“মাটির নিচে সবাই এক”

“মাটির নিচে সবাই এক”
-নিলয় নীল
একটু গায়ের রঙ গাঢ় হলেই বদলে যায় সম্মান?
জন্ম কোথায়, কোন ভাষায় — এটাই কি পরিচয়?
তবে মনুষ্যত্ব কোথায় গেল, যা ছিল ভিতরে?
শুধু ভিন্ন বলেই কেউ কি কম?
তবুও, সমাজ তার কাঁধে তর্জনী তোলে— কেন?
ভাঙা ঘরে জন্মালে,
ভাতের অভাবে বেড়ে উঠলে—
তুই “ওরকম” একটা মানুষ।
সিল্কের বালিশে ঘুমোলেই শুধু
শিক্ষিত, ভদ্র, গ্রহণযোগ্য?
নামের শেষ অংশ শুনেই
তাকে বলে, “এ তো ওদের দল”।
একটা উচ্চারণেই বন্ধ হয় দরজা,
পেছনে পড়ে থাকে মেধা, মন, মর্যাদা।
একজন কালো,
তাই সে ভালো না—
এ কেমন বিচার?
কে মন্দিরে যায়,
কে মসজিদে—
এই প্রশ্নেই চিহ্নিত হয় ভালো-মন্দ!
কারো থালা আলাদা,
কারো ছুঁতে মানা—
কেন?
জন্ম দিয়েছিলে নাকি নিজে নিজের জাত?
একটা মেয়ে—
তাকে বলা হয়,
“তুমি এগুলো বোঝো না…”
কেন?
মাথা কি পুরুষে আলাদা দেয়?
কারো কণ্ঠস্বরে খোঁজা হয় জাত,
কারো পোশাকে ঠেকে “অযোগ্য” শব্দ।
আবার কেউ
বংশে নাম থাকায় হয় দেবতা,
তবু অন্যের কষ্ট দেখলে চোখ নামিয়ে নেয়।
পাঠশালায় এখনো কেউ কেউ
পেছনের বেঞ্চে বসে—
শুধু তার বাবার পেশা “নিচু” বলে।
আর এভাবে,
প্রতিদিন জন্ম হয়
নতুন এক ‘অমানুষের’ সমাজ।
শেষে সবাই মাটিতে মেশে,
সেইখানে কে তোর জাত দেখে?

Comments
No comments
Add a comment: