“শিক্ষকের এক বাক্যেই বদলে গেল ফায়সাল খানের জীবন” এখন সে অভিনেতা

শৈশব কেটেছে পড়াশোনার প্রতিযোগিতার ভিড়ে।
ছোটবেলা থেকেই সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ছিল ফায়সালের। কিন্তু স্কুলে যাওয়ার পর শিক্ষক শুভ্রতো স্যারের কথাতেই তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। স্যার মজা করে বলতেন—“তোমাকে তো নায়ক মানায়, সিনেমা বা মডেলিংয়ে যাওয়া উচিত।” পরবর্তীতে আরও শিক্ষক একই মন্তব্য করেন। তখন থেকেই অভিনয় আর নায়ক হওয়ার স্বপ্ন তাকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। পরিবার থেকে কোনো সহায়তা না পেলেও আশপাশের মানুষ, যারা তাকে টেলিভিশনের পর্দায় দেখতে চাইতেন, তারাই হয়ে ওঠেন বড় অনুপ্রেরণা। সেই উৎসাহ নিয়েই শুরু হয় অভিনয়ের যাত্রা।

প্রথম নাটক “মেয়েটির চোখে ছেলেটি ভালো না” দিয়ে ছোটপর্দায় অভিষেক ঘটে তার। পরিচালক মেহেদী হাসান জনি হঠাৎ করেই ফোন দিয়ে বলেন—“ফায়সাল খান, কাল তোমার শুটিং।” খবরটি শোনার পর আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি। সেই নাটকে দ্বিতীয় নায়ক ছিলেন তিনি , নায়িকা ছিলেন তানজিন তিশা, আর প্রথম নায়ক ছিলেন জনপ্রিয় অভিনেতা আফরান নিশো। তাই প্রথম কাজটি তার কাছে আজও ভীষণভাবে স্মরণীয়। অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসার কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন—“অভিনয় আমার কাছে একমাত্র জায়গা, যেখানে আমি নিজের লুকানো অনুভূতি প্রকাশ করতে পারি।”

শুধু অভিনয় নয়, ফিটনেস নিয়েও ভীষণ সচেতন তিনি। ছোটবেলা থেকেই শরীর ও মানসিক সুস্থতার জন্য নিয়মিত জিমকে জীবনের অংশ করেছেন। তার ভাষায়—“জিম আমার কাছে নেশার মতো। যত ব্যস্তই থাকি না কেন, জিম মিস করি না।” নতুন প্রজন্মকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন—“সুস্থ থাকতে ও আত্মবিশ্বাস বাড়াতে হলে জিমে যাওয়া উচিত। এতে খারাপ আসক্তি থেকেও দূরে থাকা যায়।” প্রেরণার জায়গায় ভারতীয় অভিনেতা সালমান খানকে তিনি নিজের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা মনে করেন। আর বাংলাদেশের মধ্যে নাটকে আফরান নিশো ও চলচ্চিত্রে শাকিব খান তাকে পথ দেখান। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল নায়ক হয়ে ওঠা। এখনো প্রতিযোগিতার ভিড়ে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। তবে দৃঢ় বিশ্বাস—একদিন নিজের জায়গা করে নিতে পারবেন।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন—“আমার কাছে অভিনয়ই মূল অগ্রাধিকার। তবে ফিট থাকা জরুরি। তাই অভিনয়কে মূল লক্ষ্য রেখে বাকি সবকিছু ব্যালেন্স করেই এগিয়ে যেতে চাই।”

Comments
Nice at All presentations
Going on.
Add a comment: