“এই মাটির কাছে জবাব চাই”

আজ আমি কথা বলি—
রক্তমাখা মাটির পক্ষে,
অপমানিত মানুষের পক্ষে,
প্রতারিত স্বপ্নের পক্ষে।
এই বাংলাদেশ—
১৯৭১-এর আগুনে গড়া এক স্বাধীন নাম,
লাখো শহীদের রক্তে লেখা এক মানচিত্র।
তবু প্রশ্ন জাগে—
স্বাধীনতার সুফল কি পৌঁছেছে
প্রান্তিক ঘরের শেষ মানুষটির কাছে?
ছাত্রের বুকের রক্ত শুকায়নি এখনো,
জনতার কণ্ঠ থেমে যায়নি পুরোপুরি,
তবু রাজনীতির মঞ্চে দেখি—
আদর্শ বিক্রি হয় টাকার দামে,
বিপ্লব বিক্রি হয় চেয়ারের বিনিময়ে।
যারা বলেছিল “পরিবর্তন”—
তাদের হাতেই দেখি পুরোনো চুক্তি,
টেন্ডারের টেবিলে নতুন ভাগাভাগি,
চাঁদাবাজির খাতায় নতুন স্বাক্ষর।
গণতন্ত্রের নামে
গণ-দুর্নীতি, গণ-প্রতারণা,
গণ-স্বার্থের আড়ালে ব্যক্তিস্বার্থের উৎসব।
জনগণ শুধু হাততালি দেয় না,
জনগণ আজ প্রশ্ন তোলে।
কেউ বলে— আমি এ দল,
কেউ বলে— আমি সে দল।
আমি বলি— আমি শুধু এ মাটির সন্তান।
আমার পরিচয় আমার পতাকা নয়,
আমার পরিচয় আমার বিবেক।
আমি চাই এমন শাসন—
যেখানে ন্যায় ভয়ে নয়,
ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হবে ন্যায়ের শক্তিতে।
যেখানে নেতা মানে প্রভু নয়,
নেতা মানে জনগণের জবাবদিহি।
আমি চাই এমন এক ভোর,
যেখানে বাকস্বাধীনতা ভয়ের নয়,
ভিন্নমত শত্রু নয়,
সমালোচনা অপরাধ নয়।
আমরা আর আশ্বাস চাই না—
আমরা ফল চাই।
আমরা স্লোগান চাই না—
আমরা সততা চাই।
এই পৃথিবী হয়তো স্বার্থপর,
ক্ষমতা হয়তো লোভী,
তবু মানুষ এখনো আশাবাদী—
কারণ আশা ছাড়া
মানুষ বাঁচতে জানে না।
যে-ই আসুক ক্ষমতায়,
এই মাটির ঋণ যেন ভুলে না যায়।
দুর্নীতিমুক্ত এক সকাল
হয়তো স্বপ্ন,
তবু স্বপ্ন দেখাই আমাদের প্রতিবাদ।
আজ আমি ক্ষুদ্র কণ্ঠে বলি—
হে দেশ, হে মানুষ,
নিজেদের বিক্রি কোরো না আর।
রক্তের দামে কেনা স্বাধীনতা
টাকার দামে তুলে দিও না।
আমরা চাই শান্তি—
ভয়হীন, দুর্নীতিহীন, ন্যায়ভিত্তিক এক দেশ।
যেখানে প্রতিটি মানুষ বলবে—
“এই দেশ আমার,
এই দেশ আমারই থাকবে।”

Comments
No comments
Add a comment: