মাগলিং’ প্রকল্পের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর চাষাড়া, রাম বাবুর পুকুরপাড়ায় অবস্থিত ব্র্যাক রিজিওনাল অফিসে দিবসটি উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাকের ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর মো. সুমন চৌধুরী।
প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের (ধর্ম মন্ত্রণালয়) সহকারী প্রকল্প পরিচালক শ্যামল চক্রবর্তী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সোনারগাঁ উপজেলার কমিউনিটি মোবিলাইজার মো. আতিক হাসান। আলোচনা সভার শুরুতে দিবসটির প্রতিপাদ্য, মানব পাচারের বর্তমান পরিস্থিতি, অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন ব্র্যাক মাইগ্রেশনের ডিস্ট্রিক্ট কোঅর্ডিনেটর সাহিদা আক্তার।
তিনি মানব পাচারের বিভিন্ন কৌশল, পাচারকারীদের প্রতারণার ধরন এবং নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, বর্তমান সময়ে মানব পাচারের ধরন অনেকটাই ডিজিটাল রূপ নিয়েছে।
সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেটে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণ-তরুণীদের বিদেশে পাচার করছে। সেখানে নিয়ে তাদের জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হচ্ছে। এ ধরনের অনলাইন প্রতারণা ও স্ক্যামের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচারণা প্রয়োজন। মানব পাচার প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ সময়ের দাবি এবং এ ক্ষেত্রে ব্র্যাকের কার্যক্রম প্রশংসার দাবিদার। সভাপতির বক্তব্যে মো. সুমন চৌধুরী বলেন, মানব পাচার প্রতিরোধে শুধু আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যম ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।
নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের প্রতিনিধি রিক্তা সাহা বলেন, অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের গুরুত্ব তুলে ধরে নিয়মিত প্রচারণা চালানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
অনুষ্ঠানে সম্ভাব্য অভিবাসী, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সংবাদমাধ্যমকর্মী, এনজিও প্রতিনিধি, শিক্ষক, মানব পাচার থেকে ফিরে আসা সারভাইভার, কমিউনিটি লিডার এবং ব্র্যাকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, চাকরি বা বিদেশে পাঠানোর নামে কোনো প্রলোভনে বিভ্রান্ত না হয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের মাধ্যমে তথ্য যাচাই এবং বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশগমনের বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মানব পাচার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত উদ্যোগই সবচেয়ে কার্যকর বলে তারা মত দেন।

Comments
No comments
Add a comment: