"শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা"

আজকাল প্রায়শই শোনা যায় আত্মহত্যা, ডিপ্রেশন, একাকিত্ম ইত্যাদি কথা। শিক্ষার্থী মহলে এই কথা গুলো উতিব পরিচিত।
যে বয়সে দূরন্ত ছুটে চলবে মন,আনন্দে উদ্বেলিত থাকবে,খেলা ধুলার মাঝে আনন্দ খুজে পাবে, পড়াশোয় ব্যস্ত থাকবে সেই সময় এখন শোনা যায় হতাশার কথা। হতাশা একটি মনস্তাত্ত্বিক বিষয়। বর্তমান যুব সমাজ হতাশার মতো মনস্তাত্র্বক অসুখে ভুগছে। হতাশা অক্টোপাসের মতো আস্টেপিস্টে ধরছে যুবকদের। এটি ধীরে ধীরে এক প্রকার মহা/মারির মতো রুপ লাভ করছে, যদিও এটি বেশ সাধারন সমস্যা। যার ধরুন সমাজে বৃদ্ধি পাচ্ছে আত্ম/হত্যা,পরিবারে বাড়ছে অ/শান্তি, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোনিবেশ করতে পারছে,সারাক্ষণ দুচিন্তা,একাকিত্ব ইত্যাদি জটিল সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।
বিভিন্ন কারনে মানুষ হতাশার সাগরে নিমজ্জিত হয়। অনেক সময় বেকারত্বের কারণে মানুষ হতাশবোধ করে। অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে মানুষ হতাশ হয়। সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণেও অনেক সময় মানুষ হতাশ হয়ে পড়ে। লেখাপড়ায় অকার্যকারিতার জন্য মানুষ হতাশ হয়। কখনো কখনো একাকীত্বের কারণে মানুষ হতাশবোধ করে। অনুভূতি শেয়ার করার মতো কাউকে পায় না, পারিবারিক সাহায্য থাকে না, তখন হতাশ হয়ে যায়। সমস্যা সমাধানের দক্ষতা কম থাকলেও সমস্যার মধ্যে আটকে যায়, ঘুরপাক খেতে থাকে হতাশার ভেতর। কারো কারো চিন্তার মধ্যে ত্রুটি থাকে। কোনো কোনো ঘটনায় সে ব্যর্থ হলে, সে ভাবে সারা জীবন সে ব্যর্থ হবে। একবার একটি কাজ না পারলে দ্রুত উপসংহারে পৌঁছে যায়, ভাবে কিছু হবে না। এসব ভেবে হতাশ হয়। অনেকে তুচ্ছ ঘটনাকে বড় করে দেখে। মাদকসেবন! এছাড়াও এমন আরো অনেক কারনেই মানুষ হতাশায় নিপাতিত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে বিশ্বজুড়ে ৩৪ কোটি মানুষ হতাশায় ভুগছেন। হতাশার চূড়ান্ত পরিণতি আত্ম/হত্যা। হতাশা বর্তমান পারিপার্শ্বিক অবস্থান বিবিচনা করে যুবকদের মধ্যে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে। হতাশা কাটিয়া উঠা বা হতাশা থেকে মুক্তি লাভ করা মুটামুটি দীর্ঘ মেয়াদি প্রক্রিয়া। বাস্তবজীবনে আপনি হতাশা থেকে কাটিয়ে উঠতে চাইলে সবসময় পজিটিভ থাকুন। যা হচ্ছে তা মেনে নিন। আাশায় বাঁচুন। জীবনের পরিবর্তন গুলো মেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। কী কারণে আপনি হতাশ, তা খুঁজে বের করে সেই সমস্যাটি সমাধান করতে চেষ্টা করুন। সামাজিক সম্পর্কগুলো জোরদার হলে হতাশা কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটান। কাজের মধ্যো থাকুন। বই পড়ুন। আর কাছের মানুষ হতাশায় ভুগলে তার মন ভালো রাখতে চেষ্টা করুন। যেকোনো পরিস্থিতিতে তাকে সমর্থন করুন। নিজের সুন্দর ও ইতিবাচক দিকগুলো নিয়ে ভাবলে দেখবেন হতাশ লাগবে না।

Comments
No comments
Add a comment: