“শখ থেকে বিশ্বজয়: আন্তর্জাতিক ফটোগ্রাফার আরিফ চৌধুরীর সাফল্যের গল্প”

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল পড়াশোনার পাশাপাশি কর্মব্যস্ততায় থাকা, পরিবারকে সহায়তা করা এবং নিজের শখগুলো পূরণ করা—এভাবেই জীবনের পথচলা শুরু করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফটোগ্রাফার আরিফ চৌধুরী।
শখের বসেই ফটোগ্রাফিকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি, যা এখন তাঁর আয়ের উৎস এবং অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথম ক্যামেরা হাতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা মোটেও সহজ ছিল না। মানসম্মত ক্যামেরা ও অ্যাক্সেসরিজ কেনার সামর্থ্য শুরুতে না থাকলেও মায়ের অটুট সমর্থনে স্বপ্নের ডিভাইসগুলো কিনতে সক্ষম হন আরিফ। ২০১৬ সালে ভ্রমণের মাধ্যমে ছবি ও ভিডিও করার প্রতি গভীর আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। এরপর ২০২০ সাল থেকে ফ্যাশন ফটোগ্রাফি ও সিনেমাটোগ্রাফিতে পেশাদারভাবে কাজ শুরু করেন।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে আত্মবিশ্বাসের অভাব ও সামাজিক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মুখোমুখি হলেও হার মানেননি আরিফ। বরং নিরলস প্রচেষ্টা, মার্কেটিং ও কাজের মান দিয়ে নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেছেন। আজ যারা একসময় হাসিঠাট্টা করতেন, তারাই তাঁর প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে আগ্রহী। আরিফ চৌধুরীর ক্যামেরায় ধরা পড়া প্রতিটি কাজই সমান গুরুত্ব পায়।

তাঁর অর্জনের ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য সম্মাননা— ২০২১: বেস্ট ফটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড (Miss & Mr Glamour Look) ২০২২: বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড (Miss & Me Glamour Look) ২০২৩: বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড (Miss & Me Glamour Look) ২০২৪: বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড (Miss & Mr Beauty Plus, Miss & Mr Glamour Look) ২০২৫: বেস্ট সিনেমাটোগ্রাফার অ্যাওয়ার্ড (Excellent in Success Award, Miss & Mr Glamour Look) নিজস্ব চিন্তাধারা, অনন্য কনসেপ্ট ও উচ্চমানের ডিভাইস ব্যবহারের জন্য তাঁর ছবি ও ভিডিও আলাদা মাত্রা পায়।
নানা আবহাওয়া, আলো এবং মডেলের সঙ্গে প্রোডাক্টের রঙের সামঞ্জস্য রেখে শুটিং করা তাঁর কাছে চ্যালেঞ্জিং হলেও আনন্দের। নিজের সাফল্যের পেছনে সর্বোচ্চ কৃতিত্ব দেন তিনি তাঁর মা’কে, যিনি সব সময় পাশে থেকেছেন, নজরদারি করেছেন এবং প্রতিটি কাজে উৎসাহ যুগিয়েছেন। আরিফের ভাষায়— “আমি আজ যা হয়েছি, তা আমার মায়ের জন্য এবং আমার শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভালোবাসায়।”

Comments
No comments
Add a comment: